শিক্ষার উন্নয়ন ও দক্ষ জনশক্তি গড়ার প্রত্যয় গোলজার-কুদ্দুছ-মনির প্যানেলের
বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:
যুক্তরাজ্যে জমে উঠেছে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার সর্ববৃহৎ অরাজনৈতিক সংগঠন বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্টের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন ২০২৬। আগামী ১৮ অক্টোবর, রোববার লন্ডনের দ্য গ্র্যান্ড রাউন্ড হাউস, লজ অ্যাভিনিউ, ড্যাগেনহ্যাম, এসেক্স, RM8 2HY-তে অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত এ নির্বাচন। দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৬টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে।
নির্বাচন ঘিরে প্রবাসী বিশ্বনাথীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। ৮০৮ জন ট্রাস্টি তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে পছন্দের প্রার্থী নির্বাচিত করতে অপেক্ষা করছেন। অন্যদিকে ভোটারদের সমর্থন আদায়ে বিরামহীন প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রার্থীরা।
নির্বাচন পরিচালনার জন্য বিচারক বেলায়েত হোসেন, এ কে এম ইয়াহইয়া, অধ্যাপক নুরুল ইসলাম, আবুল কাহার আলী ও অধ্যাপক আব্দুল মতিনকে নিয়ে পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে।
এবারের নির্বাচনে ১৭টি পদের বিপরীতে দুটি প্যানেল থেকে মোট ৩৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্যানেল দুটি হলো—মিছবাহ-মোহাব্বত-নেছার এবং গোলজার-কুদ্দুছ-মনির। উভয় প্যানেলই নবীন-প্রবীণ ও অভিজ্ঞদের সমন্বয়ে প্রার্থী দিয়েছে। নিজেদের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশের পাশাপাশি বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ও পরিচিতি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছেন প্রার্থীরা।
ব্রিটেনের বিভিন্ন বড় শহরে প্যানেল পরিচিতি অনুষ্ঠান ও প্রচারণা চালানো হচ্ছে। বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্টের নির্বাচনকে ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতেও আলোচনা চলছে। প্যানেলগুলোর প্রার্থীদের পাশাপাশি সিনিয়র ট্রাস্টিরাও বিভিন্ন শহরে প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন।
অন্তত ১০টি পদে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস
নির্বাচনসংশ্লিষ্ট সূত্রের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৭টি পদের মধ্যে অন্তত ১০টিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই হতে পারে। এবারের নির্বাচনে প্যানেলগুলোর জন্য নির্ধারিত কোনো প্রতীক নেই। ফলে ট্রাস্টিরা উভয় প্যানেল থেকে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করার সুযোগ পাবেন।
এর আগে অনুষ্ঠিত নির্বাচনেও দুটি প্যানেল অংশ নিয়েছিল। সেই নির্বাচনে একটি প্যানেল থেকে ১০ জন এবং অপর প্যানেল থেকে সাতজন প্রার্থী বিজয়ী হন। এবারও দুই প্যানেল থেকে প্রার্থীরা বিজয়ী হবেন, নাকি কোনো একটি প্যানেল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করবে—তা নিয়ে ট্রাস্টিদের মধ্যে কৌতূহল রয়েছে।
শিক্ষার প্রসারে তিন দশকের অবদান
১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট গত ৩২ বছরে বিশ্বনাথের শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সংগঠনটির স্থায়ী মূলধন প্রায় ১২ কোটি টাকা বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এ মূলধনের মুনাফা থেকে শিক্ষার উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রবাসে থেকেও নিজ এলাকার শিক্ষার উন্নয়নে অবদান রাখার ক্ষেত্রে সংগঠনটি একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
২০২৬-২০২৮ মেয়াদের এ নির্বাচনে গোলজার-কুদ্দুছ-মনির প্যানেল শিক্ষার প্রসার, বেকার যুবক-যুবতীদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর, প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য সংরক্ষণ, আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার নিয়ে ভোটারদের কাছে যাচ্ছে।
গোলজার-কুদ্দুছ-মনির প্যানেলে যাঁরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন
চেয়ারপার্সন পদে গোলজার খান, ভাইস-চেয়ারপার্সন পদে অধ্যাপক ফরিদ আহমদ ও কবির মিয়া, জেনারেল সেক্রেটারি পদে আব্দুল কুদ্দুছ, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি পদে সিরাজুল ইসলাম ও শরিফুল ইসলাম, ট্রেজারার পদে মনির আহমদ, অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেজারার পদে তোফাজ্জুল আলম, প্রেস অ্যান্ড পাবলিসিটি সেক্রেটারি পদে খালেদ মাসুদ রনি এবং কালচারাল সেক্রেটারি পদে মদরিছ আলী মফজ্জুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এ ছাড়া ইসি মেম্বার পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আজিজুর রহমান খান রাজু, গোলজার আহমদ ফয়ছল, মহি উদ্দিন পলাশ, শাহ তাজুল ইসলাম, আজিজুর রহমান রুমেল, রুহেল ইসলাম ও শামীম নুর।
শিক্ষা ও কর্মসংস্থানকে গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রার্থীরা
চেয়ারপার্সন পদপ্রার্থী গোলজার খান বলেন, “আমি নির্বাচিত হলে বিশ্বনাথে শিক্ষার প্রসারে এবং বেকার যুবক-যুবতীদের দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করতে প্রচেষ্টা চালাব।”
জেনারেল সেক্রেটারি পদপ্রার্থী আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, ট্রাস্টের গৌরবময় ঐতিহ্য ধরে রাখা এবং নতুন প্রজন্মকে শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করাই হবে তাঁর অন্যতম লক্ষ্য।
ট্রেজারার পদপ্রার্থী মনির আহমদ বলেন, “বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট একটি জনকল্যাণমূলক ও অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করাকে আমি অত্যন্ত গুরুত্ব দিই।”
ভাইস-চেয়ারপার্সন পদপ্রার্থী কবির মিয়া ট্রাস্টিদের দোয়া, সমর্থন ও মূল্যবান ভোট প্রত্যাশা করে বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিশ্বনাথের শিক্ষার উন্নয়নে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।
প্রবাসে বসবাস করেও নিজ এলাকার শিক্ষার উন্নয়নে অবদান রাখার লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত এ সংগঠনের নেতৃত্ব নির্বাচনকে ঘিরে এখন শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ব্যস্ত দুই প্যানেলের প্রার্থীরা। আগামী ১৮ অক্টোবরের ভোটে ট্রাস্টিরা কাদের ওপর আস্থা রাখেন, তা জানতে অপেক্ষা করছেন প্রার্থী ও সমর্থকেরা।