শান্তিগঞ্জে জলমহালে অভিযান ঘিরে সংঘর্ষ, আহত ২০
শান্তিগঞ্জ প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার শিমুলবাক ইউনিয়নের থলেরবন্দ গ্রামের বনুয়া-কৈয়া গ্রুপ জলমহালের আশপাশে অবৈধ রিংজাল ও কারেন্ট জালের বিরুদ্ধে প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের অভিযানকে কেন্দ্র করে ইজারাদারের লোকজন ও স্থানীয় জেলেদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের একটি দল ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ১০০ মিটার অবৈধ রিংজাল জব্দ করে। এ সময় জব্দ করা জাল ফেরত দেওয়ার অনুরোধকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কয়েকজন জেলে ও জলমহালের ইজারাদারের লোকজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ চলে।
স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, তারা জলমহালের ইজারাকৃত অংশের বাইরে হাওরে মাছ ধরছিলেন। জাল জব্দের পর প্রশাসনের কাছে তা ফেরত দেওয়ার অনুরোধ জানাতে গেলে ইজারাদারের লোকজন তাদের ওপর হামলা চালান। এতে তাদের কয়েকজন আহত এবং নৌকা ও জাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।
অন্যদিকে জলমহালের ইজারাদার গোলাম আমিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অভিযান চলাকালে জাল মালিকদের পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের লোকজনের ওপর হামলা চালায়। এতে তাদের পক্ষের ৯ থেকে ১০ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় কিছু জেলে দীর্ঘদিন ধরে জলমহালে অবৈধ রিংজাল ও কারেন্ট জাল ব্যবহার করে মাছ শিকার করে আসছেন বলেও দাবি করেন তিনি। স্থানীয় সংবাদসূত্রেও ইজারাদার পক্ষের কয়েকজন আহত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কামরুল হাসান বলেন, নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে থলেরবন্দ হাওরে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১০০ মিটার অবৈধ রিংজাল জব্দ করা হয়। পরে জাল ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে ইজারাদারের লোকজন ও স্থানীয় জেলেদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। সঙ্গে থাকা পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। পরে জব্দ করা জাল আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। তাদের উপস্থিতিতে কোনো সংঘর্ষ হয়নি বলেও তিনি জানান।
শান্তিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মিজানুর রহমান জানান, থলেরবন্দ গ্রামের মারামারির ঘটনায় উভয় পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।