logo
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
সুনামগঞ্জ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:০৬ অপরাহ্ন চ্যানেল জৈন্তা নিউজ

ছাতকে ভূমি বিরোধে দুপক্ষের সংঘর্ষ, নারীসহ আহত ৬

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:০৬ অপরাহ্ন সুনামগঞ্জ
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:০৬ অপরাহ্ন
ছাতকে ভূমি বিরোধে দুপক্ষের সংঘর্ষ, নারীসহ আহত ৬

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নের বড় মায়েরকুল গ্রামে ভূমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুপক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ ৬ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গ্রামের উভয় পক্ষের বসতবাড়ির আঙিনায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।


আহতদের মধ্যে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মছব্বিরের ছেলে জাকারিয়া (২২) ও ভাতিজা সাইফুর রহমান (২১) এবং অপর পক্ষের ইব্রাহিম আলী (২৫) ও তার পরিবারের তিন নারী রয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে স্বজনরা জানিয়েছেন। আহত ৬ জনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বড় মায়েরকুল গ্রামের মৃত নুর হকের ছেলে হাফিজ আব্দুল আজিজের পরিবারের সঙ্গে একই গ্রামের বাসিন্দা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মছব্বিরের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে ভূমি ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য স্থানীয় মুরব্বিদের মধ্যস্থতায় কয়েক দফা বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে আবারও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।


স্থানীয়দের ভাষ্য, সোমবার দুপুরে পূর্ব বিরোধের জের ধরে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র ও ইটপাটকেল নিয়ে বাড়ির আঙিনায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে নারীসহ উভয় পক্ষের ৬ জন আহত হন।


সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মছব্বিরের ভাই মোশাহিদ আলী বলেন, স্থানীয় মুরব্বিদের মাধ্যমে ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিরোধপূর্ণ ভূমির বিষয়ে আব্দুল মছব্বিরের কাছ থেকে খরচমূল্য পরিশোধ করে রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার কথা রয়েছে। মুরব্বিদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকার সময় হাফিজ আব্দুল আজিজের পক্ষের লোকজন ওই জমিতে চাষ করেন বলে তিনি দাবি করেন। এতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলেও জানান তিনি।


তবে হাফিজ আব্দুল আজিজ এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারা বিরোধপূর্ণ জমিতে হালচাষ করেননি। নিজেদের মালিকানাধীন জমিতে হালচাষ করতে গেলে অপর পক্ষ বাধা দেয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে তাদের পরিবারের তিন নারীসহ চারজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। অন্যদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।


আহত ইব্রাহিম আলী বলেন, সংঘর্ষের সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি থামানোর চেষ্টা করছিলেন। এ সময় শালিসি করার অবস্থায় তার ওপর হামলা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এর আগেও তার ওপর আরও দুইবার হামলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।


স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সংঘর্ষ থামাতে তারা একাধিকবার চেষ্টা করেছেন। এ সময় ইটপাটকেলের আঘাতে তাদের কয়েকজনও আহত হয়েছেন। উভয় পক্ষকে থামানোর চেষ্টা করেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি বলে তারা জানান।


ঘটনার পর সোমবার রাতে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন উভয় পক্ষের আহতদের দেখতে যান দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক শামীম আলম নোমান, যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম, ইউপি সদস্য মুহিবুর রহমান মুহিব, যুবদল নেতা আল আমিন, মিজানুর রহমান মকবুল, আশরাফ আলী ও কফিল উদ্দিন।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষের ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা চলছে। তবে এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা বা আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ · https://channeljaintanews24.com/top-news/17919
Page of