হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে ঋণ মঞ্জুর হলেও এখন পর্যন্ত অর্থ ছাড় না হওয়ায় বিকল্প উৎস থেকে ঋণ নিয়ে অবশেষে চারটি চা বাগানের শ্রমিকদের মজুরি ও রেশন দিয়েছে দেউন্দি টি কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। টানা ১০ দিন কর্মবিরতি ও আন্দোলনের পর বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে শ্রমিকদের মধ্যে সাপ্তাহিক মজুরি ও রেশন বিতরণ করা হয়।
দেউন্দি টি কোম্পানির অধীন চারটি চা বাগান হলো—মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মিরতিঙ্গা চা বাগান, হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার লালচান্দ ও দেউন্দি চা বাগান এবং মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া চা বাগান। এসব বাগানে নিয়মিত কর্মরত প্রায় সাড়ে তিন হাজার শ্রমিক বৃহস্পতিবারের মজুরি ও রেশন পেয়েছেন।
বাগান সূত্রে জানা গেছে, আগামী সোমবার (৯ নভেম্বর) আরও এক সপ্তাহের মজুরি ও রেশন এবং বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) দুই সপ্তাহের মজুরি ও রেশন পরিশোধের পরিকল্পনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২৬ অক্টোবর সোমবার শ্রমিকদের সাপ্তাহিক মজুরি দেওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে টাকা না পাওয়ায় তাঁরা খালি হাতে বাড়ি ফিরে যান। এর প্রতিবাদে চারটি বাগানের শ্রমিকরা কাজে যোগদান বন্ধ করে দেন। একই সঙ্গে বাগান ব্যবস্থাপকদের বাংলো ও স্টাফদের বাসায় দৈনন্দিন কাজ এবং পাহারার দায়িত্ব থেকেও বিরত থাকেন। এতে বাগানগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
টানা ১০ দিনের কর্মবিরতিতে শ্রমিকদের আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যায়। বকেয়া মজুরি, রেশন ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধ না হওয়ায় শ্রমিক পরিবারগুলোতে খাদ্যসংকট দেখা দেয় বলে অভিযোগ করেন শ্রমিকরা।
কৃষি ব্যাংকের ঋণ ছাড় না হওয়ায় আর্থিক সংকট
দেউন্দি টি কোম্পানির আর্থিক সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মঞ্জুর করা ঋণের অর্থ ছাড় না হওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। কোম্পানি সূত্রের দাবি, ব্যাংকের ঋণ পাওয়ার আশ্বাসে অপেক্ষা করতে গিয়ে কর্তৃপক্ষ আর্থিক সংকটে পড়ে। শেষ পর্যন্ত বিকল্প উৎস থেকে ঋণ সংগ্রহ করে শ্রমিকদের মজুরি ও রেশন পরিশোধ করতে হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, ২০২২ সাল থেকে কোম্পানিটি নানা আর্থিক সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। চা উৎপাদন ও বিক্রির আয় প্রত্যাশিত হারে না বাড়লেও শ্রমিকদের মজুরি বেড়েছে। ফলে আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য রক্ষা করতে বাগান কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
কোম্পানির অধীন বাগানগুলোতে উৎপাদিত চা নিলামে বিক্রির পর সেই অর্থ থেকে কৃষি ব্যাংকের ঋণের টাকা পরিশোধ করা হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, ঋণপ্রবাহ স্বাভাবিক না থাকলে চা বাগানের উৎপাদন ও শ্রমিকদের নিয়মিত মজুরি পরিশোধে সংকট তৈরি হয়।
একের পর এক ক্ষতিতে বিপর্যস্ত বাগান
দেউন্দি টি কোম্পানির আর্থিক সংকটের পেছনে বিভিন্ন ক্ষয়ক্ষতি ও অবকাঠামোগত সমস্যাও রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, কোম্পানির অধীন বাগানগুলোর ১৫ থেকে ১৬টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। অন্যদিকে লালচান্দ চা বাগানের বৈদ্যুতিক সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় চা কারখানা পুড়ে যায়। এতে প্রায় ১২ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে জানা গেছে। পরবর্তী সময়ে কারখানা মেরামতেও বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে।
এ ছাড়া নোয়াপাড়া চা বাগানে জালালাবাদ গ্যাসের বিল পরিশোধ না করায় কয়েক বছর চা কারখানার কার্যক্রম বন্ধ ছিল। পরে বকেয়া বিল পরিশোধের মাধ্যমে গ্যাস সংযোগ পুনরায় চালু করা হয়। কারখানা বন্ধ থাকাকালে উৎপাদিত কাঁচা চা-পাতা অন্যত্র তুলনামূলক কম দামে বিক্রি করে শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ করতে হয়েছে বলে বাগানসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
জেলা প্রশাসকের কাছে শ্রমিকদের আবেদন
মজুরি ও রেশনসহ অন্যান্য পাওনা পরিশোধ এবং চারটি চা বাগান চালুর দাবিতে গত ১ নভেম্বর হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেন শ্রমিকদের প্রতিনিধিরা।
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক বাগান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন বলে জানা গেছে।
এদিকে শ্রমিকদের দুরবস্থার কথা জানতে পেরে ব্যক্তিগত উদ্যোগে তাঁদের পাশে দাঁড়ান হবিগঞ্জ-৪ (চুনারুঘাট-মাধবপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও শিল্পোদ্যোক্তা আলহাজ সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সলের ছেলে সায়হাম নিট কম্পোজিটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ শাফক্বাত আহমেদ।
গত ৩ নভেম্বর চারটি চা বাগানের শ্রমিক পরিবারগুলোর মধ্যে জনপ্রতি পাঁচ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়। এ কার্যক্রমে প্রায় ১৭ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
তবে চাল বিতরণ নিয়ে শ্রমিকদের একাংশ অভিযোগ করেছেন, দেউন্দি চা বাগানের সাবেক শ্রমিক নেতা উজ্জ্বল কুমার দাশের মাধ্যমে বিতরণ করা পাঁচ কেজি চালের পরিবর্তে কোনো কোনো পরিবার চার কেজি করে চাল পেয়েছেন। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে বাগানের বিভিন্ন বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা সৃষ্টি ও ক্ষতিসাধনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগও করেছেন কয়েকজন শ্রমিক। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে উজ্জ্বল কুমার দাশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শ্রমিকদের প্রত্যাশা নিয়মিত মজুরি ও রেশন
চারটি চা বাগানের শ্রমিকদের দাবি, শুধু একদিনের মজুরি ও রেশন প্রদান করলেই তাঁদের দীর্ঘদিনের সংকটের সমাধান হবে না। নিয়মিত মজুরি, রেশন এবং অন্যান্য পাওনা যথাসময়ে পরিশোধ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি বন্ধ হয়ে যাওয়া বাগানগুলোর স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম চালু রাখার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
দীর্ঘদিনের সুনাম ও ঐতিহ্য থাকা দেউন্দি টি কোম্পানির অধীন চারটি চা বাগানকে আর্থিক সংকট থেকে উত্তরণে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মঞ্জুর করা ঋণের অর্থ দ্রুত ছাড় করা এবং বাগানগুলোর উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করার বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিকল্প উৎস থেকে ঋণ নিয়ে শ্রমিকদের মজুরি ও রেশন পরিশোধ করায় আপাতত তাঁদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তবে আগামী দিনগুলোতে নির্ধারিত সময়ে বকেয়া মজুরি ও রেশন দেওয়া এবং বাগানগুলোর কার্যক্রম সচল রাখাই এখন শ্রমিক ও কর্তৃপক্ষের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে ঋণ মঞ্জুর হলেও এখন পর্যন্ত অর্থ ছাড় না হওয়ায় বিকল্প উৎস থেকে ঋণ নিয়ে অবশেষে চারটি চা বাগানের শ্রমিকদের মজুরি ও রেশন দিয়েছে দেউন্দি টি কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। টানা ১০ দিন কর্মবিরতি ও আন্দোলনের পর বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে শ্রমিকদের মধ্যে সাপ্তাহিক মজুরি ও রেশন বিতরণ করা হয়।
দেউন্দি টি কোম্পানির অধীন চারটি চা বাগান হলো—মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মিরতিঙ্গা চা বাগান, হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার লালচান্দ ও দেউন্দি চা বাগান এবং মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া চা বাগান। এসব বাগানে নিয়মিত কর্মরত প্রায় সাড়ে তিন হাজার শ্রমিক বৃহস্পতিবারের মজুরি ও রেশন পেয়েছেন।
বাগান সূত্রে জানা গেছে, আগামী সোমবার (৯ নভেম্বর) আরও এক সপ্তাহের মজুরি ও রেশন এবং বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) দুই সপ্তাহের মজুরি ও রেশন পরিশোধের পরিকল্পনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২৬ অক্টোবর সোমবার শ্রমিকদের সাপ্তাহিক মজুরি দেওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে টাকা না পাওয়ায় তাঁরা খালি হাতে বাড়ি ফিরে যান। এর প্রতিবাদে চারটি বাগানের শ্রমিকরা কাজে যোগদান বন্ধ করে দেন। একই সঙ্গে বাগান ব্যবস্থাপকদের বাংলো ও স্টাফদের বাসায় দৈনন্দিন কাজ এবং পাহারার দায়িত্ব থেকেও বিরত থাকেন। এতে বাগানগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
টানা ১০ দিনের কর্মবিরতিতে শ্রমিকদের আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যায়। বকেয়া মজুরি, রেশন ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধ না হওয়ায় শ্রমিক পরিবারগুলোতে খাদ্যসংকট দেখা দেয় বলে অভিযোগ করেন শ্রমিকরা।
কৃষি ব্যাংকের ঋণ ছাড় না হওয়ায় আর্থিক সংকট
দেউন্দি টি কোম্পানির আর্থিক সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মঞ্জুর করা ঋণের অর্থ ছাড় না হওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। কোম্পানি সূত্রের দাবি, ব্যাংকের ঋণ পাওয়ার আশ্বাসে অপেক্ষা করতে গিয়ে কর্তৃপক্ষ আর্থিক সংকটে পড়ে। শেষ পর্যন্ত বিকল্প উৎস থেকে ঋণ সংগ্রহ করে শ্রমিকদের মজুরি ও রেশন পরিশোধ করতে হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, ২০২২ সাল থেকে কোম্পানিটি নানা আর্থিক সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। চা উৎপাদন ও বিক্রির আয় প্রত্যাশিত হারে না বাড়লেও শ্রমিকদের মজুরি বেড়েছে। ফলে আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য রক্ষা করতে বাগান কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
কোম্পানির অধীন বাগানগুলোতে উৎপাদিত চা নিলামে বিক্রির পর সেই অর্থ থেকে কৃষি ব্যাংকের ঋণের টাকা পরিশোধ করা হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, ঋণপ্রবাহ স্বাভাবিক না থাকলে চা বাগানের উৎপাদন ও শ্রমিকদের নিয়মিত মজুরি পরিশোধে সংকট তৈরি হয়।
একের পর এক ক্ষতিতে বিপর্যস্ত বাগান
দেউন্দি টি কোম্পানির আর্থিক সংকটের পেছনে বিভিন্ন ক্ষয়ক্ষতি ও অবকাঠামোগত সমস্যাও রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, কোম্পানির অধীন বাগানগুলোর ১৫ থেকে ১৬টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। অন্যদিকে লালচান্দ চা বাগানের বৈদ্যুতিক সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় চা কারখানা পুড়ে যায়। এতে প্রায় ১২ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে জানা গেছে। পরবর্তী সময়ে কারখানা মেরামতেও বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে।
এ ছাড়া নোয়াপাড়া চা বাগানে জালালাবাদ গ্যাসের বিল পরিশোধ না করায় কয়েক বছর চা কারখানার কার্যক্রম বন্ধ ছিল। পরে বকেয়া বিল পরিশোধের মাধ্যমে গ্যাস সংযোগ পুনরায় চালু করা হয়। কারখানা বন্ধ থাকাকালে উৎপাদিত কাঁচা চা-পাতা অন্যত্র তুলনামূলক কম দামে বিক্রি করে শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ করতে হয়েছে বলে বাগানসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
জেলা প্রশাসকের কাছে শ্রমিকদের আবেদন
মজুরি ও রেশনসহ অন্যান্য পাওনা পরিশোধ এবং চারটি চা বাগান চালুর দাবিতে গত ১ নভেম্বর হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেন শ্রমিকদের প্রতিনিধিরা।
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক বাগান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন বলে জানা গেছে।
এদিকে শ্রমিকদের দুরবস্থার কথা জানতে পেরে ব্যক্তিগত উদ্যোগে তাঁদের পাশে দাঁড়ান হবিগঞ্জ-৪ (চুনারুঘাট-মাধবপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও শিল্পোদ্যোক্তা আলহাজ সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সলের ছেলে সায়হাম নিট কম্পোজিটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ শাফক্বাত আহমেদ।
গত ৩ নভেম্বর চারটি চা বাগানের শ্রমিক পরিবারগুলোর মধ্যে জনপ্রতি পাঁচ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়। এ কার্যক্রমে প্রায় ১৭ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
তবে চাল বিতরণ নিয়ে শ্রমিকদের একাংশ অভিযোগ করেছেন, দেউন্দি চা বাগানের সাবেক শ্রমিক নেতা উজ্জ্বল কুমার দাশের মাধ্যমে বিতরণ করা পাঁচ কেজি চালের পরিবর্তে কোনো কোনো পরিবার চার কেজি করে চাল পেয়েছেন। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে বাগানের বিভিন্ন বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা সৃষ্টি ও ক্ষতিসাধনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগও করেছেন কয়েকজন শ্রমিক। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে উজ্জ্বল কুমার দাশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শ্রমিকদের প্রত্যাশা নিয়মিত মজুরি ও রেশন
চারটি চা বাগানের শ্রমিকদের দাবি, শুধু একদিনের মজুরি ও রেশন প্রদান করলেই তাঁদের দীর্ঘদিনের সংকটের সমাধান হবে না। নিয়মিত মজুরি, রেশন এবং অন্যান্য পাওনা যথাসময়ে পরিশোধ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি বন্ধ হয়ে যাওয়া বাগানগুলোর স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম চালু রাখার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
দীর্ঘদিনের সুনাম ও ঐতিহ্য থাকা দেউন্দি টি কোম্পানির অধীন চারটি চা বাগানকে আর্থিক সংকট থেকে উত্তরণে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মঞ্জুর করা ঋণের অর্থ দ্রুত ছাড় করা এবং বাগানগুলোর উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করার বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিকল্প উৎস থেকে ঋণ নিয়ে শ্রমিকদের মজুরি ও রেশন পরিশোধ করায় আপাতত তাঁদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তবে আগামী দিনগুলোতে নির্ধারিত সময়ে বকেয়া মজুরি ও রেশন দেওয়া এবং বাগানগুলোর কার্যক্রম সচল রাখাই এখন শ্রমিক ও কর্তৃপক্ষের প্রধান চ্যালেঞ্জ।