logo
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
হবিগঞ্জ ১৮ জুন ২০২৬ ০৯:২৫ অপরাহ্ন চ্যানেল জৈন্তা নিউজ

নৌকানির্ভর যাতায়াতে ভোগান্তি, সময়মতো ক্লাসে ব্যাঘাত: ছাতকের চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নিয়ে প্রশ্ন

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ১৮ জুন ২০২৬ ০৯:২৫ অপরাহ্ন হবিগঞ্জ
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ১৮ জুন ২০২৬ ০৯:২৫ অপরাহ্ন
নৌকানির্ভর যাতায়াতে ভোগান্তি, সময়মতো ক্লাসে ব্যাঘাত: ছাতকের চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নিয়ে প্রশ্ন

ছাতক প্রতিনিধি:

ছাতক উপজেলার চরমহল্লা ইউনিয়নের চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাতায়াত ব্যবস্থা অত্যন্ত দুরূহ হওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রতিদিন নানা ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। বিদ্যালয়ে পৌঁছানোর একমাত্র মাধ্যম নৌকা। উপজেলার জাউয়াবাজার থেকে প্রায় এক ঘণ্টার নৌপথ পাড়ি দিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয় শিক্ষকদের।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেল ৩টার পর যাত্রীবাহী নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক সময় শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয় ত্যাগ করতে হয়। এছাড়া নৌকা চলাচলের ওপর নির্ভরশীলতার কারণে বিভিন্ন সময় বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতেও বিলম্ব ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।


বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, কর্মরত চারজন শিক্ষকের মধ্যে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোছাদ্দেক আহমদ ও সহকারী শিক্ষিকা খাদিজা বেগম বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না। এ সময় সহকারী শিক্ষিকা শাহনাজ বেগম ও ফারহানা আক্তার সুমি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করছিলেন। এছাড়া দপ্তরি প্রহরী আজাদ মিয়া এবং অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা একজন বেসরকারি শিক্ষিকাও উপস্থিত ছিলেন।


অনুপস্থিত শিক্ষকদের বিষয়ে জানতে চাইলে উপস্থিত শিক্ষিকারা জানান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সকালে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে দুপুর ১২টার দিকে জরুরি কাজে ছাতকে চলে যান। অন্যদিকে সহকারী শিক্ষিকা খাদিজা বেগমের অনুপস্থিতি সম্পর্কে তারা স্পষ্ট কোনো মন্তব্য করতে পারেননি।


পরে বিকেল ৩টা ১১ মিনিটে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোছাদ্দেক আহমদ বলেন, “আমি সকালে বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলাম। বিদ্যালয়ের জরুরি কাজে দুপুর ১২টার দিকে ছাতক উপজেলা শিক্ষা অফিসে এসেছি। বর্তমানে শিক্ষা অফিসে অবস্থান করছি।”


সহকারী শিক্ষিকা খাদিজা বেগম বলেন, “জ্বর থাকা সত্ত্বেও আমি বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়েছিলাম। পরে শারীরিক অসুস্থতার কারণে প্রধান শিক্ষককে জানিয়ে দুপুর ১২টার দিকে বাড়িতে চলে আসি।”


গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা হুসিয়ার আলী বলেন, “এখানে যাতায়াত ব্যবস্থা খুবই দুর্বল। চারজন শিক্ষকের মধ্যে তিনজন নারী ও একজন পুরুষ। যোগাযোগ সমস্যার কারণে উপস্থিত হতে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে। তবে প্রায় প্রতিদিনই বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম চলতে দেখি। শিক্ষকরা কখন আসেন বা কখন চলে যান, সে বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না।”


এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য ছাতক উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ শাহজাহান আহমেদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।


স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের দাবি, বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বৃদ্ধি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। তাদের মতে, যাতায়াত সংকটের কারণে শিক্ষা কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন।


উল্লেখ্য, বিদ্যালয়টিতে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম নৌকা হওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রতিদিন নানা ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শিক্ষা কার্যক্রমের স্বার্থে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নিয়মিত তদারকি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ · https://channeljaintanews24.com/top-news/16045
Page of