প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর জকিগঞ্জে শুরু ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ সিজন-২
জকিগঞ্জ প্রতিনিধি:
তৃণমূল পর্যায় থেকে শিশু-কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ ও বিকাশের লক্ষ্যে সিলেটের জকিগঞ্জে শুরু হয়েছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬–২০২৭’ (সিজন-২) এর উপজেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা। ১০টি ক্রীড়া ইভেন্টে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে এ আয়োজন ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে খুলনা জেলা স্টেডিয়াম থেকে ভার্চ্যুয়ালি দেশব্যাপী এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সময়ে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়। জকিগঞ্জ উপজেলা অডিটোরিয়ামে প্রজেক্টরের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজিত কুমার চন্দ, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুর রাজ্জাক, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সাইদ শুভ্র, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বিনয় ভূষণ দাস, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব হাসান আহমদ, পৌর বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মাসুক আহমদ, সাধারণ সম্পাদক শিব্বির আহমদ রনি, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি শাব্বির আহমদ এবং জকিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক মুন্না।
এ ছাড়া জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, ক্রীড়া সংগঠক ও খেলোয়াড়রা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
কেন্দ্রীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে উপজেলা অফিসার্স ক্লাব মাঠে স্থানীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়। এ সময় বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজিত কুমার চন্দ।
তিনি বলেন, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রান্তিক অঞ্চলের শিশু-কিশোরদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটবে। পাশাপাশি তারা নিয়মিত খেলাধুলায় সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে। এ আয়োজন শিশু-কিশোরদের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতার মনোভাব তৈরি এবং আগামী দিনের দক্ষ ক্রীড়াবিদ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তৃণমূলের প্রতিভাবান খেলোয়াড়েরা ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের মেলে ধরার সুযোগ পাবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ সিজন-২ প্রতিযোগিতা মোট চারটি পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হবে। একজন প্রতিযোগী সর্বোচ্চ দুটি ইভেন্টে অংশ নিতে পারবে। প্রতিযোগিতার ১০টি ইভেন্ট হলো—ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, অ্যাথলেটিকস, ব্যাডমিন্টন, দাবা, মার্শাল আর্ট, সাঁতার, ভলিবল ও টেবিল টেনিস।
প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের জন্য থাকবে মেডেল, ট্রফি ও সনদপত্র। সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো, প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বাছাই করা প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)-তে দীর্ঘমেয়াদি উন্নত প্রশিক্ষণ এবং পড়াশোনার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে যাবতীয় ব্যয় সরকার বহন করবে।
তৃণমূল পর্যায়ের শিশু-কিশোরদের ক্রীড়াঙ্গনে সম্পৃক্ত করা, তাদের সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত করা এবং ভবিষ্যতের জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।