Template: 3
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
০২ নভেম্বর ২০২৬ · ১০:৩৩ অপরাহ্ন

গোয়াইনঘাটে কচুয়া জলমহাল নিয়ে মুখোমুখি দুই পক্ষ, সংঘর্ষের আশঙ্কা

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ মালিকানা দাবি করে ইজারা বাতিলের আবেদন, মাছ আহরণে বাধা ও হামলার অভিযোগ; পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে প্রশাসন
ছবি

গোয়াইনঘাট (সিলেট) প্রতিনিধি:

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের কচুয়া জলমহাল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। জলমহালটির ইজারা ও মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে যেকোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। একদিকে সরকারি নিয়মে তিন বছরের জন্য ইজারা নেওয়ার দাবি করছে হোয়াউরা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি, অন্যদিকে জলমহালের একটি অংশের মালিকানা দাবি করছেন রাজনগর গ্রামের আলী আফজল।


স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের লংলাখাল মৌজার কচুয়া বিলের এসএ-৩১০ ও বিএস-৪৪৫ নম্বর দাগের ভূমি ইজারার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। পরবর্তী সময়ে গোয়াইনঘাট উপজেলার হোয়াউরা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি হাবিবুর রহমান তফসিলভুক্ত কচুয়া বিল তিন বছরের জন্য ইজারা গ্রহণ করেন।


সম্প্রতি সমিতির পক্ষে লোকজন জলমহালটিতে মাছ আহরণ করতে গেলে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।


অন্যদিকে পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের রাজনগর গ্রামের মৃত মুহিবুর রহমানের ছেলে মো. আলী আফজল কচুয়া জলমহালের বিরোধপূর্ণ অংশের মালিকানা দাবি করেছেন। সোমবার (২ নভেম্বর) তিনি নিজের মালিকানাধীন বলে দাবি করা ৪৮৮ নম্বর দাগের ভূমি থেকে ইজারা প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত দরখাস্ত দেন।


দরখাস্তে আলী আফজল উল্লেখ করেন, এসএ ৩৫৯ নম্বর দাগে ৩.১০ একর ভূমি ৪৯/২০০৭ ইং মোকদ্দমার রায় ও ডিক্রিমূলে এবং ২২/০২/১৯৮৪ ইং তারিখের ৪৮৩/১৯৮৪ ইং রেজিস্ট্রি দলিলমূলে আরও ১.৫০ একরসহ মোট ৪.৬০ একর ভূমির মালিকানা ও দখল তাঁর বাবা মৃত মুহিবুর রহমানের ছিল। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছিলেন।


তাঁর দাবি, পরবর্তী সময়ে রিভিশনাল জরিপে এসএ ৩৫৯ নম্বর দাগটি বিএস ৪৮৮ নম্বর দাগ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। বিএস ২২৬ নম্বর খতিয়ানে ৪.৬০ একর ভূমি তাঁর বাবা মুহিবুর রহমানের নামে ২০১৪ সালে রেকর্ড প্রস্তুত ও চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত হয়। বাবার মৃত্যুর পর থেকে তিনি শান্তিপূর্ণভাবে ওই সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছেন।


আবেদনে আলী আফজল আরও অভিযোগ করেন, কয়েক যুগ ধরে ওই ভূমিতে ফিশারি তৈরি করে মাছ চাষ করে আসছেন তাঁরা। যথাযথ তথ্য যাচাই না করায় তাঁর বাবার নামীয় জমি সরকারিভাবে ইজারার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এতে ফিশারিতে চাষ করা কয়েক লাখ টাকার মাছ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি একটি সংঘবদ্ধ দল তাঁর মালিকানাধীন বলে দাবি করা ফিশারিতে কয়েকটি সেচযন্ত্র বসিয়ে জোরপূর্বক পানি নিষ্কাশন করছে। দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তারা ফিশারির চারপাশে অবস্থান করে মাছ আহরণ করছে। সোমবার তাঁদের বাধা দিতে গেলে ভাদেশ্বর গ্রামের কুতুবউদ্দিনের নেতৃত্বে নাজমুল, শামীম, আফাজ উদ্দিন, সেলিম, ফরিদ, জৈনউল্লাহ, আব্দুল কাদির, কালা মিয়া, আব্দুর রহিম ও আব্দুল আজিজসহ ১৫-১৬ জন তাঁদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় তাঁরা দৌড়ে আত্মরক্ষা করেন বলেও দাবি করেন আলী আফজল। নিজের সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।


অন্যদিকে হোয়াউরা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি হাবিবুর রহমান বলেন, সরকারের নির্ধারিত ইজারামূল্য পরিশোধ করে তাঁরা তিন বছরের জন্য কচুয়া বিল ইজারা নিয়েছেন এবং নিয়ম অনুযায়ী তা ভোগদখল করছেন।


এ বিষয়ে আলী আফজল বলেন, তাঁর বাবার রেকর্ডীয় জমিতে ফিশারি তৈরি করে দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা মাছ চাষ ও ভোগদখল করে আসছেন। কিন্তু স্থানীয় তহসিলদারের ভুলের কারণে তাঁর বাবার নামীয় ভূমি সরকারি ইজারার অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।


গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, কচুয়া জলমহাল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে বলে তাঁরা খবর পেয়েছেন। বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সেচযন্ত্রটি বন্ধ রাখার জন্য বিট কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে।


এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী বলেন, পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের কচুয়া নামক জলমহাল নিয়ে একটি দরখাস্ত পেয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


এদিকে জলমহালটির ইজারা ও ব্যক্তিমালিকানার দাবিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধ দ্রুত নিরসন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত সমাধান না হলে বিরোধ আরও বড় সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে।


ছবির ক্যাপশন: গোয়াইনঘাট উপজেলার পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের বিরোধপূর্ণ কচুয়া জলমহালের বিভিন্ন স্থিরচিত্র।

গোয়াইনঘাট (সিলেট) প্রতিনিধি:

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের কচুয়া জলমহাল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। জলমহালটির ইজারা ও মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে যেকোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। একদিকে সরকারি নিয়মে তিন বছরের জন্য ইজারা নেওয়ার দাবি করছে হোয়াউরা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি, অন্যদিকে জলমহালের একটি অংশের মালিকানা দাবি করছেন রাজনগর গ্রামের আলী আফজল।


স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের লংলাখাল মৌজার কচুয়া বিলের এসএ-৩১০ ও বিএস-৪৪৫ নম্বর দাগের ভূমি ইজারার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। পরবর্তী সময়ে গোয়াইনঘাট উপজেলার হোয়াউরা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি হাবিবুর রহমান তফসিলভুক্ত কচুয়া বিল তিন বছরের জন্য ইজারা গ্রহণ করেন।


সম্প্রতি সমিতির পক্ষে লোকজন জলমহালটিতে মাছ আহরণ করতে গেলে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।


অন্যদিকে পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের রাজনগর গ্রামের মৃত মুহিবুর রহমানের ছেলে মো. আলী আফজল কচুয়া জলমহালের বিরোধপূর্ণ অংশের মালিকানা দাবি করেছেন। সোমবার (২ নভেম্বর) তিনি নিজের মালিকানাধীন বলে দাবি করা ৪৮৮ নম্বর দাগের ভূমি থেকে ইজারা প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত দরখাস্ত দেন।


দরখাস্তে আলী আফজল উল্লেখ করেন, এসএ ৩৫৯ নম্বর দাগে ৩.১০ একর ভূমি ৪৯/২০০৭ ইং মোকদ্দমার রায় ও ডিক্রিমূলে এবং ২২/০২/১৯৮৪ ইং তারিখের ৪৮৩/১৯৮৪ ইং রেজিস্ট্রি দলিলমূলে আরও ১.৫০ একরসহ মোট ৪.৬০ একর ভূমির মালিকানা ও দখল তাঁর বাবা মৃত মুহিবুর রহমানের ছিল। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছিলেন।


তাঁর দাবি, পরবর্তী সময়ে রিভিশনাল জরিপে এসএ ৩৫৯ নম্বর দাগটি বিএস ৪৮৮ নম্বর দাগ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। বিএস ২২৬ নম্বর খতিয়ানে ৪.৬০ একর ভূমি তাঁর বাবা মুহিবুর রহমানের নামে ২০১৪ সালে রেকর্ড প্রস্তুত ও চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত হয়। বাবার মৃত্যুর পর থেকে তিনি শান্তিপূর্ণভাবে ওই সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছেন।


আবেদনে আলী আফজল আরও অভিযোগ করেন, কয়েক যুগ ধরে ওই ভূমিতে ফিশারি তৈরি করে মাছ চাষ করে আসছেন তাঁরা। যথাযথ তথ্য যাচাই না করায় তাঁর বাবার নামীয় জমি সরকারিভাবে ইজারার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এতে ফিশারিতে চাষ করা কয়েক লাখ টাকার মাছ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি একটি সংঘবদ্ধ দল তাঁর মালিকানাধীন বলে দাবি করা ফিশারিতে কয়েকটি সেচযন্ত্র বসিয়ে জোরপূর্বক পানি নিষ্কাশন করছে। দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তারা ফিশারির চারপাশে অবস্থান করে মাছ আহরণ করছে। সোমবার তাঁদের বাধা দিতে গেলে ভাদেশ্বর গ্রামের কুতুবউদ্দিনের নেতৃত্বে নাজমুল, শামীম, আফাজ উদ্দিন, সেলিম, ফরিদ, জৈনউল্লাহ, আব্দুল কাদির, কালা মিয়া, আব্দুর রহিম ও আব্দুল আজিজসহ ১৫-১৬ জন তাঁদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় তাঁরা দৌড়ে আত্মরক্ষা করেন বলেও দাবি করেন আলী আফজল। নিজের সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।


অন্যদিকে হোয়াউরা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি হাবিবুর রহমান বলেন, সরকারের নির্ধারিত ইজারামূল্য পরিশোধ করে তাঁরা তিন বছরের জন্য কচুয়া বিল ইজারা নিয়েছেন এবং নিয়ম অনুযায়ী তা ভোগদখল করছেন।


এ বিষয়ে আলী আফজল বলেন, তাঁর বাবার রেকর্ডীয় জমিতে ফিশারি তৈরি করে দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা মাছ চাষ ও ভোগদখল করে আসছেন। কিন্তু স্থানীয় তহসিলদারের ভুলের কারণে তাঁর বাবার নামীয় ভূমি সরকারি ইজারার অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।


গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, কচুয়া জলমহাল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে বলে তাঁরা খবর পেয়েছেন। বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সেচযন্ত্রটি বন্ধ রাখার জন্য বিট কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে।


এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী বলেন, পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের কচুয়া নামক জলমহাল নিয়ে একটি দরখাস্ত পেয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


এদিকে জলমহালটির ইজারা ও ব্যক্তিমালিকানার দাবিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধ দ্রুত নিরসন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত সমাধান না হলে বিরোধ আরও বড় সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে।


ছবির ক্যাপশন: গোয়াইনঘাট উপজেলার পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের বিরোধপূর্ণ কচুয়া জলমহালের বিভিন্ন স্থিরচিত্র।

© চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
channeljaintanews24.com