প্যারিসে ৭ নভেম্বরের চেতনায় জাতীয় ঐক্যের আহ্বান
মো. জুনেদ আহমদ, ফ্রান্স:
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস। এ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের চেতনায় জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার তাগিদ দেন তাঁরা।
শনিবার (৭ নভেম্বর) আয়োজিত অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। দূতাবাস কর্মকর্তা মো. ওয়ালিদ বিন কাশেমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন ফ্রান্সে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত খন্দকার তালহা আলম, ফ্রান্স বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম. এ. তাহের, সাবেক সহসভাপতি আব্দুর রহিম, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুনেদ আহমদ এবং ফ্রান্স জমিয়তের সভাপতি মাওলানা খালেদ আহমদ জায়িমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
রাষ্ট্রদূত খন্দকার তালহা আলম বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দিনটির বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে।
এম. এ. তাহের বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতো ২০২৪ সালেও দেশের স্বাধীনতা ও জনগণের অধিকার রক্ষায় সর্বস্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকারবিরোধী যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।
জুনেদ আহমদ বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক বিপ্লবের মধ্য দিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন। পরবর্তী সময়ে তিনি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে সংকটময় মুহূর্তে জাতিকে নতুন পথের সন্ধান দেন। ঐতিহাসিক এ দিনের চেতনায় দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।
মাওলানা খালেদ আহমদ জায়িম বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল স্বাধীন বাংলাদেশে জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা। একটি স্বনির্ভর, নিরাপদ ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনে এসব ঐতিহাসিক আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আব্দুর রহিম, শাহ জামাল, এম. এ. রশিদ হোসেন পাটোয়ারী, আলতাফুর রহমান, শাফাত জামিল, নাজমুল ইসলাম সায়েম ও কামরুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মাওলানা আনোয়ার হোসেন। পরে দেশ, জাতি, মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ এবং বাংলাদেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও সার্বিক মঙ্গল কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে সব ধরনের বিভেদ ভুলে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখা এবং জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।