logo
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
সুনামগঞ্জ ০১ অক্টোবর ২০২৬ ১১:৪০ পূর্বাহ্ন চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
নির্ধারিত টোলের চেয়ে বেশি আদায়ের অভিযোগ, ইজারাদারের দাবি—সরকার নির্ধারিত হারেই আদায়

জামালগঞ্জে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ০১ অক্টোবর ২০২৬ ১১:৪০ পূর্বাহ্ন সুনামগঞ্জ
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ০১ অক্টোবর ২০২৬ ১১:৪০ পূর্বাহ্ন
জামালগঞ্জে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

 সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) আওতাধীন নদীপথে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্ধারিত টোলের চেয়ে বেশি অর্থ আদায়, নৌযান আটকিয়ে হয়রানি এবং শ্রমিকদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে এসব কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় মিনি স্টোন ক্রাশার মিল মালিক ও নৌ-শ্রমিকরা।


রোববার দুপুরে জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে মিনি স্টোন ক্রাশার মিল মালিক সমিতি ও নৌ-শ্রমিক সমিতির আয়োজনে এ মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।


বক্তারা অভিযোগ করেন, জামালগঞ্জের সাচনাবাজার থেকে লালপুর-গজারিয়া নদীপথে পাথর ও বালু পরিবহনকারী নৌযান থেকে সরকার নির্ধারিত টোলের চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। তাদের দাবি, প্রতি ঘনফুট পাথরের জন্য নির্ধারিত ৫০ পয়সার পরিবর্তে ২ টাকা ৮০ পয়সা এবং প্রতি ঘনফুট বালুর জন্য ২৫ পয়সার পরিবর্তে বেশি হারে টোল নেওয়া হচ্ছে।


বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, সাচনা বাজার লঞ্চঘাট ও শুল্ক আদায় কেন্দ্রের ইজারাদার জিয়াউর রহমানের লোকজন এবং ফেনারবাঁক ইউনিয়নের গজারিয়া এলাকায় এলসি ও বার্ডিং চার্জ আদায় কেন্দ্রের ইজারাদার ওয়াহেদ আলী, শাহ মোহাম্মদ শাহজাহান, শফিক মিয়া ও মাসুক চেয়ারম্যানের লোকজন অতিরিক্ত টোল আদায় করছেন।


তাদের অভিযোগ, সাচনা থেকে লালপুর নদীপথের চানপুর, লালপুর ও লক্ষ্মীপুর এলাকায় বালু-পাথরবাহী চলন্ত নৌযান থামিয়ে টোল আদায় করা হচ্ছে। অতিরিক্ত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে নৌযানের চালক ও শ্রমিকদের হয়রানি, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে রশিদ ছাড়াই অর্থ আদায়ের অভিযোগও করেন শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা।


মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের গেজেট ও টোল চার্ট অনুযায়ী বিভিন্ন পণ্য ওঠানো-নামানোর ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম রয়েছে। কিন্তু নদীপথে পাথর ও বালু পরিবহনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত টোল আদায়ের কারণে ব্যবসায়ী ও নৌ-শ্রমিকরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। এর ফলে সুনামগঞ্জ-১ আসনের বিপুলসংখ্যক শ্রমিক ও ব্যবসায়ী কর্মসংস্থান হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলেও দাবি করেন তারা।


অবিলম্বে নদীপথে টোল আদায়ের নামে হয়রানি ও অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধের দাবি জানান বক্তারা। অন্যথায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বড় ধরনের সমাবেশ করার হুঁশিয়ারি দেন তারা। পাশাপাশি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান আন্দোলনকারীরা।


মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন জামালগঞ্জ মিনি স্টোন ক্রাশার মিল মালিক সমিতির সভাপতি হুসেন আলী লাল মিয়া, সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, ব্যবসায়ী জয়দর আলী, বাংলাদেশ কার্গো ট্রলার বাল্কহেড শ্রমিক ইউনিয়নের সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব, লোকমান হোসেন, রহমগীর, মিল ব্যবসায়ী নবী নুর, নৌ-শ্রমিক রফিকুল ইসলাম, করিম হোসেন কবীর, ওমর ফারুক, জুয়েল, শাহজালাল, আল আমিন, আউশাল আজমসহ অনেকে।


তবে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইজারাদার ওয়াহেদ আলী আফিন্দি। তিনি বলেন, “সরকার আমাদের যে রেট দিয়েছে, সেভাবেই টোল আদায় করছি। প্রতি ঘনফুট পাথরের জন্য ২ টাকা ৮০ পয়সা এবং বালুর জন্য ৩০ পয়সা করে টোল আদায় করছি। আমাদের ঘাটে অতিরিক্ত কোনো টোল আদায় করা হয় না।”


এ বিষয়ে জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিল্পী রাণী মোদক বলেন, সাচনা থেকে লালপুর-গজারিয়া বিআইডব্লিউটিএ নদীপথে টোল আদায়ের বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছিল। তবে কেউ অতিরিক্ত টোল আদায় করলে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এ ঘটনায় নির্ধারিত টোলের হার ও ইজারাদারদের আদায়ের পদ্ধতি নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও নৌ-শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ অব্যাহত রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ · https://channeljaintanews24.com/top-news/17946
Page of