logo
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
জাতীয় ০৪ জুলাই ২০২৬ ০২:২৭ পূর্বাহ্ন চ্যানেল জৈন্তা নিউজ

স্বাধীনতার পর সবচেয়ে জনকল্যাণমুখী বাজেট: চীফ হুইপ

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ০৪ জুলাই ২০২৬ ০২:২৭ পূর্বাহ্ন জাতীয়
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ০৪ জুলাই ২০২৬ ০২:২৭ পূর্বাহ্ন
স্বাধীনতার পর সবচেয়ে জনকল্যাণমুখী বাজেট: চীফ হুইপ

ঢাকা: বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেছেন, বর্তমান সরকারের প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট দেশের সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও ভাগ্য পরিবর্তনের এক অনন্য দলিল। তাঁর দাবি, স্বাধীনতার পর এত জনকল্যাণমুখী ও জীবনঘনিষ্ঠ বাজেট আর কখনও প্রণীত হয়নি।


বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের এলডি হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুও উপস্থিত ছিলেন।


চীফ হুইপ বলেন, এ বাজেট জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখার লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এই বাজেটকে মানুষের বাজেট, জনবান্ধব বাজেট এবং জনগণের জীবন ও জীবিকা সুরক্ষার বাজেট হিসেবে অভিহিত করেছেন।


বাজেটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে নূরুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকার উত্তরাধিকারসূত্রে একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছে। অতীতে একদিনে ডলারের দাম ৭ টাকা বৃদ্ধি, কয়েকটি ব্যাংকের সংকট এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের বিপুল অঙ্কের আর্থিক সহায়তা অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলেছে। অতীতের আর্থিক অনিয়ম ও মেগা প্রকল্পকেন্দ্রিক দুর্নীতির প্রভাব এখনও অর্থনীতিতে রয়ে গেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।


তিনি বলেন, সরকার তাই শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, দীর্ঘমেয়াদি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে গুরুত্ব দিচ্ছে। পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্পের মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে কৃষিতে পানির নিশ্চয়তা এবং দেশের পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষায়, এগুলো প্রদর্শনমূলক নয়, মানুষের প্রয়োজন পূরণের প্রকল্প।


চীফ হুইপ জানান, বাজেটে ২৫ কোটি গাছ রোপণ, ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখনন, কৃষক কার্ড, পরিবার কার্ড, নারীদের জন্য বিশেষ কার্ড, প্রবাসী সেবা এবং স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হলো মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং স্বাবলম্বিতা বৃদ্ধি।


সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম বিরোধী দল বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় আগাম অংশগ্রহণ করেছে। বিরোধী দলের জন্য ২৬ শতাংশ সময় বরাদ্দ থাকলেও তা বাড়িয়ে প্রায় ৩১ শতাংশ সময় বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।


তিনি আরও বলেন, বিরোধী দলীয় নেতার অনুরোধে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে সাইকেলের ওপর প্রস্তাবিত কর প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন, যা সরকার ও বিরোধী দলের গঠনমূলক সহযোগিতার একটি উদাহরণ।


দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে নূরুল ইসলাম বলেন, প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের ৬৩টি আইটেমে কোনো কর বৃদ্ধি করা হয়নি। পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৫০ লাখ পরিবারকে 'ফ্যামিলি কার্ড' দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে বিশেষ করে মায়েদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।


জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং আহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্ম সাহসী, দেশপ্রেমিক এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে চীফ হুইপ বলেন, যেকোনো ধরনের সংস্কার কার্যকর করতে হলে সংবিধান সংশোধনের বিকল্প নেই। জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে এ সংশোধনী আনা সম্ভব হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


সংবাদ সম্মেলনের শেষে তিনি গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী বাজেট বাস্তবায়নে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ · https://channeljaintanews24.com/top-news/16286
Page of