প্রবাসীর মরদেহ দেশে আনতে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর তাৎক্ষণিক উদ্যোগ, ২৪ জুলাই ঢাকায় পৌঁছাবে শামীমের মরদেহ
জকিগঞ্জ প্রতিনিধি।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার প্রবাসী শামীম আহমদের মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে তাৎক্ষণিক উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এমপির নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করে। ইতোমধ্যে মরদেহ দেশে পাঠানোর আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আবুধাবিস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রীর নির্দেশনার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা হয়। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২৪ জুলাই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে শামীম আহমদের মরদেহ ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
পারিবারিক সূত্র জানায়, জকিগঞ্জ উপজেলার কসকনকপুর ইউনিয়নের নগরকান্দি গ্রামের আব্দুল মালিকের ছেলে শামীম আহমদ (৩৮) দীর্ঘদিন ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল আইন এলাকায় কর্মরত ছিলেন। গত ২১ জুলাই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। বর্তমানে তাঁর মরদেহ আল আইন শহরের একটি হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষিত রয়েছে।
শামীম আহমদের মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছার পর তাঁর মরদেহ দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এমপির কাছে লিখিত আবেদন করেন তাঁর চাচাতো ভাই সাংবাদিক মো. আহসান হাবীব। আবেদনে সরকারি সহায়তায় মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়।
বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের উপসচিব ও পরিচালক (প্রশাসন ও উন্নয়ন) মো. সাইদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে আবুধাবিস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কল্যাণ উইংকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়।
চিঠিতে মরদেহ দ্রুত দেশে প্রেরণের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করার পাশাপাশি শামীম আহমদের নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে কোনো বকেয়া বেতন-ভাতা, ক্ষতিপূরণ কিংবা বীমা সুবিধা পাওনা রয়েছে কি না, তা যাচাই করে তাঁর পরিবারের প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়।
এদিকে প্রিয়জনের মরদেহ দেশে ফেরার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন শামীম আহমদের স্বজনরা। দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এমপি এবং সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন পরিবারের সদস্যরা।
আবেদনকারী সাংবাদিক মো. আহসান হাবীব বলেন, “শামীম আহমদের মৃত্যুর পর পরিবারটি গভীর উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিল। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করায় পরিবারের সদস্যরা স্বস্তি পেয়েছেন। মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করায় মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের প্রতি আমরা আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।”