logo
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
সিলেট ২৭ আগস্ট ২০২৬ ১১:২৫ অপরাহ্ন চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
রিফাত হত্যা ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ, কঠোর হওয়ার নির্দেশ বাণিজ্যমন্ত্রীর

সিলেটে কিশোর গ্যাংয়ের দাপট, তালিকায় ১৫ সক্রিয় গ্রুপ

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ২৭ আগস্ট ২০২৬ ১১:২৫ অপরাহ্ন সিলেট
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ২৭ আগস্ট ২০২৬ ১১:২৫ অপরাহ্ন
সিলেটে কিশোর গ্যাংয়ের দাপট, তালিকায় ১৫ সক্রিয় গ্রুপ

অনলাইন ডেস্ক :

সিলেট নগরীতে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি নগরীর কাজিরবাজার সেতুতে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে ১৫ বছর বয়সী কিশোর রিফাত আহমদ হত্যাকাণ্ডের পর কিশোর অপরাধের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। এরই মধ্যে পুলিশ সদর দপ্তরের তালিকায় সিলেটে ১৫টি কিশোর গ্যাং সক্রিয় থাকার তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।


গত ২৭ জুলাই সন্ধ্যায় দক্ষিণ সুরমার একটি ইনডোর স্টেডিয়ামে ফুটবল খেলা শেষে সহপাঠীদের সঙ্গে বাড়ি ফেরার পথে নগরীর কাজিরবাজার সেলফি ব্রিজের দক্ষিণ প্রান্তে হামলার শিকার হয় রিফাত আহমদ। ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন কিশোর আহত হয়। রিফাত নগরীর খাসদবির এলাকার বাসিন্দা ও দ্বীপশিখা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।


রিফাত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছে। ঘটনাটি নগরীতে কিশোরদের সংঘবদ্ধ অপরাধ ও সহিংসতার বিষয়টি নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।


সিলেটে ১৫ কিশোর গ্যাং


পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকার বাইরে দেশের বিভিন্ন মহানগর ও জেলায় ২২৭টি কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। এসব গ্রুপের সদস্য সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৫৫০ বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তালিকায় সিলেটে সক্রিয় কিশোর গ্যাংয়ের সংখ্যা ১৫টি। চট্টগ্রাম মহানগরে ৯৮টি, খুলনায় ৭টি, রাজশাহীতে ১৩টি এবং গাজীপুরে ১৩টি গ্রুপ রয়েছে। জেলা পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি কিশোর গ্যাং রয়েছে নোয়াখালীতে—২৫টি।


এ ছাড়া ঢাকা মহানগর পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে কিশোর গ্যাংয়ের ১৫৯টি গ্রুপ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


মাদক-জুয়া-কিশোর গ্যাং দেখতে চান না বাণিজ্যমন্ত্রী


সিলেটে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বন্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।


গত ২২ আগস্ট সিলেট পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে নবাগত পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সিলেটে মাদকের আনাগোনা, অনলাইন জুয়া কিংবা কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা দেখতে চান না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী দেখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।


কেন বাড়ছে কিশোর অপরাধ


পুলিশ ও অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, কিশোর গ্যাং গড়ে ওঠার পেছনে পারিবারিক ও সামাজিক নানা কারণ রয়েছে। অভিভাবকের পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব, প্রযুক্তির অপব্যবহার, অসৎ সঙ্গ, মূল্যবোধের ঘাটতি, বাহাদুরি দেখানোর প্রবণতা, সুস্থ বিনোদনের সুযোগের অভাব এবং হতাশা কিশোরদের অপরাধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।


পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা চাঁদাবাজি ও মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। তাদের মধ্যে এক ধরনের ‘হিরোইজম’ বা বাহাদুরি দেখানোর প্রবণতা কাজ করে। আর্থিক সংশ্লিষ্টতার কারণে তারা সহজেই সংঘাত ও সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ে।


তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বেড়েছিল। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে অনেককে আইনের আওতায় আনা হয়েছে এবং মামলা হয়েছে। পুলিশের তৎপরতায় পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে কিশোরদের রাজনৈতিকভাবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার বা কোনো ধরনের পৃষ্ঠপোষকতা না করার বিষয়টি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।


আইনশৃঙ্খলার পাশাপাশি সামাজিক উদ্যোগ জরুরি


কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পরিবারের নজরদারি বাড়ানো, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈতিক শিক্ষা জোরদার, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ বৃদ্ধি এবং কিশোরদের ইতিবাচক সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।


পুলিশ সদর দপ্তর থেকেও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কিশোরদের বিপথগামিতা ঠেকাতে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।


রিফাত আহমদ হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা সিলেট নগরীতে কিশোর অপরাধের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, অপরাধে জড়িয়ে পড়ার আগেই কিশোরদের চিহ্নিত করে পরিবার, সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা জরুরি।

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ · https://channeljaintanews24.com/top-news/17256
Page of