Template: 3
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
৩১ অক্টোবর ২০২৬ · ১২:৩২ পূর্বাহ্ন

ওসমানীনগরে ৯০০ বছরের প্রাচীন মসজিদ রক্ষার দাবি, ভেঙে নতুন স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগে উদ্বেগ

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ সুলতানি আমলের ঐতিহাসিক নিদর্শন ‘গায়েবি মসজিদ’ সংরক্ষণে নাগরিক প্রতিনিধিদের আহ্বান
ছবি

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় সুলতানি আমলের প্রায় ৭০০ থেকে ৯০০ বছরের পুরোনো একটি এক গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ সংরক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্বসম্পন্ন এই মসজিদটি ভেঙে সেখানে নতুন স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে—এমন খবর প্রকাশের পর মসজিদটি পরিদর্শন করেছেন পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্টের উদ্যোগে গঠিত একটি নাগরিক প্রতিনিধি দল।


বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে ওসমানীনগর উপজেলার উসমানপুর ইউনিয়নের উসমানপুর গ্রামে তাজপুর-বালাগঞ্জ সড়কের পাশে অবস্থিত প্রাচীন মসজিদটি পরিদর্শন করেন তাঁরা।


ইতিহাসবিদ ও গবেষকদের মতে, মসজিদটির বয়স আনুমানিক ৭০০ থেকে ৯০০ বছর। এর স্থাপত্যশৈলী বিবেচনায় এটিকে সুলতানি আমলে নির্মিত বলে ধারণা করা হয়। সিলেট জেলায় টিকে থাকা সুলতানি আমলের একমাত্র মসজিদ হিসেবেও এটিকে উল্লেখ করা হচ্ছে।


স্থানীয়ভাবে মসজিদটি ‘গায়েবি মসজিদ’ নামে পরিচিত। জনশ্রুতি রয়েছে, একসময় ঘন জঙ্গলে ঢাকা পড়া মসজিদটি মাটির নিচে চাপা পড়ে যায়। পরে জঙ্গল পরিষ্কার করতে গিয়ে এটি দৃশ্যমান হয়। এ থেকেই স্থানীয়দের কাছে মসজিদটির এমন নামকরণ হয়েছে বলে প্রচলিত রয়েছে।


পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ডা. মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী বাহারের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন সিলেট প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি হারুনুজ্জামান চৌধুরী, পরিবেশ ও নাগরিক আন্দোলনের সংগঠক আব্দুল করিম কিম, সাংস্কৃতিক সংগঠক অ্যাডভোকেট মনির হেলাল, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গোলাম সোবহান চৌধুরী দিপন ও প্রত্নতত্ত্ব গবেষক আসিফ আজহারসহ অন্যরা।


পরিদর্শনকালে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁদের কাছে জানা যায়, মসজিদটির প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব সম্পর্কে যথাযথ সচেতনতার অভাবে কিছু ব্যক্তি পুরোনো স্থাপনাটি সরিয়ে সেখানে নতুন মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নিতে চাইছেন।


প্রতিনিধি দলের সদস্যরা জানান, সংরক্ষণের গুরুত্ব উপলব্ধি না করায় ইতিমধ্যে প্রাচীন মসজিদটির বিভিন্ন অংশের ক্ষতিসাধন হয়েছে। বিশেষ করে মেহরাব ও দেয়ালে রংবেরঙের টাইলস বসানো ঐতিহাসিক স্থাপত্যের স্বকীয়তা নষ্ট করেছে। তাঁদের মতে, এ ধরনের প্রাচীন প্রত্নসম্পদে অপরিকল্পিত সংস্কার বা পরিবর্তন করা উচিত নয়।


তাঁরা বলেন, সিলেট অঞ্চলের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য বহন করছে এই মসজিদ। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে টিকে থাকা এমন একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা রক্ষার দায়িত্ব সবার। মসজিদটির ক্ষতিসাধন করে নতুন স্থাপনা নির্মাণের চিন্তা উদ্বেগজনক।


জানা গেছে, মসজিদটি ওয়াক্ফ প্রশাসনের তালিকাভুক্ত হলেও এখন পর্যন্ত প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত হয়নি। ফলে এর যথাযথ প্রত্নতাত্ত্বিক সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।


প্রতিনিধি দলটি মসজিদটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় সংরক্ষণমূলক উদ্যোগ গ্রহণ এবং এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।


সিলেটের প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ সুরক্ষায় কাজ করা নাগরিক সংগঠন পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্টও প্রাচীন এই মসজিদ রক্ষায় এলাকাবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় সুলতানি আমলের প্রায় ৭০০ থেকে ৯০০ বছরের পুরোনো একটি এক গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ সংরক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্বসম্পন্ন এই মসজিদটি ভেঙে সেখানে নতুন স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে—এমন খবর প্রকাশের পর মসজিদটি পরিদর্শন করেছেন পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্টের উদ্যোগে গঠিত একটি নাগরিক প্রতিনিধি দল।


বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে ওসমানীনগর উপজেলার উসমানপুর ইউনিয়নের উসমানপুর গ্রামে তাজপুর-বালাগঞ্জ সড়কের পাশে অবস্থিত প্রাচীন মসজিদটি পরিদর্শন করেন তাঁরা।


ইতিহাসবিদ ও গবেষকদের মতে, মসজিদটির বয়স আনুমানিক ৭০০ থেকে ৯০০ বছর। এর স্থাপত্যশৈলী বিবেচনায় এটিকে সুলতানি আমলে নির্মিত বলে ধারণা করা হয়। সিলেট জেলায় টিকে থাকা সুলতানি আমলের একমাত্র মসজিদ হিসেবেও এটিকে উল্লেখ করা হচ্ছে।


স্থানীয়ভাবে মসজিদটি ‘গায়েবি মসজিদ’ নামে পরিচিত। জনশ্রুতি রয়েছে, একসময় ঘন জঙ্গলে ঢাকা পড়া মসজিদটি মাটির নিচে চাপা পড়ে যায়। পরে জঙ্গল পরিষ্কার করতে গিয়ে এটি দৃশ্যমান হয়। এ থেকেই স্থানীয়দের কাছে মসজিদটির এমন নামকরণ হয়েছে বলে প্রচলিত রয়েছে।


পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ডা. মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী বাহারের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন সিলেট প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি হারুনুজ্জামান চৌধুরী, পরিবেশ ও নাগরিক আন্দোলনের সংগঠক আব্দুল করিম কিম, সাংস্কৃতিক সংগঠক অ্যাডভোকেট মনির হেলাল, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গোলাম সোবহান চৌধুরী দিপন ও প্রত্নতত্ত্ব গবেষক আসিফ আজহারসহ অন্যরা।


পরিদর্শনকালে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁদের কাছে জানা যায়, মসজিদটির প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব সম্পর্কে যথাযথ সচেতনতার অভাবে কিছু ব্যক্তি পুরোনো স্থাপনাটি সরিয়ে সেখানে নতুন মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নিতে চাইছেন।


প্রতিনিধি দলের সদস্যরা জানান, সংরক্ষণের গুরুত্ব উপলব্ধি না করায় ইতিমধ্যে প্রাচীন মসজিদটির বিভিন্ন অংশের ক্ষতিসাধন হয়েছে। বিশেষ করে মেহরাব ও দেয়ালে রংবেরঙের টাইলস বসানো ঐতিহাসিক স্থাপত্যের স্বকীয়তা নষ্ট করেছে। তাঁদের মতে, এ ধরনের প্রাচীন প্রত্নসম্পদে অপরিকল্পিত সংস্কার বা পরিবর্তন করা উচিত নয়।


তাঁরা বলেন, সিলেট অঞ্চলের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য বহন করছে এই মসজিদ। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে টিকে থাকা এমন একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা রক্ষার দায়িত্ব সবার। মসজিদটির ক্ষতিসাধন করে নতুন স্থাপনা নির্মাণের চিন্তা উদ্বেগজনক।


জানা গেছে, মসজিদটি ওয়াক্ফ প্রশাসনের তালিকাভুক্ত হলেও এখন পর্যন্ত প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত হয়নি। ফলে এর যথাযথ প্রত্নতাত্ত্বিক সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।


প্রতিনিধি দলটি মসজিদটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় সংরক্ষণমূলক উদ্যোগ গ্রহণ এবং এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।


সিলেটের প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ সুরক্ষায় কাজ করা নাগরিক সংগঠন পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্টও প্রাচীন এই মসজিদ রক্ষায় এলাকাবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

© চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
channeljaintanews24.com