Template: 3
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
০৫ নভেম্বর ২০২৬ · ১১:৩৩ অপরাহ্ন

জুলাই আন্দোলনের মামলায় দুই বছরের বেশি সময়েও গ্রেপ্তার হননি কালা মিয়া, পুলিশ কনস্টেবল ছেলের প্রভাবের অভিযোগ

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
ছবি

সিলেট : সিলেটে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হামলা ও হত্যাচেষ্টা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি কালা মিয়াকে দুই বছরের বেশি সময়েও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তিনি প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তাঁর ছেলে শরিফ উদ্দিন সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের কন্ট্রোল রুমে পুলিশ কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত থাকায় বাবার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। তবে এ অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে সিলেট নগরীর মদিনা মার্কেট পয়েন্ট থেকে মাউন্ট এডোরা হাসপাতালের সামনের এলাকা পর্যন্ত সিএনজিচালক ও সাধারণ ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় একজন সিএনজিচালক বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।


মামলার এজাহারের অভিযোগ অনুযায়ী, ওই এলাকায় পৌঁছালে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ২৫০ জন ব্যক্তি বেআইনিভাবে জড়ো হয়ে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালান। এ সময় ককটেল, বিস্ফোরক ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে গুলি ও আক্রমণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলায় মামলার বাদী গুরুতর আহত হন।


এ মামলার এজাহারভুক্ত আসামির তালিকার ৭৩ নম্বরে রয়েছেন কালা মিয়া। তাঁর বাবার নাম সরু মিয়া। তাঁর বাড়ি সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার তুরং এলাকায়। এছাড়া জুলাই আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনায় কালা মিয়ার বিরুদ্ধে মহানগর যুবদলের তৎকালীন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাকিল আহমদ খান বাদী হয়ে আরও একটি মামলা করেছেন বলে জানা গেছে।


স্থানীয় সূত্রের দাবি, কালা মিয়ার ছেলে শরিফ উদ্দিন বর্তমানে সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের কন্ট্রোল রুমে পুলিশ কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত। তাঁর পুলিশে কর্মরত থাকার কারণে বাবার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা।


তাঁদের অভিযোগ, মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া গেলেও কালা মিয়া এখনো গ্রেপ্তার না হওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জুলাই আন্দোলনে হামলা ও হত্যাচেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগে এজাহারভুক্ত একজন আসামি প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও কেন তাঁকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী ও সচেতন মহল।


এদিকে, মামলাটি বর্তমানে সিলেট কোতোয়ালি থানা পুলিশ তদন্ত করছে। স্থানীয়দের দাবি, আসামির রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা পারিবারিক প্রভাব বিবেচনায় না নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে কালা মিয়াকে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে পুলিশ সদস্য শরিফ উদ্দিন তাঁর বাবার পক্ষে কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তার কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন কি না, তা-ও তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।


এদিকে প্রতিবাদ জানিয়েছেন পুলিশ কনস্টেবল শরিফ উদ্দিন। ৫ নভেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবাদলিপিতে তিনি দাবি করেন, তাঁর ও পরিবারের বিরুদ্ধে প্রকাশিত অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁর ভাষ্য, পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে একটি পক্ষ তাঁদের বিরুদ্ধে অসত্য তথ্য ছড়াচ্ছে। প্রায় আট বছর ধরে বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও দাবি করেন, চাকরিজীবনে কখনো ক্ষমতার অপব্যবহার করেননি এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় অসদাচরণ বা শৃঙ্খলাভঙ্গের কোনো রেকর্ড নেই। পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান বলেও প্রতিবাদলিপিতে উল্লেখ করেন তিনি।


তবে কালা মিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বর্তমান অবস্থা, তাঁর গ্রেপ্তার না হওয়ার কারণ এবং পুলিশ সদস্য ছেলের বিরুদ্ধে ওঠা প্রভাব বিস্তারের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা ও পুলিশ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন।

সিলেট : সিলেটে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হামলা ও হত্যাচেষ্টা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি কালা মিয়াকে দুই বছরের বেশি সময়েও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তিনি প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তাঁর ছেলে শরিফ উদ্দিন সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের কন্ট্রোল রুমে পুলিশ কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত থাকায় বাবার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। তবে এ অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে সিলেট নগরীর মদিনা মার্কেট পয়েন্ট থেকে মাউন্ট এডোরা হাসপাতালের সামনের এলাকা পর্যন্ত সিএনজিচালক ও সাধারণ ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় একজন সিএনজিচালক বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।


মামলার এজাহারের অভিযোগ অনুযায়ী, ওই এলাকায় পৌঁছালে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ২৫০ জন ব্যক্তি বেআইনিভাবে জড়ো হয়ে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালান। এ সময় ককটেল, বিস্ফোরক ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে গুলি ও আক্রমণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলায় মামলার বাদী গুরুতর আহত হন।


এ মামলার এজাহারভুক্ত আসামির তালিকার ৭৩ নম্বরে রয়েছেন কালা মিয়া। তাঁর বাবার নাম সরু মিয়া। তাঁর বাড়ি সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার তুরং এলাকায়। এছাড়া জুলাই আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনায় কালা মিয়ার বিরুদ্ধে মহানগর যুবদলের তৎকালীন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাকিল আহমদ খান বাদী হয়ে আরও একটি মামলা করেছেন বলে জানা গেছে।


স্থানীয় সূত্রের দাবি, কালা মিয়ার ছেলে শরিফ উদ্দিন বর্তমানে সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের কন্ট্রোল রুমে পুলিশ কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত। তাঁর পুলিশে কর্মরত থাকার কারণে বাবার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা।


তাঁদের অভিযোগ, মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া গেলেও কালা মিয়া এখনো গ্রেপ্তার না হওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জুলাই আন্দোলনে হামলা ও হত্যাচেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগে এজাহারভুক্ত একজন আসামি প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও কেন তাঁকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী ও সচেতন মহল।


এদিকে, মামলাটি বর্তমানে সিলেট কোতোয়ালি থানা পুলিশ তদন্ত করছে। স্থানীয়দের দাবি, আসামির রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা পারিবারিক প্রভাব বিবেচনায় না নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে কালা মিয়াকে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে পুলিশ সদস্য শরিফ উদ্দিন তাঁর বাবার পক্ষে কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তার কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন কি না, তা-ও তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।


এদিকে প্রতিবাদ জানিয়েছেন পুলিশ কনস্টেবল শরিফ উদ্দিন। ৫ নভেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবাদলিপিতে তিনি দাবি করেন, তাঁর ও পরিবারের বিরুদ্ধে প্রকাশিত অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁর ভাষ্য, পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে একটি পক্ষ তাঁদের বিরুদ্ধে অসত্য তথ্য ছড়াচ্ছে। প্রায় আট বছর ধরে বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও দাবি করেন, চাকরিজীবনে কখনো ক্ষমতার অপব্যবহার করেননি এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় অসদাচরণ বা শৃঙ্খলাভঙ্গের কোনো রেকর্ড নেই। পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান বলেও প্রতিবাদলিপিতে উল্লেখ করেন তিনি।


তবে কালা মিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বর্তমান অবস্থা, তাঁর গ্রেপ্তার না হওয়ার কারণ এবং পুলিশ সদস্য ছেলের বিরুদ্ধে ওঠা প্রভাব বিস্তারের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা ও পুলিশ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন।

© চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
channeljaintanews24.com