জিয়াউর রহমানের আদর্শেই ধ্বংসপ্রায় বাংলাদেশ পুনর্গঠন করতে হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
সিলেট :
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সততা, দেশপ্রেম, স্বজনপ্রীতিমুক্ত নেতৃত্ব ও আদর্শ অনুসরণ করেই ধ্বংসপ্রায় বাংলাদেশ পুনর্গঠন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি।
তিনি বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে একটি ভগ্নপ্রায় দেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তাঁর সময়ে শিল্পকারখানায় নতুন বিনিয়োগ শুরু হয়। দুর্ভিক্ষের অভিশাপ পেছনে ফেলে অর্থনৈতিক অগ্রগতির পথে এগিয়ে যায় দেশ।
শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি আয়োজিত র্যালিপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নগরীর রেজিস্ট্রারি মাঠে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন পর যথাযথ মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালনের সুযোগ ফিরে এসেছে। ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের দিন। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বরের অভ্যুত্থানের পর দেশে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, তা দীর্ঘস্থায়ী হলে বাংলাদেশ আবারও অন্ধকারের দিকে ফিরে যেত। দেশের মানুষ সেই অবস্থায় ফিরে যেতে চায়নি। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অভিন্ন প্রত্যাশা থেকেই সেদিন সশস্ত্র বাহিনীর দেশপ্রেমিক সদস্যরা শহীদ জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, ৭ নভেম্বরের পর শহীদ জিয়াউর রহমান তাঁর অসাধারণ নেতৃত্বগুণ দিয়ে বাংলাদেশকে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। তাঁর শাসনামলে বাংলাদেশ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য নির্বাচিত হয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করে। জাতীয়তাবাদী নেতৃত্বের মাধ্যমে তিনি দেশের মানুষের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও দেশপ্রেম জাগিয়ে তুলেছিলেন। মুসলিম বিশ্বেও বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিল।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও নেতৃত্বের পথ অনুসরণ করে আজ তাঁর অনুসারীদের ওপর দেশ পুনর্গঠনের গুরুদায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। সততা, স্বজনপ্রীতিমুক্ত মানসিকতা, দেশপ্রেম ও দায়িত্বশীলতার যে মানদণ্ড তিনি স্থাপন করেছেন, তা ধারণ করতে হবে। এই আদর্শ সামনে রেখেই বাংলাদেশকে কাঙ্ক্ষিত উন্নতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে হবে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসেইন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
সমাবেশ পরিচালনা করেন সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী এবং মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য এম এ মালিক, সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ সিদ্দিকী ও সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম।
সমাবেশ শেষে রেজিস্ট্রারি মাঠ থেকে একটি বিশাল র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়।