সিলেটসহ তিন বিভাগে বন্যার শঙ্কা, বাড়ছে নদ-নদীর পানি
স্থল নিম্নচাপের প্রভাবে বৃষ্টিপাত বেড়ে দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের কয়েকটি জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
সোমবার (৬ জুলাই) প্রকাশিত পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।
ব্রহ্মপুত্র-যমুনা
গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানির সমতল স্থিতিশীল রয়েছে।
অন্যদিকে যমুনা নদীর পানির সমতল বেড়েছে। আগামী দুই দিন পানি কমে পরবর্তী তিন দিন আবার বাড়তে পারে।
তবে নদীটি বিপদসীমার নিচ দিয়েই প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গঙ্গা-পদ্মা
গত ২৪ ঘণ্টায় গঙ্গা ও পদ্মা নদীর পানির সমতল স্থিতিশীল রয়েছে।
আগামী তিন দিন এ অবস্থা অব্যাহত থাকতে পারে। এরপর দুই দিন পানির সমতল বাড়লেও তা বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হবে।
সুরমা-কুশিয়ারা (আপার মেঘনা)
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানির সমতল গত ২৪ ঘণ্টায় কমেছে। আগামী এক দিন স্থিতিশীল থাকার পর পরবর্তী দুই দিন তা বাড়তে পারে।
সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ
গত ২৪ ঘণ্টায় মনু, ধলাই, খোয়াই ও কংস নদীর পানির সমতল কমেছে। তবে সারিগোয়াইন, সোমেশ্বরী, যাদুকাটা ও ভুগাই নদীর পানির সমতল স্থিতিশীল রয়েছে। আগামী এক দিন স্থিতিশীল থাকার পর পরবর্তী দুই দিন এসব নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে।
আগামী ৭২ ঘণ্টায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার কিছু এলাকায় নদীর পানি সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও সাময়িক প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে।
চট্টগ্রাম বিভাগ
গত ২৪ ঘণ্টায় গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানির সমতল বেড়েছে। আগামী তিন দিন এসব নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে।
আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলার কিছু এলাকায় এসব নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রংপুর বিভাগ
গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানির সমতল কমেছে। আগামী এক দিন এ প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এরপর পরবর্তী দুই দিন পানি আবার বাড়তে পারে।