logo
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
সিলেট ০২ মে ২০২৬ ১০:৫৪ অপরাহ্ন চ্যানেল জৈন্তা নিউজ

বিশ্বনাথে ঘর পোড়ানোর মামলায় তদন্তে ধীরগতি, বাদীর অভিযোগ পুলিশি হয়রানি ও হুমকি

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ০২ মে ২০২৬ ১০:৫৪ অপরাহ্ন সিলেট
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ০২ মে ২০২৬ ১০:৫৪ অপরাহ্ন
বিশ্বনাথে ঘর পোড়ানোর মামলায় তদন্তে ধীরগতি, বাদীর অভিযোগ পুলিশি হয়রানি ও হুমকি

নিজস্ব প্রতিবেদক। 

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার সিংগেরকাছ ইউনিয়নের উত্তর সিংরাওয়ালী গ্রামে ঘর পোড়ানোর ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তে ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে মামলাটি ভিন্নখাতে নিতে বাদীকে পুলিশি হয়রানি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ফয়জুল ইসলাম।


ভুক্তভোগী ফয়জুল ইসলাম মৃত রহমত আলীর ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে জীবিকার তাগিদে ঢাকায় অবস্থান করছেন। পরিবারের সদস্যদেরও নিরাপত্তার কারণে গ্রামের বাড়িতে না রেখে সিলেট শহরে শ্বশুরবাড়িতে রাখেন বলে জানান।


অভিযোগে বলা হয়, গত ৬ নভেম্বর ২০২৫ রাতে মাকে দেখতে গ্রামের বাড়িতে গেলে রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটের দিকে ঘুম থেকে উঠে দেখেন, বসতঘরের পাশে কাঠ ও অন্যান্য মালামাল রাখা একটি ঘরে আগুন জ্বলছে। এ সময় কাওসার, শামছুদ্দিনসহ কয়েকজনকে দৌড়ে পালিয়ে যেতে দেখেছেন বলে দাবি করেন তিনি। পরে পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এতে প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি।


ঘটনার পরদিন বিশ্বনাথ থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও চার দিনেও পুলিশ ঘটনাস্থলে না যাওয়ায় ১১ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে ফয়জুল ইসলাম আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর ১০/২৫। আদালত স্থানীয় থানাকে সরেজমিন তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়।


তবে অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়নি। এতে মামলার আসামিদের তলব প্রক্রিয়াও বিলম্বিত হচ্ছে বলে জানা গেছে।


ফয়জুল ইসলাম আরও দাবি করেন, এর আগেও ১১ মে ২০২৫ এবং ১৩ নভেম্বর ২০১৪ সালে তার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও গরু-ছাগলসহ স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনা ঘটেছিল। সে সময় মামলা নিতে পুলিশ অপারগতা প্রকাশ করেছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।


বাদীর ভাষ্য, আদালতে মামলা দায়েরের পর থেকে তদন্ত কর্মকর্তা তাকে নানা ভাবে হয়রানি করছেন। এক সাক্ষীর সঙ্গে যোগাযোগ করলেও অন্য সাক্ষীদের বক্তব্য নেননি। এমনকি থানায় ডেকে টাকা দাবি ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।


এ বিষয়ে প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা জানান, সাক্ষীদের থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে এবং বাদীর স্বাক্ষর প্রয়োজন রয়েছে।


মামলার সাক্ষী ইনতাজ আলী বলেন, “এ বিষয়ে পুলিশ আমার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেনি।”


অভিযুক্তদের একজন বলেন, “ফয়জুলের বাড়িতে এ নিয়ে তিনবার ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। তবে কারা করেছে, তা বলতে পারছি না।”


বাদীর অভিযোগ, মামলাটি ধামাচাপা দিতে তাকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বিশ্বনাথ থানার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ · https://channeljaintanews24.com/top-news/15125
Page of