সিলেট : সিলেট নগরের আখালিয়া এলাকার বেসরকারি হাসপাতাল মাউন্ট এডোরার ‘অল উইমেন মেটারনিটি কেয়ার’ ইউনিটে নতুন রোগী ভর্তি বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়। এক নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগে গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) তদন্ত কমিটির প্রধান ও সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. জন্মেজয় দত্ত বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সম্প্রতি চালু হওয়া ওই ইউনিটে প্রয়োজনীয় গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, স্থায়ী অ্যানেসথেশিওলজিস্ট ও দক্ষ জনবলের ঘাটতি রয়েছে। এ ছাড়া জরুরি অস্ত্রোপচারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থাও তদন্তে পাওয়া যায়নি। এসব অসংগতির কারণে ইউনিটটির কার্যক্রম বন্ধ রাখার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগসহ অন্যান্য ঘাটতি পূরণ করে ইউনিটটি পুনরায় চালুর জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে আবেদন করতে হবে। এরপর পরিদর্শন ও যাচাই-বাছাই করে চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ডা. জন্মেজয় দত্ত জানান, গত বৃহস্পতিবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী চলতি সপ্তাহে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ইউনিটটিতে রোগী ভর্তি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করলে পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইউনিটটি বন্ধ রেখেছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে গত ৯ অক্টোবর শুক্রবার সন্ধ্যায় মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে সন্তান প্রসবের সময় এক নবজাতকের মৃত্যু হয়। সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার গৃহবধূ নাজমা বেগমকে প্রসবের জন্য ঘটনার দুই দিন আগে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
নবজাতকের স্বজনদের অভিযোগ, আল্ট্রাসনোগ্রাম প্রতিবেদনে শিশুর ওজন সাড়ে তিন থেকে চার কেজি উল্লেখ থাকায় তাঁরা শুরু থেকেই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসবের অনুরোধ করেছিলেন। তবে চিকিৎসকেরা স্বাভাবিক প্রসব সম্ভব বলে তাঁদের আশ্বস্ত করেন। স্বজনদের দাবি, সময়মতো অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত না নিয়ে কালক্ষেপণ করা হয়।
তাঁদের ভাষ্য, প্রসবের একপর্যায়ে নবজাতকের মাথা বের হলেও কাঁধ আটকে যায়। এ অবস্থায় অপরিকল্পিতভাবে টানাটানির কারণে শিশুটির গলা, পিঠ ও মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়। পরিস্থিতি জটিল হওয়ার পর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে খবর দেওয়া হলেও ততক্ষণে শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ করেন স্বজনেরা।
নবজাতকের মৃত্যুর কারণ জানতে চাইলে হাসপাতালের কর্মীরা তাঁদের সঙ্গে রূঢ় আচরণ করেন এবং নিরাপত্তার কথা বলে কক্ষ থেকে বের করে দেন বলেও অভিযোগ পরিবারের সদস্যদের। পরে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ এনে তাঁরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জনকে প্রধান করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
তবে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাসপাতালের ব্যবস্থাপক শফিক আহমেদ। তাঁর দাবি, নবজাতকটি প্রসবের আগেই মারা গিয়েছিল। প্রসবের সময় বের করার প্রক্রিয়ায় শিশুটির মাথা, ঘাড় ও উরুতে আঘাত লাগে। স্বজনেরা চাইলে ফরেনসিক পরীক্ষা করাতে এবং আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেন বলেও জানান তিনি।
এদিকে তদন্তে মাতৃসেবা ইউনিটে প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, দক্ষ জনবল ও জরুরি অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থার ঘাটতি উঠে আসায় ওই ইউনিটে রোগী ভর্তি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও জনবল নিশ্চিত না করে কীভাবে সেখানে প্রসূতিদের ভর্তি করে সেবা দেওয়া হচ্ছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগের চূড়ান্ত দায় নির্ধারণের বিষয়টি তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন।
সিলেট : সিলেট নগরের আখালিয়া এলাকার বেসরকারি হাসপাতাল মাউন্ট এডোরার ‘অল উইমেন মেটারনিটি কেয়ার’ ইউনিটে নতুন রোগী ভর্তি বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়। এক নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগে গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) তদন্ত কমিটির প্রধান ও সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. জন্মেজয় দত্ত বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সম্প্রতি চালু হওয়া ওই ইউনিটে প্রয়োজনীয় গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, স্থায়ী অ্যানেসথেশিওলজিস্ট ও দক্ষ জনবলের ঘাটতি রয়েছে। এ ছাড়া জরুরি অস্ত্রোপচারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থাও তদন্তে পাওয়া যায়নি। এসব অসংগতির কারণে ইউনিটটির কার্যক্রম বন্ধ রাখার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগসহ অন্যান্য ঘাটতি পূরণ করে ইউনিটটি পুনরায় চালুর জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে আবেদন করতে হবে। এরপর পরিদর্শন ও যাচাই-বাছাই করে চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ডা. জন্মেজয় দত্ত জানান, গত বৃহস্পতিবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী চলতি সপ্তাহে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ইউনিটটিতে রোগী ভর্তি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করলে পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইউনিটটি বন্ধ রেখেছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে গত ৯ অক্টোবর শুক্রবার সন্ধ্যায় মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে সন্তান প্রসবের সময় এক নবজাতকের মৃত্যু হয়। সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার গৃহবধূ নাজমা বেগমকে প্রসবের জন্য ঘটনার দুই দিন আগে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
নবজাতকের স্বজনদের অভিযোগ, আল্ট্রাসনোগ্রাম প্রতিবেদনে শিশুর ওজন সাড়ে তিন থেকে চার কেজি উল্লেখ থাকায় তাঁরা শুরু থেকেই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসবের অনুরোধ করেছিলেন। তবে চিকিৎসকেরা স্বাভাবিক প্রসব সম্ভব বলে তাঁদের আশ্বস্ত করেন। স্বজনদের দাবি, সময়মতো অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত না নিয়ে কালক্ষেপণ করা হয়।
তাঁদের ভাষ্য, প্রসবের একপর্যায়ে নবজাতকের মাথা বের হলেও কাঁধ আটকে যায়। এ অবস্থায় অপরিকল্পিতভাবে টানাটানির কারণে শিশুটির গলা, পিঠ ও মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়। পরিস্থিতি জটিল হওয়ার পর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে খবর দেওয়া হলেও ততক্ষণে শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ করেন স্বজনেরা।
নবজাতকের মৃত্যুর কারণ জানতে চাইলে হাসপাতালের কর্মীরা তাঁদের সঙ্গে রূঢ় আচরণ করেন এবং নিরাপত্তার কথা বলে কক্ষ থেকে বের করে দেন বলেও অভিযোগ পরিবারের সদস্যদের। পরে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ এনে তাঁরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জনকে প্রধান করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
তবে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাসপাতালের ব্যবস্থাপক শফিক আহমেদ। তাঁর দাবি, নবজাতকটি প্রসবের আগেই মারা গিয়েছিল। প্রসবের সময় বের করার প্রক্রিয়ায় শিশুটির মাথা, ঘাড় ও উরুতে আঘাত লাগে। স্বজনেরা চাইলে ফরেনসিক পরীক্ষা করাতে এবং আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেন বলেও জানান তিনি।
এদিকে তদন্তে মাতৃসেবা ইউনিটে প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, দক্ষ জনবল ও জরুরি অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থার ঘাটতি উঠে আসায় ওই ইউনিটে রোগী ভর্তি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও জনবল নিশ্চিত না করে কীভাবে সেখানে প্রসূতিদের ভর্তি করে সেবা দেওয়া হচ্ছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগের চূড়ান্ত দায় নির্ধারণের বিষয়টি তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন।