Template: 2
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
লিংক channeljaintanews24.com ক্যাটাগরি আন্তর্জাতিক রিপোর্ট চ্যানেল জৈন্তা নিউজ

বৈশ্বিক উৎপাদন কেন্দ্র ও রপ্তানি প্রবেশদ্বার হতে চায় বাংলাদেশ

০৩ নভেম্বর ২০২৬ • ০৮:০২ অপরাহ্ন

ইসলামাবাদ থেকে বাসস:

বৈশ্বিক উৎপাদন কেন্দ্র ও রপ্তানি প্রবেশদ্বার হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্য অর্জনে দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকাকে সংযুক্ত করে সমন্বিত উৎপাদন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।


মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট পলিসি ইনস্টিটিউট (এসডিপিআই) আয়োজিত ২৯তম টেকসই উন্নয়ন সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এসব কথা বলেন।


তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সহযোগিতা এ অঞ্চলের জন্য নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে। এ লক্ষ্যে দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকাকে সংযুক্ত করে একটি সমন্বিত উৎপাদন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন তিনি।


রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর এমন বিনিয়োগ আকর্ষণ করা প্রয়োজন, যা দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াবে, প্রযুক্তি হস্তান্তরে ভূমিকা রাখবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।


শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে শিক্ষা খাতে ব্যয় বর্তমানের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।


বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে শক্তিশালী উৎপাদন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে কাজ করছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, বিশ্বব্যাপী উৎপাদন কাঠামোয় দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব কাটিয়ে উৎপাদনের স্বাভাবিক ধারা ফিরিয়ে আনতে সরকারের এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ায় জনবান্ধব ও টেকসই উন্নয়নের পথ সুগম হবে।


বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবিলা ও সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে বলেও জানান তিনি। যুদ্ধ, জ্বালানি সংকট এবং বিগত সরকারের দুঃশাসনের কারণে সৃষ্ট দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক সংকট ও দারিদ্র্য থেকে উত্তরণে এসব উদ্যোগ সহায়ক হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন উপদেষ্টা।


সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পাকিস্তানের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিশেষ উদ্যোগবিষয়ক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অধ্যাপক আহসান ইকবাল। চার দিনব্যাপী এ সম্মেলনে প্রায় ৫০টি প্যানেল ও প্লেনারি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে বিভিন্ন দেশের ৩০০ জনের বেশি উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ১০০ জনের বেশি নারী রয়েছেন। দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিনিধিরা সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন।


সম্মেলনে অংশগ্রহণ শেষে উপদেষ্টা ইসলামাবাদে নবনির্মিত বাংলাদেশ চ্যান্সেরি কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি হাইকমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং চ্যান্সেরি কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে একটি জামগাছের চারা রোপণ করেন।


এ ছাড়া পাকিস্তানের অর্থ ও রাজস্ববিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী সিনেটর মোহাম্মদ আওরঙ্গজেব, পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিশেষ উদ্যোগবিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী অধ্যাপক আহসান ইকবাল, জ্বালানিবিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী আলি পারভেজ মালিক এবং প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও উৎপাদনবিষয়ক উপদেষ্টা হারুন আখতার খানের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।


বৈঠকগুলোতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।

বিজ্ঞাপন channeljaintanews24.com