গ্রামবাসীর ৬০ লাখ টাকায় নির্মিত ৪ কিলোমিটার সড়ক, বছরে কোটি টাকার ফসল পরিবহন
স্টাফ রিপোর্টার:
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ৪নং লেঙ্গুরা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের সতী গ্রামে গ্রামবাসীর নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত হয়েছে প্রায় ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। প্রায় ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সড়ক এখন কয়েকটি গ্রামের কৃষকদের জন্য আশীর্বাদে পরিণত হয়েছে। প্রতিবছর এ সড়ক ব্যবহার করে প্রায় ৪ থেকে ৫ কোটি টাকার কৃষিপণ্য পরিবহন করা হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, ২০২৪ সালে সতী গ্রামের বাসিন্দারা নিজস্ব অর্থায়ন ও স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে সতী বিটির তল এলাকা থেকে দক্ষিণ দিকের হাওর পর্যন্ত রাস্তার নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেন। সড়কটির একটি ব্রিজ নির্মাণে ব্যয় হয় প্রায় ১৫ লাখ টাকা এবং রাস্তার কাজে ব্যয় হয় আরও প্রায় ৪৫ লাখ টাকা।
এলাকাবাসী জানান, এই সড়ক দিয়ে ধানসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য সহজেই কৃষকের বাড়িতে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে। আগে যেখানে ফসল পরিবহনে সময় ও অতিরিক্ত খরচ লাগত, এখন তা অনেকটাই কমে এসেছে। সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছেন সতী গ্রামসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের কৃষকরা।
তবে হাওরাঞ্চল হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি ও কাদায় রাস্তার বিভিন্ন স্থানে গর্ত সৃষ্টি হয়। এতে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং চরম দুর্ভোগে পড়েন স্থানীয়রা। এ কারণে ২০২৫ সালে রাস্তা মেরামতে প্রায় ২ লাখ টাকা এবং ২০২৬ সালে সংস্কার কাজে আরও প্রায় ৫ লাখ টাকা ব্যয় করেন গ্রামবাসী।
শনিবার (০৯ মে) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শতাধিক গ্রামবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তার সংস্কার কাজে অংশ নিয়েছেন। কেউ মাটি কাটছেন, কেউ রাস্তা সমান করছেন, আবার কেউ শ্রমিকদের সহযোগিতা করছেন। গ্রামের উন্নয়নে এমন স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এলাকাজুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে।
এলাকাবাসীর একটাই দাবি—যে সড়ক দিয়ে প্রতিবছর কোটি টাকার কৃষিপণ্য পরিবহন হয়, কৃষকের ভোগান্তি কমাতে সেই সড়ক দ্রুত পাকাকরণ করা হোক। তাদের মতে, সরকারি বরাদ্দ ও টেকসই উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সড়কটি পাকা করা হলে পুরো এলাকার কৃষি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
এ সময় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, সমাজসেবক, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, তরুণ স্বেচ্ছাসেবক, কৃষক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। তারা সবাই একসঙ্গে রাস্তা সংস্কার কাজে অংশ নিয়ে গ্রামের উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
স্থানীয়রা জানান, সরকারি সহযোগিতা পেলে সড়কটি পাকাকরণ করা সম্ভব হবে। এতে হাওরাঞ্চলের কয়েকটি গ্রামের হাজারো কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন। পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহনে খরচ কমবে এবং এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় স্থায়ী উন্নয়ন হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।