জকিগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি:
সিলেটের জকিগঞ্জে আলোচিত ব্যবসায়ী নুমান উদ্দিন হত্যা মামলার তদন্তে নতুন মোড় এসেছে। হত্যাকাণ্ডের এক বছরের বেশি সময় পর শাহ আলম (৪৮) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার কালিগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার স্বস্তি প্রকাশ করলেও হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।
আটক শাহ আলম উপজেলার ৯ নম্বর মানিকপুর ইউনিয়নের পূর্ব শাহজালালপুর গ্রামের আলাউদ্দীন (আলাই মিয়া) ছেলে। সিআইডির তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক আব্দুস সালেক আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, হত্যা মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে সন্দেহভাজন শাহ আলমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
নিহত নুমান উদ্দিন (৫০) উপজেলার পূর্ব মানিকপুর গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে। দীর্ঘদিন সৌদি আরবে থাকার পর দেশে ফিরে তিনি কালিগঞ্জ বাজারে ব্যবসা শুরু করেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর সকালে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন নুমান উদ্দিন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান পাননি। পরে কালিগঞ্জ বাজার এলাকার শায়লা স্মৃতি হাসপাতালের পেছনের একটি ধানক্ষেত থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় জকিগঞ্জসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস মুন্নি বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্তের একপর্যায়ে নিহতের শ্যালক হানিফ উদ্দিন সুমনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরবর্তী সময়ে মামলার তদন্তভার পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) হস্তান্তর করা হয়। ২০২৬ সালের ১১ জানুয়ারি সিআইডি আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তের দায়িত্ব গ্রহণ করে।
ময়নাতদন্তের তথ্য অনুযায়ী, নুমান উদ্দিনের মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং মস্তিষ্কে প্রায় ১৫০ সিসি রক্ত জমাট বাঁধার তথ্য পাওয়া যায়। চিকিৎসকের চূড়ান্ত মতামতে তাঁর মৃত্যুকে হত্যাজনিত বলে উল্লেখ করা হয়। ফলে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা উদ্ঘাটনে তদন্তের গুরুত্ব বাড়ে।
এদিকে, শাহ আলমকে আটকের ঘটনায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন নিহতের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম ও মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস মুন্নি। তাঁদের দাবি, শাহ আলম তাঁর বাবার হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি। তবে হত্যাকাণ্ডে শাহ আলমের সম্পৃক্ততার বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন।
নিহতের স্ত্রী ও মেয়ে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা ন্যায়বিচারের আশায় অপেক্ষা করছেন। শাহ আলমকে আটকের ঘটনায় তাঁরা সিআইডিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা ও আস্থা রেখে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
তাঁদের অভিযোগ, শুধু একজনকে আটক করলেই হবে না; হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদেরও শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। এ কঠিন সময়ে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে সহযোগিতা করতে দেশবাসীর প্রতিও আহ্বান জানান তাঁরা।
নিহতের পরিবারের প্রত্যাশা, সিআইডির নিরপেক্ষ তদন্তে নুমান উদ্দিন হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটিত হবে এবং জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় এনে তাঁরা ন্যায়বিচার পাবেন।
জকিগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি:
সিলেটের জকিগঞ্জে আলোচিত ব্যবসায়ী নুমান উদ্দিন হত্যা মামলার তদন্তে নতুন মোড় এসেছে। হত্যাকাণ্ডের এক বছরের বেশি সময় পর শাহ আলম (৪৮) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার কালিগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার স্বস্তি প্রকাশ করলেও হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।
আটক শাহ আলম উপজেলার ৯ নম্বর মানিকপুর ইউনিয়নের পূর্ব শাহজালালপুর গ্রামের আলাউদ্দীন (আলাই মিয়া) ছেলে। সিআইডির তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক আব্দুস সালেক আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, হত্যা মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে সন্দেহভাজন শাহ আলমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
নিহত নুমান উদ্দিন (৫০) উপজেলার পূর্ব মানিকপুর গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে। দীর্ঘদিন সৌদি আরবে থাকার পর দেশে ফিরে তিনি কালিগঞ্জ বাজারে ব্যবসা শুরু করেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর সকালে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন নুমান উদ্দিন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান পাননি। পরে কালিগঞ্জ বাজার এলাকার শায়লা স্মৃতি হাসপাতালের পেছনের একটি ধানক্ষেত থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় জকিগঞ্জসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস মুন্নি বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্তের একপর্যায়ে নিহতের শ্যালক হানিফ উদ্দিন সুমনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরবর্তী সময়ে মামলার তদন্তভার পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) হস্তান্তর করা হয়। ২০২৬ সালের ১১ জানুয়ারি সিআইডি আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তের দায়িত্ব গ্রহণ করে।
ময়নাতদন্তের তথ্য অনুযায়ী, নুমান উদ্দিনের মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং মস্তিষ্কে প্রায় ১৫০ সিসি রক্ত জমাট বাঁধার তথ্য পাওয়া যায়। চিকিৎসকের চূড়ান্ত মতামতে তাঁর মৃত্যুকে হত্যাজনিত বলে উল্লেখ করা হয়। ফলে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা উদ্ঘাটনে তদন্তের গুরুত্ব বাড়ে।
এদিকে, শাহ আলমকে আটকের ঘটনায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন নিহতের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম ও মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস মুন্নি। তাঁদের দাবি, শাহ আলম তাঁর বাবার হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি। তবে হত্যাকাণ্ডে শাহ আলমের সম্পৃক্ততার বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন।
নিহতের স্ত্রী ও মেয়ে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা ন্যায়বিচারের আশায় অপেক্ষা করছেন। শাহ আলমকে আটকের ঘটনায় তাঁরা সিআইডিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা ও আস্থা রেখে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
তাঁদের অভিযোগ, শুধু একজনকে আটক করলেই হবে না; হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদেরও শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। এ কঠিন সময়ে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে সহযোগিতা করতে দেশবাসীর প্রতিও আহ্বান জানান তাঁরা।
নিহতের পরিবারের প্রত্যাশা, সিআইডির নিরপেক্ষ তদন্তে নুমান উদ্দিন হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটিত হবে এবং জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় এনে তাঁরা ন্যায়বিচার পাবেন।