logo
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
সুনামগঞ্জ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:২৩ অপরাহ্ন চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
৭৫ কোটি টাকার প্রকল্পে কাজ থমকে থাকায় ভোগান্তি; দ্রুত কাজ শুরুর দাবি স্থানীয়দের

শান্তিগঞ্জে ফোরলেনের কাজ বন্ধ, ধুলায় বিপর্যস্ত জনজীবন

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:২৩ অপরাহ্ন সুনামগঞ্জ
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:২৩ অপরাহ্ন
শান্তিগঞ্জে ফোরলেনের কাজ বন্ধ, ধুলায় বিপর্যস্ত জনজীবন

শান্তিগঞ্জ প্রতিনিধি :


সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলা সদরের সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রায় দুই কিলোমিটার অংশ চার লেনে উন্নীত করার কাজ চলমান থাকলেও বর্তমানে বিভিন্ন অংশে কাজ বন্ধ রয়েছে। এতে নির্মাণাধীন সড়কে পড়ে থাকা বালু-মাটি শুকিয়ে যানবাহন চলাচলের সময় ধুলাবালি উড়ছে। ফলে সড়কের আশপাশের বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, পথচারী ও যানবাহনের যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।


স্থানীয়দের অভিযোগ, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যানবাহন চলাচলের সময় সড়কে ধুলার মেঘ সৃষ্টি হচ্ছে। উপজেলা পরিষদ ভবন, এফআইবিডি অফিস, শান্তিগঞ্জ পয়েন্টসহ আশপাশের দোকানপাট ও বসতবাড়িতে ধুলার আস্তরণ পড়ছে। পথচারীদের পোশাক-পরিচ্ছদেও ধুলা জমছে। অনেক সময় যানবাহন চলাচলের সময় সামনের রাস্তা পর্যন্ত স্পষ্ট দেখা যায় না বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।


সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের শান্তিগঞ্জ উপজেলা সদরের টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট এলাকা থেকে উজানীগাঁও শিল্প ও কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক) পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক দুই লেন থেকে চার লেনে উন্নীত করার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৫ কোটি ৯৩ লাখ ২৮ হাজার ২৫২ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছে এম এম বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড। ২০২৫ সালের জুনে চুক্তি সম্পাদনের পর ওই বছরের অক্টোবর থেকে কাজ শুরু হয় এবং ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। এ তথ্যের সঙ্গে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনের তথ্যও সামঞ্জস্যপূর্ণ। 


প্রকল্পের শুরুতে কাজের অগ্রগতি নিয়ে ইতিবাচক তথ্য পাওয়া গেলেও পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন কারণে কাজে ধীরগতি দেখা দেয়। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রকল্পের প্রায় ৪০ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। মে মাসে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী প্রায় ৫০ শতাংশ ঢালাই ও ৭০ শতাংশ মাটির কাজ শেষ হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। বিদ্যুতের খুঁটি অপসারণ, গাছ কাটার বিলম্ব এবং বৃষ্টির কারণে কাজের গতি কিছুটা কমে যাওয়ার কথাও তখন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছিলেন। 


তবে বর্তমানে স্থানীয়দের ভাষ্য, নির্মাণকাজের কিছু অংশ বন্ধ থাকায় সড়কে ফেলে রাখা বালু-মাটি শুকিয়ে ধুলাবালি সৃষ্টি করছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভারী যানবাহন ও ছোট যানবাহন চলাচলের সময় পুরো সড়কজুড়ে ধুলার মেঘ তৈরি হচ্ছে। এতে গাড়িতে চলাচলকারী যাত্রী, পথচারী ও আশপাশের বাসিন্দাদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।


বিশেষ করে শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাতায়াতকারী শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় থাকা রোগীদের দুর্ভোগ বেশি হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানান। তাদের দাবি, সড়ক ও জনপথ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কাজের অগ্রগতি স্বাভাবিক করার পাশাপাশি নির্মাণাধীন সড়কে নিয়মিত পানি ছিটানো, বালু-মাটি নিয়ন্ত্রণ এবং পথচারী ও যানবাহনের নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে।


শান্তিগঞ্জ বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, দিনের বড় একটি সময় দোকানের সামনে ধুলাবালি জমে থাকে। যানবাহন অতিক্রম করলেই ধুলার মেঘ তৈরি হয়। এতে দোকানের মালামাল পরিষ্কার করতে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ সর্দি-কাশিসহ বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন বলেও জানান।


সবজি ব্যবসায়ী আব্দুল হামিদ বলেন, “উন্নয়ন কাজ আমরা চাই। কিন্তু কাজ বন্ধ রেখে রাস্তার বালু-মাটি এভাবে ফেলে রাখলে আমাদের ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। অন্তত নিয়মিত পানি ছিটানো হলে ধুলার সমস্যা অনেকটা কম হতো।”


সিএনজি চালক রিপন মিয়া বলেন, “গাড়ি গেলেই ধুলায় চারপাশ ঢেকে যায়। সিএনজি, মোটরসাইকেল চালানো ও পথচারীদের চলাচল—দুটিই কষ্টকর। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক মানুষকে নিয়ে চলাচলের সময় বেশি সমস্যা হয়। গাড়ি চলাচলের সময় ধুলায় পুরো রাস্তা অন্ধকার হয়ে যায়। চোখ-মুখ ঢেকে চলতে হয়। দ্রুত কাজ শেষ করে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করার পাশাপাশি কাজ চলাকালে নিয়মিত পানি ছিটানোর ব্যবস্থা করা দরকার।”


এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম এম বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের স্থানীয় প্রকৌশলী সাকিব আল হাসান জানান, তাদের প্রায় ৭৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটবালি না পাওয়ায় বর্তমানে কাজ বন্ধ রয়েছে। ভিটবালি পাওয়া গেলে আবার পুরোদমে কাজ শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। রাস্তায় পানি ছিটানোর জন্য ট্রাক রয়েছে এবং নিয়মিত পানি ছিটানোর জন্য বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।


সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম বলেন, শান্তিগঞ্জ উপজেলা সদরের ফোরলেনের কাজ আবারও পুরোদমে শুরু হবে। ধুলাবালি যাতে বাতাসে না উড়ে, সে জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিয়মিত রাস্তায় পানি ছিটানোর জন্য বলা হয়েছে।


উল্লেখ্য, টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটের সামনে থেকে উজানীগাঁও শিল্প ও কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক) পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করার এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শান্তিগঞ্জ উপজেলা সদরের গুরুত্বপূর্ণ অংশের যোগাযোগব্যবস্থায় পরিবর্তন আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। প্রকল্পের আওতায় সড়কের বিভিন্ন উন্নয়নকাজের পাশাপাশি ড্রেনেজ ও অন্যান্য অবকাঠামোগত কাজের পরিকল্পনার কথাও আগে জানানো হয়েছিল। 

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ · https://channeljaintanews24.com/top-news/17765
Page of