ফ্রান্স:
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, লাগামহীন জীবনযাত্রার ব্যয়, স্থবির মজুরি, পেনশন সংকট এবং সরকারি সেবায় ব্যয় সংকোচনের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে ফ্রান্স। এসব দাবিতে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ও ধর্মঘট পালন করেছেন শ্রমিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সরকারি কর্মচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানী প্যারিসসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে রাজপথে নামেন লাখো মানুষ। বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা নিয়ে সরকারি প্রশাসন ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর দেওয়া তথ্যে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে। ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, দেশজুড়ে প্রায় ৫ লাখ ৭৫ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। অন্যদিকে, প্রভাবশালী শ্রমিক সংগঠন সিজেটি (CGT) দাবি করেছে, বিক্ষোভকারীর সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ ৭৩ হাজার।
প্যারিস ছাড়াও মার্সেই, লিওঁ, বোর্দো, লিল ও তুলুজসহ বিভিন্ন বড় শহরে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। আন্দোলনকারীদের প্রধান ক্ষোভ খাদ্যপণ্য, জ্বালানি, বাসাভাড়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে। তাঁদের অভিযোগ, প্রতিনিয়ত জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লেও সেই অনুপাতে মজুরি বৃদ্ধি পাচ্ছে না। ফলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলো ক্রমেই আর্থিক সংকটের মুখে পড়ছে।
বিক্ষোভকারীরা ন্যায্য মজুরি বৃদ্ধি, পেনশন ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কর্মসংস্থান রক্ষা এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।
ধর্মঘটের প্রভাবে দেশটির রেল যোগাযোগ, গণপরিবহন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এমনকি প্যারিসের অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ আইফেল টাওয়ারও বৃহস্পতিবার দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ রাখা হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সম্ভাব্য সহিংসতা মোকাবিলায় দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়। কয়েকটি শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন ঘটনায় অন্তত ৪৪৮ জনকে আটক করা হয়েছে।
চলমান আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু শ্রমিক সংগঠন ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছেন। আগামী সোমবার মজুরি, ক্রয়ক্ষমতা ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে তাঁদের সঙ্গে আলোচনার কথা রয়েছে। তবে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, কেবল আলোচনার আশ্বাস নয়, তাঁদের দাবির বাস্তবায়ন চান তাঁরা।
এদিকে, সরকারি ঋণ ও বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে ব্যয় সংকোচনের চাপ সরকারের জন্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে এই বিক্ষোভ ফ্রান্সের রাজনৈতিক অঙ্গনেও নতুন চাপ তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান আন্দোলন কেবল দ্রব্যমূল্য বা মজুরি নিয়ে অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ নয়; বরং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের প্রতিফলন। সরকার দাবিগুলো পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সব মিলিয়ে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও জীবনযাত্রার সংকট মোকাবিলা করাই এখন ফরাসি সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তথ্য যাচাই করে দেখা গেছে, আপনার দেওয়া প্রতিবেদনের মূল তথ্যের অধিকাংশই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স, এএফপি এবং ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্যের সঙ্গে মিলে যায়। তবে কয়েকটি জায়গায় তথ্য আরও নির্দিষ্ট করা হয়েছে—বিশেষ করে বিক্ষোভকারীর সংখ্যা, প্যারিসে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা এবং পুলিশের আহত হওয়ার তথ্য। সরকারি ও শ্রমিক সংগঠনের পরিসংখ্যান আলাদা করে উল্লেখ করা হয়েছে।
### ফ্রান্সজুড়ে লাখো মানুষের বিক্ষোভ, ৪৪৮ জন আটক; উত্তাল রাজপথ
দ্রব্যমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে দেশব্যাপী ধর্মঘট, বন্ধ আইফেল টাওয়ার
মো. জুনেদ আহমদ, ফ্রান্স:
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, স্থবির মজুরি এবং সরকারি সেবায় ব্যয় সংকোচনের প্রতিবাদে ব্যাপক বিক্ষোভ ও ধর্মঘটে উত্তাল হয়ে উঠেছে ফ্রান্স। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানী প্যারিসসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে রাজপথে নেমে আসেন শ্রমিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সরকারি কর্মচারী ও সাধারণ মানুষ। দিনব্যাপী এই আন্দোলনে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে দেশটির বিভিন্ন স্থানে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়।
বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা নিয়ে সরকারি প্রশাসন ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর হিসাবে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, দেশজুড়ে প্রায় ৫ লাখ ৭৫ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। অন্যদিকে, প্রভাবশালী শ্রমিক সংগঠন সিজেটি (CGT) দাবি করেছে, এই সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ ৭৩ হাজার। প্যারিসে সরকারি হিসাবে ৬৫ হাজার এবং সিজেটির হিসাবে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন।
প্যারিস ছাড়াও মার্সেই, লিওঁ, বোর্দো, লিল, তুলুজসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। আন্দোলনকারীদের প্রধান ক্ষোভ খাদ্যপণ্য, জ্বালানি, বাসাভাড়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে। তাঁদের অভিযোগ, প্রতিনিয়ত জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লেও সেই তুলনায় মজুরি বাড়ছে না। ফলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলো ক্রমেই আর্থিক চাপের মুখে পড়ছে।
বিক্ষোভকারীরা ন্যায্য মজুরি বৃদ্ধি, ক্রয়ক্ষমতা নিশ্চিত করা, সরকারি সেবার মান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও শিল্প খাতের সুরক্ষা এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন ও শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবিও আন্দোলনে গুরুত্ব পেয়েছে।
ধর্মঘটের প্রভাবে দেশটির রেল যোগাযোগ, গণপরিবহন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ব্যাহত হয়। বিদ্যুৎ উৎপাদনেও প্রভাব পড়ে। পরিস্থিতির কারণে প্যারিসের বিশ্বখ্যাত পর্যটন আকর্ষণ আইফেল টাওয়ারও বৃহস্পতিবার দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ রাখা হয়।
বিক্ষোভ ঘিরে সম্ভাব্য সহিংসতা মোকাবিলায় দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়। অধিকাংশ বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকলেও কয়েকটি শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন ঘটনায় অন্তত ৪৪৮ জনকে আটক করা হয়েছে। এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৫৩ সদস্য আহত হয়েছেন বলেও মন্ত্রণালয়ের তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
চলমান আন্দোলনের মুখে পরিস্থিতি সামাল দিতে উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু। শ্রমিক সংগঠন ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের নিয়ে আগামী সোমবার (৯ নভেম্বর) একটি সামাজিক সম্মেলনের আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। সেখানে মজুরি, ক্রয়ক্ষমতা ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। তবে আন্দোলনকারীরা বলছেন, কেবল আলোচনার আশ্বাস নয়, তাঁদের দাবির বাস্তবায়ন চান তাঁরা।
অন্যদিকে, সরকারি ঋণ ও বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে ব্যয় সংকোচনের চাপ সরকারের জন্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে এই বিক্ষোভ ফ্রান্সের রাজনৈতিক অঙ্গনেও নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান আন্দোলন কেবল দ্রব্যমূল্য কিংবা মজুরি নিয়ে অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ নয়; বরং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, সরকারি সেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভের প্রতিফলন। সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সব মিলিয়ে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও জীবনযাত্রার সংকট মোকাবিলা করাই এখন ফরাসি সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফ্রান্স:
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, লাগামহীন জীবনযাত্রার ব্যয়, স্থবির মজুরি, পেনশন সংকট এবং সরকারি সেবায় ব্যয় সংকোচনের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে ফ্রান্স। এসব দাবিতে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ও ধর্মঘট পালন করেছেন শ্রমিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সরকারি কর্মচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানী প্যারিসসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে রাজপথে নামেন লাখো মানুষ। বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা নিয়ে সরকারি প্রশাসন ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর দেওয়া তথ্যে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে। ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, দেশজুড়ে প্রায় ৫ লাখ ৭৫ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। অন্যদিকে, প্রভাবশালী শ্রমিক সংগঠন সিজেটি (CGT) দাবি করেছে, বিক্ষোভকারীর সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ ৭৩ হাজার।
প্যারিস ছাড়াও মার্সেই, লিওঁ, বোর্দো, লিল ও তুলুজসহ বিভিন্ন বড় শহরে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। আন্দোলনকারীদের প্রধান ক্ষোভ খাদ্যপণ্য, জ্বালানি, বাসাভাড়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে। তাঁদের অভিযোগ, প্রতিনিয়ত জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লেও সেই অনুপাতে মজুরি বৃদ্ধি পাচ্ছে না। ফলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলো ক্রমেই আর্থিক সংকটের মুখে পড়ছে।
বিক্ষোভকারীরা ন্যায্য মজুরি বৃদ্ধি, পেনশন ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কর্মসংস্থান রক্ষা এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।
ধর্মঘটের প্রভাবে দেশটির রেল যোগাযোগ, গণপরিবহন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এমনকি প্যারিসের অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ আইফেল টাওয়ারও বৃহস্পতিবার দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ রাখা হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সম্ভাব্য সহিংসতা মোকাবিলায় দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়। কয়েকটি শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন ঘটনায় অন্তত ৪৪৮ জনকে আটক করা হয়েছে।
চলমান আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু শ্রমিক সংগঠন ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছেন। আগামী সোমবার মজুরি, ক্রয়ক্ষমতা ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে তাঁদের সঙ্গে আলোচনার কথা রয়েছে। তবে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, কেবল আলোচনার আশ্বাস নয়, তাঁদের দাবির বাস্তবায়ন চান তাঁরা।
এদিকে, সরকারি ঋণ ও বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে ব্যয় সংকোচনের চাপ সরকারের জন্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে এই বিক্ষোভ ফ্রান্সের রাজনৈতিক অঙ্গনেও নতুন চাপ তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান আন্দোলন কেবল দ্রব্যমূল্য বা মজুরি নিয়ে অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ নয়; বরং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের প্রতিফলন। সরকার দাবিগুলো পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সব মিলিয়ে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও জীবনযাত্রার সংকট মোকাবিলা করাই এখন ফরাসি সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তথ্য যাচাই করে দেখা গেছে, আপনার দেওয়া প্রতিবেদনের মূল তথ্যের অধিকাংশই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স, এএফপি এবং ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্যের সঙ্গে মিলে যায়। তবে কয়েকটি জায়গায় তথ্য আরও নির্দিষ্ট করা হয়েছে—বিশেষ করে বিক্ষোভকারীর সংখ্যা, প্যারিসে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা এবং পুলিশের আহত হওয়ার তথ্য। সরকারি ও শ্রমিক সংগঠনের পরিসংখ্যান আলাদা করে উল্লেখ করা হয়েছে।
### ফ্রান্সজুড়ে লাখো মানুষের বিক্ষোভ, ৪৪৮ জন আটক; উত্তাল রাজপথ
দ্রব্যমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে দেশব্যাপী ধর্মঘট, বন্ধ আইফেল টাওয়ার
মো. জুনেদ আহমদ, ফ্রান্স:
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, স্থবির মজুরি এবং সরকারি সেবায় ব্যয় সংকোচনের প্রতিবাদে ব্যাপক বিক্ষোভ ও ধর্মঘটে উত্তাল হয়ে উঠেছে ফ্রান্স। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানী প্যারিসসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে রাজপথে নেমে আসেন শ্রমিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সরকারি কর্মচারী ও সাধারণ মানুষ। দিনব্যাপী এই আন্দোলনে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে দেশটির বিভিন্ন স্থানে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়।
বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা নিয়ে সরকারি প্রশাসন ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর হিসাবে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, দেশজুড়ে প্রায় ৫ লাখ ৭৫ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। অন্যদিকে, প্রভাবশালী শ্রমিক সংগঠন সিজেটি (CGT) দাবি করেছে, এই সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ ৭৩ হাজার। প্যারিসে সরকারি হিসাবে ৬৫ হাজার এবং সিজেটির হিসাবে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন।
প্যারিস ছাড়াও মার্সেই, লিওঁ, বোর্দো, লিল, তুলুজসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। আন্দোলনকারীদের প্রধান ক্ষোভ খাদ্যপণ্য, জ্বালানি, বাসাভাড়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে। তাঁদের অভিযোগ, প্রতিনিয়ত জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লেও সেই তুলনায় মজুরি বাড়ছে না। ফলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলো ক্রমেই আর্থিক চাপের মুখে পড়ছে।
বিক্ষোভকারীরা ন্যায্য মজুরি বৃদ্ধি, ক্রয়ক্ষমতা নিশ্চিত করা, সরকারি সেবার মান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও শিল্প খাতের সুরক্ষা এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন ও শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবিও আন্দোলনে গুরুত্ব পেয়েছে।
ধর্মঘটের প্রভাবে দেশটির রেল যোগাযোগ, গণপরিবহন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ব্যাহত হয়। বিদ্যুৎ উৎপাদনেও প্রভাব পড়ে। পরিস্থিতির কারণে প্যারিসের বিশ্বখ্যাত পর্যটন আকর্ষণ আইফেল টাওয়ারও বৃহস্পতিবার দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ রাখা হয়।
বিক্ষোভ ঘিরে সম্ভাব্য সহিংসতা মোকাবিলায় দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়। অধিকাংশ বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকলেও কয়েকটি শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন ঘটনায় অন্তত ৪৪৮ জনকে আটক করা হয়েছে। এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৫৩ সদস্য আহত হয়েছেন বলেও মন্ত্রণালয়ের তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
চলমান আন্দোলনের মুখে পরিস্থিতি সামাল দিতে উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু। শ্রমিক সংগঠন ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের নিয়ে আগামী সোমবার (৯ নভেম্বর) একটি সামাজিক সম্মেলনের আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। সেখানে মজুরি, ক্রয়ক্ষমতা ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। তবে আন্দোলনকারীরা বলছেন, কেবল আলোচনার আশ্বাস নয়, তাঁদের দাবির বাস্তবায়ন চান তাঁরা।
অন্যদিকে, সরকারি ঋণ ও বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে ব্যয় সংকোচনের চাপ সরকারের জন্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে এই বিক্ষোভ ফ্রান্সের রাজনৈতিক অঙ্গনেও নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান আন্দোলন কেবল দ্রব্যমূল্য কিংবা মজুরি নিয়ে অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ নয়; বরং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, সরকারি সেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভের প্রতিফলন। সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সব মিলিয়ে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও জীবনযাত্রার সংকট মোকাবিলা করাই এখন ফরাসি সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।