logo
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
হবিগঞ্জ ০৪ মে ২০২৬ ০২:৩৮ অপরাহ্ন চ্যানেল জৈন্তা নিউজ

মাধবপুরে পাটের বাম্পার ফলন: কৃষকের মুখে হাসি, বাড়ছে আবাদ ও আশার আলো

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ০৪ মে ২০২৬ ০২:৩৮ অপরাহ্ন হবিগঞ্জ
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ০৪ মে ২০২৬ ০২:৩৮ অপরাহ্ন
মাধবপুরে পাটের বাম্পার ফলন: কৃষকের মুখে হাসি, বাড়ছে আবাদ ও আশার আলো

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ছাতিয়াইন, জগদীশপুর, বহরা, ধর্মঘর, নোয়াপাড়া, বাঘাসুরা ও বুল্লা ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় এ বছর দোআঁশ পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো বৃষ্টি এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শে ভালো ফলন হওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে আশানুরূপ উৎপাদনের আশা করছেন তারা।


উপজেলার মাঠজুড়ে সবুজ পাটগাছের সমারোহ এখন কৃষকদের নতুন আশার প্রতীক। আগের বছরের তুলনায় এ বছর বেশি জমিতে পাট আবাদ করেছেন কৃষকরা। ফলে ভালো ফলনের পাশাপাশি তাদের মধ্যে আশাবাদও বেড়েছে।


উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মাধবপুরে ৩৬০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ১০ হেক্টর বেশি। লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে আবাদ হওয়ায় উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি, উন্নতমানের বীজ এবং মাঠপর্যায়ে কৃষি অফিসের নিয়মিত মনিটরিং ও পরামর্শে এ সাফল্য এসেছে।


বুল্লা ইউনিয়নের কৃষক বাছির মিয়া মোল্লা বলেন, “এবার পাটের ফলন অনেক ভালো হয়েছে। সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় গাছের বৃদ্ধি ভালো হয়েছে। খরচও কম হয়েছে। এখন বাজারে ভালো দাম পেলেই আমরা লাভবান হবো।”


ছাতিয়াইন ইউনিয়নের শিমূলঘর গ্রামের কৃষক করিম মিয়া জানান, ধানের তুলনায় এবার পাটে লাভের সম্ভাবনা বেশি। রোগবালাই কম থাকায় অতিরিক্ত ওষুধ ব্যবহার করতে হয়নি। ফলে আগামী বছর আরও বেশি জমিতে পাট চাষের পরিকল্পনা রয়েছে। ভালো ফলন হলে প্রতি বিঘায় পাঁচ থেকে ছয় মন পাট পাওয়া যায় এবং বাজারে প্রতি মণে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি সম্ভব।


মাধবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজিব সরকার বলেন, “পাট বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। এ বছর অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষকদের আগ্রহ বৃদ্ধির কারণে বাম্পার ফলন হয়েছে। ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে পাট চাষ আরও বৃদ্ধি পাবে।”


স্থানীয় পাট ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে পাটের দাম এখনও পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি। তবে ভালো মানের পাট হলে কৃষকরা ভালো দাম পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।


উপজেলা কৃষি বিপণন দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, কৃষকদের উৎপাদিত পাটের সঠিক বাজারসংযোগ নিশ্চিত করতে কাজ চলছে। মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমিয়ে সরাসরি বিক্রির সুযোগ বাড়ানো গেলে কৃষকরা আরও বেশি লাভবান হবেন।


স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে কৃষকদের আগ্রহ আরও বাড়বে এবং দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পরিবেশবান্ধব ফসল হিসেবে পাটের চাহিদা বাড়ায় এ খাতের সম্ভাবনাও দিন দিন উজ্জ্বল হচ্ছে।

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ · https://channeljaintanews24.com/top-news/15163
Page of