বাংলাদেশিদের জন্য ভিয়েতনামের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
ঢাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর :: বাংলাদেশের ব্যবসায়ী, কর্মী, শিক্ষার্থী ও পর্যটকদের জন্য ভিয়েতনামের ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে বঙ্গভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূত গুয়েন ম্যানহ কুঅং বিদায়ী সাক্ষাৎ করতে গেলে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বাসসকে এ তথ্য জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভিয়েতনামের পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার এবং বিদ্যমান উন্নয়ন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং অংশীদারত্বের ক্ষেত্র সম্প্রসারণ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সাক্ষাৎকালে ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান এবং ভিয়েতনামের রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে তাঁকে ভিয়েতনাম সফরের আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি এ আমন্ত্রণের জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানান।
রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ স্থাপন, অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়ন এবং উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ সময় রাষ্ট্রপতি ২০০৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী হিসেবে তাঁর ভিয়েতনাম সফরের কথা স্মরণ করেন। তিনি দুই দেশের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের মধ্যকার বাণিজ্যকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক করতে বাংলাদেশের রপ্তানি বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন।
এ লক্ষ্যে বাংলাদেশে উৎপাদিত ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, সিরামিক, বাইসাইকেল, পাট ও পাটজাত পণ্যসহ বিভিন্ন রপ্তানিযোগ্য পণ্যের আমদানি বাড়াতে ভিয়েতনামের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বিদায়ী রাষ্ট্রদূতকে তাঁর সফল কর্মকাল এবং বাংলাদেশ-ভিয়েতনাম সম্পর্ক উন্নয়নে অবদানের জন্য ধন্যবাদ জানান রাষ্ট্রপতি। নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার পরও তিনি দুই দেশের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা জোরদারে ভূমিকা রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূতের সুস্বাস্থ্য ও সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল কামনা করেন। পাশাপাশি ভিয়েতনামের জনগণের অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধিও কামনা করেন।
এ সময় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিববৃন্দ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ভিয়েতনাম দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।