হবিগঞ্জে বাঁধ ভেঙে ভয়াবহ বন্যা, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে হুইপ জি কে গউছ
আশীষ দাশ গুপ্ত, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:
অতিরিক্ত বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জের খোয়াই নদীর পানি বিপজ্জনকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে নদীর বাঁধ ভেঙে অন্তত ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। শিশু, বৃদ্ধ ও গৃহপালিত পশুপাখি নিয়ে চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন বন্যাকবলিত পরিবারের সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। এরপর দ্রুতগতিতে বন্যার পানি আশপাশের এলাকায় প্রবেশ করে অসংখ্য ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় যুবসমাজ ও স্বেচ্ছাসেবীরা নৌকার মাধ্যমে আটকে পড়া মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে খোয়াই নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে কালীগঞ্জ এলাকার বাঁধটি দুর্বল হয়ে পড়ে। এরই ধারাবাহিকতায় বাঁধ ভেঙে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তারা অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে বন্যার পানিতে হবিগঞ্জ-মিরপুর সড়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে হাজারো মানুষ কার্যত গৃহবন্দি হয়ে পড়েছেন এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাইদুর রহমান বলেন, উজানে আরও বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। ফলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
এদিকে শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে জাতীয় সংসদের হুইপ ও হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ জি কে গউছ লস্করপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ চরহামুয়া কালীগঞ্জ এলাকার বাঁধ ভাঙা ও বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নেন, সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন। পরে তিনি বন্যাদুর্গত মানুষের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।
দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে থেকে তাদের দুর্ভোগ লাঘবে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তিনি এ পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করেন।