সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্সকে (২০) গ্রেপ্তারের পর অসুস্থ হয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা এবং পুলিশ হেফাজত থেকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বজন ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রিন্সের বাবা-মা, বোন, বন্ধুসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর পাশাপাশি পুলিশ কর্মকর্তাদের হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রতন শেখ।
সোমবার (২ নভেম্বর) রাত ৯টায় সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন ওসি রতন শেখ ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আরিফ উল্লাহ।
সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত কর্মকর্তা আরিফ উল্লাহ জানান, গত ২৯ অক্টোবর রাতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় নিজ বাসা থেকে দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্সকে গ্রেপ্তার করা হয়। থানায় নেওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা পর হাজতখানায় তিনি খিঁচুনিতে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
সেখানকার চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে স্বজনেরা তাঁকে সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান।
পুলিশের দাবি, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রিন্সের স্বজন ও ছাত্রলীগ-যুবলীগের ১৫ থেকে ২০ জন নেতাকর্মী জরুরি বিভাগে প্রবেশ করে পুলিশের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন। এ সময় প্রিন্সের মৃত্যুর গুজবসহ বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা এবং পুলিশ হেফাজত থেকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার ঘটনা ঘটে।
এদিকে, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের চিকিৎসা নথিতে উল্লেখ রয়েছে, ৩০ অক্টোবর রাত ১টা ১০ মিনিটে খিঁচুনিজনিত সমস্যা নিয়ে প্রিন্সকে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ সময় তাঁকে ইনজেকশন ও অক্সিজেন দেওয়া হয়। চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে তাঁর শরীরে দৃশ্যমান আঘাত, ক্ষত বা জখমের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলেও নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর গত ৩১ অক্টোবর দিবাগত রাতে সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে প্রিন্স, তাঁর বাবা-মা, বোন ও বন্ধুসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ১ নভেম্বর তাঁদের আদালতে পাঠানো হলে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
সংবাদ সম্মেলনে ওসি মোহাম্মদ রতন শেখ পিপিএম বলেন, প্রিন্সের আগে থেকেই খিঁচুনির রোগ ছিল বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। তিনি অসুস্থ হওয়ার পরপরই তাঁকে হাসপাতালে পাঠিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। পুলিশের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট দাবি করে তিনি হাজতখানার সিসিটিভি ফুটেজও উপস্থাপন করেন।
ওসি আরও অভিযোগ করেন, তাঁকে এবং কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে তাঁদের হত্যার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কোনো তথ্য বিশ্বাস করা উচিত নয়। প্রকৃত ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে আইনগত প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত ও আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।