ওসমানীনগরে অনুমতি নিয়ে প্রশ্নের মধ্যেই চক্ষু শিবির, সেবা পেলেন ৬০০ রোগী
ওসমানীনগর (সিলেট) প্রতিনিধি:
সিলেটের ওসমানীনগরে উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অবগত না থাকার মধ্যেই বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) উপজেলার ৪ নম্বর বুরুঙ্গা ইউনিয়নের নিজ বুরুঙ্গা বাজারে আয়োজিত এ শিবিরে প্রায় ৬০০ রোগী চিকিৎসাসেবা পেয়েছেন। তবে শিবির আয়োজনের অনুমোদন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
হিউম্যান রিলিফ ফাউন্ডেশন (এইচআরএফ) ও ইউনাইটেড এইড ট্রাস্টের সহযোগিতায় আয়োজিত এ শিবিরে বিনামূল্যে চোখ পরীক্ষা, ওষুধ ও চশমা বিতরণ করা হয়। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিবিরে ২৫৫ জনের চোখের পাওয়ার পরীক্ষা করা হয়, ২৩৭ জনকে চশমা এবং ৩৪৩ জনকে বিনামূল্যে ওষুধ দেওয়া হয়। এ ছাড়া ছানি অস্ত্রোপচারের জন্য ৪০ জন রোগীকে নির্বাচন করা হয়েছে। তাঁদের ওসমানীনগর বার্ড চক্ষু হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করা হবে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়। পাশাপাশি একজন রোগীর গ্রাফটিংয়ের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
অনুমোদন নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শিবির আয়োজনের বিষয়ে ওসমানীনগরের ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা অবগত নন বলে জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, আয়োজক হাফিজুর রহমানের দাবি, শিবির পরিচালনার অনুমতি চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছিল। তবে ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. মো. নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, এ কার্যক্রম আয়োজনের জন্য বার্ড চক্ষু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁর দপ্তর থেকে কোনো অনুমতি নেয়নি।
ফলে শিবির আয়োজনের আগে প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না এবং সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী সংগঠনের প্রতিনিধিরা
শিবিরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী ও ইউনাইটেড এইড ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ফয়জুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন সমাজসেবক আব্দুল মুকিত। এ ছাড়া যুক্তরাজ্য থেকে হিউম্যান রিলিফ ফাউন্ডেশনের একটি প্রতিনিধি দল, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও সমাজসেবীরা উপস্থিত ছিলেন।
সেবা পেয়ে সন্তুষ্ট রোগীরা, তদারকির দাবি
শিবিরে বিনামূল্যে চোখ পরীক্ষা, ওষুধ ও চশমা পেয়ে রোগীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে আর্থিকভাবে অসচ্ছল রোগীদের জন্য এ উদ্যোগ উপকারী হয়েছে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
তবে ছানি অস্ত্রোপচারের মতো গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা কার্যক্রমের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমোদন, স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয়, চিকিৎসাসেবার মান এবং রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।
জনসেবামূলক চিকিৎসা কার্যক্রমের সুফল নিশ্চিত করতে রোগীদের নিরাপত্তা, চিকিৎসার মান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।