Template: 1
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
logo
channeljaintanews24.com
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬ | ১০:৪৬ পূর্বাহ্ন
channeljaintanews24@gmail.com

বিচারহীনতায় বারবার বিতর্কে ওসমানী হাসপাতাল, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ

✍ চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
🕒 মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬ | ১০:৪৬ পূর্বাহ্ন

সিলেট :


সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর স্বজন ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ নতুন নয়। গত কয়েক বছরে একাধিকবার হামলা, মারধর, লাঞ্ছনা ও চিকিৎসাসেবা বন্ধ রেখে কর্মবিরতির মতো ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় বিভিন্ন সময় তদন্ত কমিটি গঠন, মামলা ও সাময়িক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও কার্যকর বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়ায় একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।


সর্বশেষ গত ২৮ অক্টোবর হাসপাতালে রোগীর স্বজনদের ওপর হামলার দৃশ্য ধারণ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন দুই সাংবাদিক। তাঁরা হলেন দৈনিক শ্যামল সিলেটের ফটোসাংবাদিক রেজা রুবেল এবং সিলেটভিউ২৪ডটকমের স্টাফ রিপোর্টার নিবেন্দু তালুকদার। এ ঘটনায় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়।


ঘটনার প্রতিবাদে ৩১ অক্টোবর সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন থেকে হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।


সিলেট প্রতিদিনের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ১৬ জানুয়ারি হাসপাতালের চতুর্থ তলার সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসক, নার্স ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির জেরে সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হন। এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসককে হেনস্তার অভিযোগও ওঠে। পরে রোগীর তিন স্বজনকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে।


এর পরদিন ১৭ জানুয়ারিও চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও হাসপাতালের কর্মীদের বিরোধের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা কর্মবিরতি পালন করেন।


প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৮ জুলাই হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণাও আসে।


এর আগে ২০২৫ সালের ২৭ এপ্রিল হাসপাতালের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে এক রোগীর স্বজনকে চিকিৎসকের লাথি মারার অভিযোগ ওঠে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ওই ঘটনার দৃশ্য দেখা যায়। পরে অভিযুক্ত চিকিৎসক তন্ময় দেবনাথকে দায়িত্ব থেকে বিরত রেখে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।


এ ছাড়া ২০২৪ সালের ২১ মার্চ এক প্রবীণ রোগীকে চিকিৎসকদের মারধরের অভিযোগ ওঠে। ২০২৩ সালের ২১ আগস্ট রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।


২০২২ সালের ৩ আগস্ট শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা কর্মবিরতি পালন করেন। ওই সময় হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনে তালা দেওয়া এবং তৎকালীন পরিচালককে তাঁর কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনাও ঘটে। একই বছরের ১২ আগস্ট হাসপাতালের চারতলার একটি ওয়ার্ডে রোগীর এক স্বজনকে মারধরের অভিযোগ ওঠে।


প্রতিবেদনে ২০২১ সালে এক সাংবাদিককে হাসপাতালের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ এবং ২০১৯ সালের ১২ মার্চ রোগীর দুই স্বজনকে মারধর করে কান ধরিয়ে ওঠবস করানোর ঘটনার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।


সিলেট প্রতিদিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ঘটনার কয়েকটিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, কোথাও অভিযুক্তকে দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে, আবার কোনো ঘটনায় মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনাও ঘটেছে। তবে তদন্তের সুপারিশ বাস্তবায়ন ও বিভাগীয় শাস্তির দৃশ্যমান অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।


হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাঁদের স্বজনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি। তবে বারবার সংঘর্ষ, হামলার অভিযোগ, পাল্টাপাল্টি অবস্থান এবং কর্মবিরতির কারণে সাধারণ রোগীদের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি উদ্বেগ তৈরি করছে।


সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক রাখা এবং রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ছবি
channeljaintanews24.com
logo
ভিজিট করুন
০৩.১১.২০২৬
© চ্যানেল জৈন্তা নিউজ — সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
channeljaintanews24.com