বড়লেখায় নিসচার ‘জাহানারা কাঞ্চন স্মৃতি পদক’ পেলেন ১০ সড়কযোদ্ধা, স্পেনপ্রবাসী ময়নুল ইসলামকে সংবর্ধনা
বড়লেখা প্রতিনিধি:
সড়ক দুর্ঘটনা রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, ধারাবাহিক কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মৌলভীবাজারের বড়লেখায় ১০ জন নিবেদিতপ্রাণ সংগঠককে ‘জাহানারা কাঞ্চন স্মৃতি পদক-২০২৬’ প্রদান করা হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশে সামাজিক ও মানবিক উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখায় স্পেনপ্রবাসী সামাজিক সংগঠক ও রেমিট্যান্স যোদ্ধা মো. ময়নুল ইসলামকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে অক্টোবর মাসব্যাপী কর্মসূচির সফল সমাপ্তি ও মূল্যায়ন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শনিবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টায় স্থানীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা ও সম্মাননা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জাতীয় সামাজিক-স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) বড়লেখা উপজেলা শাখা।
‘নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নিসচা বড়লেখা উপজেলা শাখার মাসব্যাপী কর্মসূচি বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক গোলাম কিবরিয়া। সঞ্চালনা করেন কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব রেদওয়ান আহমদ রুম্মান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্পেনপ্রবাসী সামাজিক সংগঠক মো. ময়নুল ইসলাম বলেন, স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চনের মৃত্যুর পর চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে তাঁর নেতৃত্বে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও সামাজিক উন্নয়নে দেশ-বিদেশে ধারাবাহিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ইলিয়াস কাঞ্চনের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে সরকার ২২ অক্টোবর জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালন করছে।
তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সবার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। নিসচা বড়লেখা উপজেলা শাখা সব পর্যায়ের নাগরিককে সঙ্গে নিয়ে ধারাবাহিকভাবে সচেতনতামূলক ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। জনস্বার্থে সংগঠনটির নিরলস প্রচেষ্টা বড়লেখায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
ময়নুল ইসলাম আরও বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিসচা বড়লেখা উপজেলা শাখা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও সুনাম অর্জন করেছে। টানা দুইবার জাতীয় পুরস্কার অর্জনের মাধ্যমে সংগঠনটি বড়লেখাবাসীর মুখ উজ্জ্বল করেছে। সংগঠনটির নিঃস্বার্থ কার্যক্রমে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনিও জনস্বার্থে এগিয়ে এসেছেন। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে নিসচার মতো সুশৃঙ্খল ও নিঃস্বার্থ সংগঠনের পাশে দাঁড়াতে দেশ-বিদেশের সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে মাসব্যাপী কর্মসূচি বাস্তবায়ন কমিটির উপদেষ্টা ও কলামিস্ট আবুল কাসেম বলেন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি, মানবিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং দায়িত্বশীল নাগরিক গড়ে তোলার নানা উদ্যোগে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে নিসচা বড়লেখা উপজেলা শাখা। সংগঠনের ১০ জন নিবেদিত কর্মীকে সম্মাননা দেওয়া তাদের দীর্ঘ পথচলার একটি গৌরবময় স্বীকৃতি।
তিনি আরও বলেন, ‘জাহানারা কাঞ্চন স্মৃতি পদক’ শুধু একটি পুরস্কার নয়; এটি সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ, মানবিক ও নিবেদিতপ্রাণ মানুষের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের প্রতীক। এ ধরনের স্বীকৃতি সমাজে ইতিবাচক উদ্যোগকে আরও গতিশীল করবে এবং নতুন প্রজন্মকে মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মাসব্যাপী কর্মসূচি বাস্তবায়ন কমিটির উপদেষ্টা নিজাম উদ্দিন ও মার্জানুল ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাছুম আহমদ ছুনু, সদস্য সচিব মো. জমির উদ্দিন, দুর্ঘটনা ও অনুসন্ধানবিষয়ক সম্পাদক আব্দুল হামিদ এবং সহ-প্রচার সম্পাদক শাহরিয়ার শাকিল প্রমুখ। এ ছাড়া কর্মসূচি বাস্তবায়ন কমিটির তত্ত্বাবধায়ক সংগঠনের সভাপতি তাহমীদ ইশাদ রিপন ও সাধারণ সম্পাদক আইনুল ইসলাম অক্টোবর মাসব্যাপী কর্মসূচির মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।
আলোচনা সভা শেষে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, ধারাবাহিক কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১০ জনকে ‘জাহানারা কাঞ্চন স্মৃতি পদক-২০২৬’ প্রদান করা হয়। তাঁরা হলেন—গোলাম কিবরিয়া, মাছুম আহমদ ছুনু, মো. জমির উদ্দিন, রেদওয়ান আহমদ রুম্মান, আব্দুল হামিদ, শাহরিয়ার শাকিল, শাহাব উদ্দিন, ছাদিকুর রহমান, ফরহাদ আহমদ ও রাহেল আহমদ।
এ ছাড়া মিডিয়া বিভাগে বিশেষ অবদানের জন্য প্রচার সম্পাদক আফজাল হোসেন রুমেল ও কার্যনির্বাহী সদস্য এমরান আহমদকে বিশেষ পুরস্কার প্রদান করা হয়। সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি স্পেনপ্রবাসী মো. ময়নুল ইসলামকেও সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
পদকপ্রাপ্তরা তাঁদের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, যে সম্মান মানুষকে আরও বেশি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শক্তি জোগায়, সেটিই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। এ স্বীকৃতি তাঁদের আরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে। তাঁরা নিরাপদ সড়ককে প্রতিটি মানুষের নিশ্চিত অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা এবং মানবিকতাকে সমাজের প্রধান পরিচয় হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।