logo
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
সুনামগঞ্জ ০৮ অক্টোবর ২০২৬ ০১:৫৯ পূর্বাহ্ন চ্যানেল জৈন্তা নিউজ

শান্তিগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেপ্টেম্বরে রেকর্ড ৭৪টি স্বাভাবিক প্রসব

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ০৮ অক্টোবর ২০২৬ ০১:৫৯ পূর্বাহ্ন সুনামগঞ্জ
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ০৮ অক্টোবর ২০২৬ ০১:৫৯ পূর্বাহ্ন
শান্তিগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেপ্টেম্বরে রেকর্ড ৭৪টি স্বাভাবিক প্রসব

শান্তিগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলা ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাভাবিক প্রসব সেবায় আশাব্যঞ্জক সাফল্য এসেছে। সদ্য সমাপ্ত সেপ্টেম্বর মাসে হাসপাতালটিতে ৭৪টি স্বাভাবিক প্রসব সম্পন্ন হয়েছে। হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পর এক মাসে এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যক স্বাভাবিক প্রসবের রেকর্ড বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

হাসপাতালের প্রসব ওয়ার্ডে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিয়ে যাচ্ছেন পাঁচজন মিডওয়াইফ—সিনিয়র মিডওয়াইফ শিউলি বেগম, মিডওয়াইফ রিমা বেগম, রনি আক্তার, তাসলিমা আক্তার ও ছাদিয়া আক্তার। তাঁদের আন্তরিকতা, দক্ষতা ও নিরলস প্রচেষ্টায় নিয়মিতভাবে প্রসূতিদের স্বাভাবিক প্রসব সম্পন্ন হচ্ছে। চলতি অক্টোবর মাসের ৬ তারিখ পর্যন্ত আরও ১১টি স্বাভাবিক প্রসব সম্পন্ন হয়েছে।

দায়িত্বে থাকা মিডওয়াইফ রনি আক্তার বলেন, “আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে স্বাভাবিক প্রসব সম্পন্ন করার চেষ্টা করি এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সফল হই। প্রসূতির শারীরিক অবস্থা জটিল না হলে দ্রুত ও নিরাপদভাবে প্রসব করানো সম্ভব।”

তিনি বলেন, অনেক সময় পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে অপ্রশিক্ষিত ধাত্রীর মাধ্যমে দীর্ঘসময় প্রসব করানোর চেষ্টা করেন। এতে প্রসূতি ও গর্ভস্থ শিশুর উভয়েরই ক্ষতির আশঙ্কা থাকে এবং পরবর্তীতে প্রসব জটিল হয়ে উঠতে পারে। তাই প্রসবের সময় প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

সিনিয়র মিডওয়াইফ শিউলি বেগম জানান, শান্তিগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাভাবিক প্রসবের জন্য কোনো ফি নেওয়া হয় না। প্রসবকালীন প্রয়োজনীয় অধিকাংশ ওষুধ হাসপাতাল থেকেই বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়। তবে টিস্যু, ডায়াপারসহ সরকারি বরাদ্দের বাইরে থাকা কিছু সামগ্রী রোগীর স্বজনদের বাইরে থেকে সংগ্রহ করতে হয়।

তিনি আরও জানান, প্রসব সেবার পাশাপাশি এখানে গর্ভকালীন অ্যান্টেনাটাল চেকআপ (এএনসি), প্রসব-পরবর্তী পোস্টনেটাল চেকআপ (পিএনসি), ভায়া পরীক্ষা, পরিবার পরিকল্পনা পরামর্শ ও সেবা এবং নবজাতকের যত্ন দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রসূতি মায়েদের প্রয়োজনীয় যত্ন ও স্বাস্থ্যবিষয়ক কাউন্সেলিংও করা হয়।

হাসপাতালে প্রসব সেবা নিতে আসা উপজেলার পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের বাদুল্লাপুর গ্রামের জুলফা বেগম বলেন, “সেপ্টেম্বর মাসে আমার একটি ছেলে শিশু নরমাল ডেলিভারিতে হয়েছে। তাঁদের ব্যবহারে আমি খুবই খুশি। আমার কোনো টাকা লাগেনি। আমি গ্রামের অন্যদেরও হাসপাতালে প্রসব সেবা নিতে উৎসাহ দিচ্ছি।”

শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইকবাল হাসান বলেন, “আমাদের হাসপাতালে এই সেবা চলমান রয়েছে। হাসপাতালের অন্যান্য চিকিৎসক ও নার্স সংশ্লিষ্ট মিডওয়াইফদের এ কাজে সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।”

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উপজেলা পর্যায়ে নিরাপদ মাতৃসেবা নিশ্চিত করতে শান্তিগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রসূতি ও নবজাতক সেবা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীর মাধ্যমে স্বাভাবিক প্রসবের সুযোগ থাকায় স্থানীয় গর্ভবতী নারীদের হাসপাতালে প্রসবের বিষয়ে আগ্রহও বাড়ছে।

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ · https://channeljaintanews24.com/top-news/18035
Page of