logo
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
সিলেট ২২ আগস্ট ২০২৬ ১২:০১ পূর্বাহ্ন চ্যানেল জৈন্তা নিউজ

সিলামে ওয়াকফ এস্টেট নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত অর্ধশত

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ২২ আগস্ট ২০২৬ ১২:০১ পূর্বাহ্ন সিলেট
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ২২ আগস্ট ২০২৬ ১২:০১ পূর্বাহ্ন
সিলামে ওয়াকফ এস্টেট নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত অর্ধশত

স্টাফ রিপোর্টার:


সিলেট মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন সিলাম এলাকায় হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ.) ওয়াকফ এস্টেটের মাজার, মসজিদ ও ৩৫–৪০টি দোকানকোটা নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ অন্তত অর্ধশত মানুষ আহত হয়েছেন। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে মোগলাবাজার থানার ওসি মো. মনির হোসেনসহ সাত পুলিশ সদস্য আহত হন।


শুক্রবার (২১ আগস্ট) বেলা ১টার দিকে সিলাম এলাকার চকের বাজার হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ.) জামে মসজিদ ও ঈদগাহের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের দক্ষিণ সুরমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ.) ওয়াকফ এস্টেটের মাজার, মসজিদ ও দোকানকোটা পরিচালনা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলাও চলমান রয়েছে।


শুক্রবার উভয় পক্ষের লোকজন মসজিদে নামাজ পড়তে এলে ওয়াকফ এস্টেটের মাজার, মসজিদ ও দোকানকোটা নিয়ে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ ইটপাটকেল ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।


সংঘর্ষের খবর পেয়ে মোগলাবাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে দুই পক্ষের হামলা-পাল্টাহামলায় ওসি মো. মনির হোসেনসহ সাত পুলিশ সদস্য আহত হন। এ সময় দুই পক্ষের আরও ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হন বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরে পুলিশ, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও মুরব্বিদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।


সংঘর্ষের কারণে চন্ডিপুল-বালাগঞ্জ সড়কে প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।


আহতদের মধ্যে শেখপাড়া গ্রামের প্রবীণ মুরব্বী ও মসজিদের সাবেক মোতাওয়াল্লী ফজলু মিয়া, শুয়েব আহমদ, আরিফুল হক রনি, লতিফুর রহমান মেহদি, বাবু মিয়া, ছানু মিয়া, আলী রুবেল, শহিদ আহমদ, সোহান, সালমান, আবু বকর বাবুল, ছাইফং, বাবু ও ইসলামসহ আরও অনেকে রয়েছেন।


এ বিষয়ে মোগলাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন সংঘর্ষ ও পুলিশ সদস্যদের আহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


উচ্চ আদালতে মামলা চলমান


সূত্র জানায়, হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ.) মাজার ওয়াকফ এস্টেটের (ইসি নং–১২৭৩৫) পরিচালনা নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত আগে থেকেই। গত ২৯ জুলাই ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ ওয়াকফ এস্টেটের প্রশাসকের এক আদেশে ওয়াকফ এস্টেটটির জন্য নয় সদস্যের একটি কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।


কমিটিতে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিককে সভাপতি, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সহসভাপতি এবং মো. ফজলু মিয়াকে মোতাওয়াল্লী করা হয়। এছাড়া আবেদ রাজা ও আহমদুর রহমান ছাদেককে যুগ্ম মোতাওয়াল্লী এবং মোয়াজ্জেম হোসেন লনি, লুতফুর রহমান বাবু, আব্দুল মতিন শাহিন ও আব্দুস সামাদকে সদস্য করা হয়।


ওই আদেশের পর শাহ আব্দুল মান্নান বাদী হয়ে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন নং ১০৭৬৭/২৬ দায়ের করেন। গত ১৬ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগের বিজয়-৭১ ভবনের ৩ নম্বর আদালতে রিটটির শুনানি হয়।


বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মো. তাজরুল হোসাইনের আদালত শুনানি শেষে ওয়াকফ এস্টেট অনুমোদিত কমিটির কাছে কারণ দর্শানোর জন্য চার সপ্তাহের রুল জারি করেন। একই সঙ্গে সাময়িকভাবে ওই কমিটির মোতাওয়াল্লী ফজলু মিয়ার কার্যক্রম স্থগিত করে আবেদ রাজাকে হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ.) মাজার ওয়াকফ এস্টেট ও মসজিদের সাময়িক মোতাওয়াল্লীর দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়।


উচ্চ আদালতে বিষয়টি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ · https://channeljaintanews24.com/top-news/17126
Page of