বিভ্রান্তি ছড়ালে উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হবে—শ্রীমঙ্গলে ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:
জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চাওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, একদল লোক দেশে অশান্তি সৃষ্টি করতে চায় এবং তারা সুযোগ পেলে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডসহ চলমান জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ব্যাহত করবে।
বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের তৃতীয় ধাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হতে পারবে না এবং গণতন্ত্রকে কেউ নষ্ট করতে পারবে না। স্বাধীনতার আগে ও পরে গণতন্ত্রবিরোধী শক্তিগুলো সবসময় সক্রিয় ছিল, তবে বিএনপি সবসময় জনগণের পাশে থেকেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়নই বিএনপির রাজনীতি। বাজেটে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, শিক্ষা ও খেলাধুলা খাতসহ বিভিন্ন খাতে অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যেসব বাজেট জনগণের কল্যাণে তৈরি করা হয়, তা নিয়েও কেউ কেউ বিভ্রান্তি ছড়ায়। কিন্তু জনগণের স্বার্থে নেওয়া এসব উদ্যোগকে কোনোভাবেই গণবিরোধী বলা যায় না।
তারেক রহমান বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের অর্থ নিয়ে কেউ কেউ প্রশ্ন তুললেও এগুলো জনগণের অর্থ, যা জনগণের কল্যাণেই ব্যয় করা হবে। অতীতে একটি দল জনগণের টাকা বিদেশে পাচার করেছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন এবং এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি জানান, নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চা শ্রমিকদের ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং আগামী এক বছরের মধ্যে চা বাগানের সকল নারী শ্রমিককে এই সুবিধার আওতায় আনা হবে।
এছাড়া অনুষ্ঠানে চা শ্রমিকদের জন্য আবাসন নির্মাণে ৫০ জনকে ২ লাখ টাকা করে সহায়তা এবং প্রায় ১৫০ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান করা হয়।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এক মাসের কম সময়ের মধ্যেই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু করা হয়েছে এবং সরকারের লক্ষ্য জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন করা।
বক্তব্যের শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান “করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ” স্লোগান দিয়ে বক্তব্য শেষ করেন।