logo
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
রাজনীতি ৩১ আগস্ট ২০২৬ ১০:৪২ অপরাহ্ন চ্যানেল জৈন্তা নিউজ

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী মঙ্গলবার, আলোচনায় জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ৩১ আগস্ট ২০২৬ ১০:৪২ অপরাহ্ন রাজনীতি
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ৩১ আগস্ট ২০২৬ ১০:৪২ অপরাহ্ন
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী মঙ্গলবার, আলোচনায় জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা

ঢাকা, ৩১ আগস্ট ২০২৬ (বাসস): বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মঙ্গলবার তাদের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করতে যাচ্ছে। এ উপলক্ষে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ঘোষিত ঐতিহাসিক ১৯ দফা কর্মসূচি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।


১৯৭৮ সালে বিএনপির আত্মপ্রকাশের সময় ঘোষিত ১৯ দফা কর্মসূচি প্রায় অর্ধশতাব্দী পেরিয়েও দলটির রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক নীতি-কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও দলের প্রবীণ নেতাদের মতে, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলালেও ১৯ দফায় উত্থাপিত আত্মনির্ভরতা, গ্রামীণ উন্নয়ন, জনগণের অংশগ্রহণ ও জাতীয় ঐক্যের মতো বিষয়গুলোর প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে।


রাজনৈতিক নথি অনুযায়ী, ১৯ দফার প্রথম দফায় যেকোনো মূল্যে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার কথা বলা হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় জাতীয় জীবনের সব ক্ষেত্রে সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস, গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ এবং সমাজতন্ত্র—এই চারটি সাংবিধানিক মূলনীতির কথা উল্লেখ করা হয়। এখানে সমাজতন্ত্র বলতে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারকে বোঝানো হয়েছে।


তৃতীয় ও চতুর্থ দফায় প্রশাসনের সব স্তর এবং উন্নয়ন কর্মসূচিতে আত্মনির্ভরতা ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ধর্ম, বর্ণ ও মতাদর্শ নির্বিশেষে সব নাগরিকের অধিকার সংরক্ষণ এবং জাতীয় ঐক্য ও সংহতি জোরদারের বিষয়টিও ১৯ দফায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।


কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের কৃষির উন্নয়ন এবং বন্যা ও খরার ক্ষয়ক্ষতি কমাতে নিম্নভূমির বদ্বীপাঞ্চলে কার্যকর পানি ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তার কথাও এতে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করা এবং শিল্প খাতে উৎপাদন সর্বাধিক করার লক্ষ্যে শিল্প উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।


১৯ দফায় জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পেয়েছে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার নিশ্চয়তার পাশাপাশি দেশকে নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।


গ্রামীণ উন্নয়নকে ১৯ দফার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নগর ও গ্রামের মধ্যকার বৈষম্য দূর করা, গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশ এবং প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পরিবার পরিকল্পনা ও প্রজননস্বাস্থ্য কর্মসূচির মাধ্যমে জনসংখ্যা স্থিতিশীল করার কথাও এতে বলা হয়েছে।


পরবর্তী দফাগুলোতে দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপ, মানবসম্পদ উন্নয়ন, শ্রমিকের অধিকার, সিভিল সার্ভিস সংস্কার, ভূমি সংস্কার, বেসরকারি খাতে প্রণোদনা এবং যুবসমাজের ক্ষমতায়নের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।


নারীর অধিকার সমুন্নত রাখা, জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় নারীদের সম্পৃক্ত করা এবং তাদের মর্যাদা ও আর্থসামাজিক কল্যাণ নিশ্চিত করার ওপরও ১৯ দফায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।


আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সমতা, সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা এবং অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির ভিত্তিতে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের বিষয়টিও ১৯ দফায় স্থান পেয়েছে।


রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর জিয়াউর রহমান তাঁর সরকারের আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক মূলনীতি এবং দিকনির্দেশক কর্মসূচি হিসেবে ১৯ দফা আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেন। এর আগে ১৯৭৭ সালের ৩০ এপ্রিল তিনি ঐতিহাসিক ১৯ দফা ঘোষণা করেন।


দীর্ঘ রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার পর বিএনপি আবার ক্ষমতায় ফিরে এসে দেশের অগ্রগতি ও উন্নয়নে ঐতিহাসিক ১৯ দফার একই ভিশন অনুসরণ করছে বলে দলটির নেতারা মনে করছেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে সামনে রেখে তাই দলটির রাজনৈতিক ইতিহাস ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থার আলোচনায় ১৯ দফা আবারও গুরুত্ব পাচ্ছে।

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ · https://channeljaintanews24.com/top-news/17345
Page of