৩৪৯০ কোটি টাকার হাওর উড়ালসড়কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন
জামালগঞ্জ (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি।
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এগিয়ে নিতে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল। তিনি বলেছেন, পরিকল্পিত ও টেকসই সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে হাওরবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমানোর পাশাপাশি কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা ও জনসেবায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বেলা ১১টায় সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনা বাজার ইউনিয়নের কুকড়াপশী গ্রামের মসজিদের পাশে ‘হাওর এলাকায় উড়ালসড়ক ও ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (HAERPIIP)’-এর আওতায় উড়ালসড়কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে তিনি এসব কথা বলেন। পরে সাচনাবাজার উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল।
কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, হাওরাঞ্চলের মানুষের জন্য যোগাযোগব্যবস্থা এখনো বড় একটি চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পানি ও প্রতিকূল পরিবেশের কারণে স্বাভাবিক যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হয়। উড়ালসড়কসহ টেকসই অবকাঠামো গড়ে উঠলে মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগ কমবে। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য দ্রুত পরিবহন ও বাজারজাতকরণ, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা গ্রহণ এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে।
তিনি বলেন, হাওরবাসীর জীবনমান উন্নয়নে যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে জামালগঞ্জের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার একটি বড় অংশ পূরণ হবে। প্রকল্পের কাজ যথাযথ মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ে শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, ‘হাওর এলাকায় উড়ালসড়ক ও ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্পে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে প্রায় ৩ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় জামালগঞ্জ-ধর্মপাশা এলাকায় প্রায় ২৮ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১০ দশমিক ৮১ কিলোমিটার হবে উড়ালসড়ক।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, সড়কটি জামালগঞ্জের সাচনা-কাজীরগাঁও, ধর্মপাশার জয়শ্রী, ধর্মপাশা বাজার ও আলেকদিয়া হয়ে নেত্রকোনার বারহাট্টার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করবে। ২৮ কিলোমিটারের মূল সড়কের মধ্যে ১০ দশমিক ৮১ কিলোমিটার উড়ালসড়ক এবং বাকি অংশ সব মৌসুমে চলাচল উপযোগী সড়ক হিসেবে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া প্রকল্পের আওতায় নেত্রকোনা-জামালগঞ্জ (সাচনা)-সুনামগঞ্জ সড়কের জামালগঞ্জ অংশ এবং গোলকপুর জিসি-সাচনা জিসি সড়কের উন্নয়ন ও পুনর্নির্মাণের কাজ করা হবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বর্ষাকালে হাওরাঞ্চলের মানুষের চলাচল সহজ হওয়ার পাশাপাশি কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারজাতকরণ, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা গ্রহণ এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সাচনাবাজার উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিল্পী রানী মোদক। জামালগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আজিজুর রহমান আজিজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রকল্প পরিচালক (HAERPIIP) ফেরদৌস আহমেদ, এলজিইডি সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক ও সাবেক তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আনিসুল হক এবং জামালগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ মো. শফিকুর রহমান।
এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সরকারি কর্মকর্তা, প্রকৌশলী, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।