ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়ক প্রশস্তকরণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের কাজ শুরুর পরপরই নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে ব্লক তৈরি, কাদাযুক্ত মাটি দিয়ে সড়ক সম্প্রসারণ এবং অবৈধভাবে নদী ও কৃষিজমি থেকে মাটি উত্তোলন করে প্রকল্পের কাজে সরবরাহের অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রায় ১৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন গুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্পে নির্মাণকাজের গুণগত মান নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনই কার্যকর তদারকি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে সরকারি অর্থের অপচয় এবং নির্মিত সড়কের স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
জানা যায়, দেশের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অরিয়েন্ট ট্রেডিং অ্যান্ড বিল্ডার্স লিমিটেড (ওটিবিএল) প্রায় এক মাস আগে প্রকল্পের কাজ শুরু করে। গোবিন্দগঞ্জ থেকে ছাতক সুরমা সেতুর চত্বর পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়ক দুই লেনে উন্নীত করা হচ্ছে। অন্যদিকে, সেতুর চত্বর থেকে ছাতক বাজার পর্যন্ত চার লেনের কাজ চলছে। দুই অংশের উন্নয়নকাজে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭৪ কোটি টাকা। গত ১৯ সেপ্টেম্বর প্রকল্পের নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
ব্লক তৈরিতে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ
সড়কের বিভিন্ন স্থানে ব্যবহারের জন্য মাধবপুর লালপুল এলাকায় প্রায় আড়াই লাখ ব্লক তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এরই মধ্যে শারফিনটিলার মরা লাল পাথরের সঙ্গে ভবন ভাঙার কংক্রিট, নিম্নমানের বালি ও সিমেন্ট ব্যবহার করে প্রায় ২০ হাজার ব্লক তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এতে নির্মাণকাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া সড়ক সম্প্রসারণের কাজে কাদাযুক্ত মাটি দিয়ে ভরাট এবং সড়কের পাশে ময়লা-আবর্জনার ওপর ভিটমাটি ফেলার অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে কাজ চলতে থাকলে সামান্য বৃষ্টি কিংবা পানির প্রবাহে সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
অভিযোগ রয়েছে, এসব কাজের যথাযথ তদারকি দৃশ্যমান নয়। এমনকি প্রকল্প-সংক্রান্ত তথ্যসংবলিত সাইনবোর্ডও চোখে পড়েনি। সচেতন মহলের দাবি, টেকসই সড়ক নির্মাণে কাদামাটির পরিবর্তে নির্ধারিত মানের উপযোগী মাটি ব্যবহার এবং নির্মাণসামগ্রীর গুণগত মান নিশ্চিত করা জরুরি।
ব্লক তৈরির কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা জানান, ঠিকাদারের নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁরা কাজ করছেন। তবে নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে রাজি হননি তাঁরা।
নদী ও কৃষিজমি থেকে মাটি উত্তোলনের অভিযোগ
এদিকে, অবৈধভাবে কৃষিজমি ও সরকারি জমি থেকে কাদামাটি সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি রাতের আঁধারে সুরমা নদী থেকে অবৈধভাবে ভিটবালু উত্তোলন করে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের কাজীবাড়ি এলাকায় মজুত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব মাটি সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পে সরবরাহের মাধ্যমে একটি চক্র আর্থিক সুবিধা নিচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সিলেট সদর উপজেলার বাসিন্দা চমক আলীর বিরুদ্ধে সিলেট, ছাতক, কোম্পানীগঞ্জ ও জালালাবাদ এলাকায় অবৈধভাবে ভিটমাটি উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। ২০২৫ সালে ছাতকের লালপুল এলাকা থেকে তাঁর একটি ড্রেজারসহ ড্রেজারের মালিক হাবিবকে আটক করেছিলেন তৎকালীন ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম। পরে তদবিরের মাধ্যমে তাঁকে ছাড়িয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি কাজীবাড়ি এলাকায় ভিটমাটি মজুতের স্থানে অভিযান চালান বিশ্বনাথের সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিহাব বিন আমিন। তবে এ ঘটনায় পরবর্তী সময়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে বিশ্বনাথের ভূমি কর্মকর্তা জানান, ঘটনাস্থলে উপস্থিত কাগজপত্র যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অন্য কোথাও থেকে ভিটমাটি এনে সেখানে রাখা হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তাঁদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে, চমক আলী বিভিন্ন বৈধ-অবৈধ ওয়ার্ক অর্ডার ও জালিয়াতির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে নদী থেকে ভিটমাটির ব্যবসা করে আসছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গোবিন্দগঞ্জ-ছাতক সড়কের সুরমা সেতুর চত্বর (পাগল হাসান চত্বর) পর্যন্ত দুই লেনের সড়কের মাটি ভরাটের কাজ এবং ভিটমাটি সরবরাহের দায়িত্বও তিনি পালন করছেন বলে জানা গেছে। তাঁর মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি কৃষিজমি থেকে কাদাযুক্ত মাটি সরবরাহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ কাজকে কেন্দ্র করে তাঁর নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট গড়ে ওঠার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।
তবে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চমক আলী। তিনি বলেন, ছাতক সুরমা সেতুর চত্বর থেকে গোবিন্দগঞ্জ পর্যন্ত শুধু মাটি ভরাটের কাজ করছেন তিনি। ভেজা মাটির কারণে সোমবার রাত থেকে কর্তৃপক্ষ কয়েক দিনের জন্য তাঁর মাটি ভরাটের কাজ স্থগিত করেছে। অগ্রহায়ণ মাসের পর আবারও মাটি ভরাটের কাজ শুরু করবেন।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সওজের বক্তব্য
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওটিবিএলের ডিপিএম এবং গোবিন্দগঞ্জ থেকে ছাতক সুরমা সেতুর চত্বর পর্যন্ত দুই লেনের কাজের সাইট ইঞ্জিনিয়ার সজল হাওলাদার বলেন, সড়ক সম্প্রসারণের কাজ চলমান রয়েছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে ব্লক তৈরির অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যে সিঙ্গেল ধরা আছে, সে সিঙ্গেল দিয়েই কাজ চলছে। পাশাপাশি প্রতিনিয়ত পানি দিয়ে ধুয়ে নেওয়া হচ্ছে।’
ছাতক সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী সাদাৎ হোসেন নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়ে বলেন, ভোলাগঞ্জের কোয়ারি বন্ধ। এ ছাড়া সুনামগঞ্জে সাদা পাথর পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে শারফিনটিলার পাথর দিয়ে ব্লক তৈরি করা হচ্ছে।
রাতের বেলায় পাথর আনা হলে পরদিন সকালে তা ধুয়ে ব্লক তৈরির কাজে ব্যবহার করা হয় বলেও জানান তিনি। তাঁর দাবি, শতভাগ না হলেও ৯৫ শতাংশ কাজ ভালো হচ্ছে।
প্রকল্পের মান নিয়ে উদ্বেগ
স্থানীয়দের মতে, ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কটি এ অঞ্চলের যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এ প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারি বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে। তাই শুরু থেকেই নির্মাণকাজের প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও গুণগত মান নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, নির্মাণসামগ্রীর পরীক্ষাগারভিত্তিক মান যাচাই, মাটি ভরাটের কাজে প্রকৌশলগত মানদণ্ড অনুসরণ এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। তাঁদের প্রত্যাশা, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ নয়, বরং জনগণের অর্থে নির্মিত সড়কটি যেন দীর্ঘস্থায়ী ও মানসম্মত হয়, তা নিশ্চিত করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়ক প্রশস্তকরণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের কাজ শুরুর পরপরই নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে ব্লক তৈরি, কাদাযুক্ত মাটি দিয়ে সড়ক সম্প্রসারণ এবং অবৈধভাবে নদী ও কৃষিজমি থেকে মাটি উত্তোলন করে প্রকল্পের কাজে সরবরাহের অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রায় ১৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন গুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্পে নির্মাণকাজের গুণগত মান নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনই কার্যকর তদারকি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে সরকারি অর্থের অপচয় এবং নির্মিত সড়কের স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
জানা যায়, দেশের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অরিয়েন্ট ট্রেডিং অ্যান্ড বিল্ডার্স লিমিটেড (ওটিবিএল) প্রায় এক মাস আগে প্রকল্পের কাজ শুরু করে। গোবিন্দগঞ্জ থেকে ছাতক সুরমা সেতুর চত্বর পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়ক দুই লেনে উন্নীত করা হচ্ছে। অন্যদিকে, সেতুর চত্বর থেকে ছাতক বাজার পর্যন্ত চার লেনের কাজ চলছে। দুই অংশের উন্নয়নকাজে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭৪ কোটি টাকা। গত ১৯ সেপ্টেম্বর প্রকল্পের নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
ব্লক তৈরিতে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ
সড়কের বিভিন্ন স্থানে ব্যবহারের জন্য মাধবপুর লালপুল এলাকায় প্রায় আড়াই লাখ ব্লক তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এরই মধ্যে শারফিনটিলার মরা লাল পাথরের সঙ্গে ভবন ভাঙার কংক্রিট, নিম্নমানের বালি ও সিমেন্ট ব্যবহার করে প্রায় ২০ হাজার ব্লক তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এতে নির্মাণকাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া সড়ক সম্প্রসারণের কাজে কাদাযুক্ত মাটি দিয়ে ভরাট এবং সড়কের পাশে ময়লা-আবর্জনার ওপর ভিটমাটি ফেলার অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে কাজ চলতে থাকলে সামান্য বৃষ্টি কিংবা পানির প্রবাহে সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
অভিযোগ রয়েছে, এসব কাজের যথাযথ তদারকি দৃশ্যমান নয়। এমনকি প্রকল্প-সংক্রান্ত তথ্যসংবলিত সাইনবোর্ডও চোখে পড়েনি। সচেতন মহলের দাবি, টেকসই সড়ক নির্মাণে কাদামাটির পরিবর্তে নির্ধারিত মানের উপযোগী মাটি ব্যবহার এবং নির্মাণসামগ্রীর গুণগত মান নিশ্চিত করা জরুরি।
ব্লক তৈরির কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা জানান, ঠিকাদারের নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁরা কাজ করছেন। তবে নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে রাজি হননি তাঁরা।
নদী ও কৃষিজমি থেকে মাটি উত্তোলনের অভিযোগ
এদিকে, অবৈধভাবে কৃষিজমি ও সরকারি জমি থেকে কাদামাটি সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি রাতের আঁধারে সুরমা নদী থেকে অবৈধভাবে ভিটবালু উত্তোলন করে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের কাজীবাড়ি এলাকায় মজুত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব মাটি সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পে সরবরাহের মাধ্যমে একটি চক্র আর্থিক সুবিধা নিচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সিলেট সদর উপজেলার বাসিন্দা চমক আলীর বিরুদ্ধে সিলেট, ছাতক, কোম্পানীগঞ্জ ও জালালাবাদ এলাকায় অবৈধভাবে ভিটমাটি উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। ২০২৫ সালে ছাতকের লালপুল এলাকা থেকে তাঁর একটি ড্রেজারসহ ড্রেজারের মালিক হাবিবকে আটক করেছিলেন তৎকালীন ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম। পরে তদবিরের মাধ্যমে তাঁকে ছাড়িয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি কাজীবাড়ি এলাকায় ভিটমাটি মজুতের স্থানে অভিযান চালান বিশ্বনাথের সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিহাব বিন আমিন। তবে এ ঘটনায় পরবর্তী সময়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে বিশ্বনাথের ভূমি কর্মকর্তা জানান, ঘটনাস্থলে উপস্থিত কাগজপত্র যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অন্য কোথাও থেকে ভিটমাটি এনে সেখানে রাখা হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তাঁদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে, চমক আলী বিভিন্ন বৈধ-অবৈধ ওয়ার্ক অর্ডার ও জালিয়াতির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে নদী থেকে ভিটমাটির ব্যবসা করে আসছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গোবিন্দগঞ্জ-ছাতক সড়কের সুরমা সেতুর চত্বর (পাগল হাসান চত্বর) পর্যন্ত দুই লেনের সড়কের মাটি ভরাটের কাজ এবং ভিটমাটি সরবরাহের দায়িত্বও তিনি পালন করছেন বলে জানা গেছে। তাঁর মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি কৃষিজমি থেকে কাদাযুক্ত মাটি সরবরাহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ কাজকে কেন্দ্র করে তাঁর নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট গড়ে ওঠার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।
তবে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চমক আলী। তিনি বলেন, ছাতক সুরমা সেতুর চত্বর থেকে গোবিন্দগঞ্জ পর্যন্ত শুধু মাটি ভরাটের কাজ করছেন তিনি। ভেজা মাটির কারণে সোমবার রাত থেকে কর্তৃপক্ষ কয়েক দিনের জন্য তাঁর মাটি ভরাটের কাজ স্থগিত করেছে। অগ্রহায়ণ মাসের পর আবারও মাটি ভরাটের কাজ শুরু করবেন।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সওজের বক্তব্য
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওটিবিএলের ডিপিএম এবং গোবিন্দগঞ্জ থেকে ছাতক সুরমা সেতুর চত্বর পর্যন্ত দুই লেনের কাজের সাইট ইঞ্জিনিয়ার সজল হাওলাদার বলেন, সড়ক সম্প্রসারণের কাজ চলমান রয়েছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে ব্লক তৈরির অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যে সিঙ্গেল ধরা আছে, সে সিঙ্গেল দিয়েই কাজ চলছে। পাশাপাশি প্রতিনিয়ত পানি দিয়ে ধুয়ে নেওয়া হচ্ছে।’
ছাতক সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী সাদাৎ হোসেন নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়ে বলেন, ভোলাগঞ্জের কোয়ারি বন্ধ। এ ছাড়া সুনামগঞ্জে সাদা পাথর পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে শারফিনটিলার পাথর দিয়ে ব্লক তৈরি করা হচ্ছে।
রাতের বেলায় পাথর আনা হলে পরদিন সকালে তা ধুয়ে ব্লক তৈরির কাজে ব্যবহার করা হয় বলেও জানান তিনি। তাঁর দাবি, শতভাগ না হলেও ৯৫ শতাংশ কাজ ভালো হচ্ছে।
প্রকল্পের মান নিয়ে উদ্বেগ
স্থানীয়দের মতে, ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কটি এ অঞ্চলের যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এ প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারি বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে। তাই শুরু থেকেই নির্মাণকাজের প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও গুণগত মান নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, নির্মাণসামগ্রীর পরীক্ষাগারভিত্তিক মান যাচাই, মাটি ভরাটের কাজে প্রকৌশলগত মানদণ্ড অনুসরণ এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। তাঁদের প্রত্যাশা, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ নয়, বরং জনগণের অর্থে নির্মিত সড়কটি যেন দীর্ঘস্থায়ী ও মানসম্মত হয়, তা নিশ্চিত করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।