জৈন্তাপুরে দেবোত্তর সম্পত্তি নিয়ে সংঘর্ষের অভিযোগ, হামলায় একই পরিবারের ৫ জন আহত
জৈন্তাপুর প্রতিনিধি: সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট ইউনিয়নের পূর্ব লক্ষীপ্রসাদ গ্রামে দেবোত্তর সম্পত্তির সীমানা নির্ধারণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিরোধের জেরে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় একই পরিবারের পাঁচজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহত মোহিত লাল দাশ (বকুল) জৈন্তাপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে মিনাল দাস নামে একজনকে আটক করেছে।
আহতরা হলেন—পূর্ব লক্ষীপ্রসাদ গ্রামের শ্রী শ্রী জগন্নাথ জিউর আখড়ার সেবায়েত মৃত মতি লাল দাশের ছেলে মোহিত লাল দাশ (বকুল) (৫৬), তাঁর ছোট ভাই সঞ্জিত দাস (৪০), ছেলে কলেজছাত্র শুভ দাস (২০), জৈন্তাপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী দ্রুব দাস (১৩) এবং স্ত্রী দীপালী রানী দাস (৪৫)।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব লক্ষীপ্রসাদ গ্রামের শ্রী শ্রী জগন্নাথ জিউর আখড়ার দেবোত্তর সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। স্থানীয়ভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইন্তাজ আলীর উদ্যোগে একাধিক সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ ২৮ জুনের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২ জুলাই সার্ভেয়ার দিয়ে জমির সীমানা নির্ধারণের কাজ শুরু হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ইউপি সদস্য মাসুক আহমদ, দিগেন্দ্র কুমার দেব (ফটিক), সুঞ্জিত মোহন ধরসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে জরিপের কাজ চলাকালে প্রতিপক্ষ সীমানা পিলার স্থাপনে বাধা দেয়। একপর্যায়ে সরদিন্দু দাশ পুরকায়স্থ (শ্যামল)-এর নির্দেশে মিদুল দাস, মিসুক দাস, মিনাল দাস, নিশিকান্ত দাস, বিরেশ কান্ত দাস, বিজয় কান্ত দাসসহ আরও ১০-১২ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে মোহিত লাল দাশ ও সঞ্জিত দাস গুরুতর আহত হন। তাদের উদ্ধার করতে গেলে পরিবারের অন্য সদস্যরাও হামলার শিকার হন।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক মোহিত লাল দাশ, সঞ্জিত দাস, শুভ দাস ও দ্রুব দাসকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তারা বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত মোহিত লাল দাশ (বকুল) দাবি করেন, তাঁদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে শ্রী শ্রী জগন্নাথ জিউর আখড়ার সেবায়েত হিসেবে দেবোত্তর সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণ করে আসছে এবং ওই জমিতে বসতবাড়ি নির্মাণ করে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছে। তাঁর অভিযোগ, ২০০০ সাল থেকে সরদিন্দু দাশ পুরকায়স্থ (শ্যামল) ও তাঁর সহযোগীরা কথিত কমিটির নাম ব্যবহার করে দেবোত্তর সম্পত্তি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন।
তবে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য এ প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি।
জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান মোল্লা বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং একজনকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।