মৃত্যু অবধারিত। পৃথিবীতে মানুষের আয়ু যত দীর্ঘই হোক, একদিন সবাইকে দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে চলে যেতে হবে। অর্থ-সম্পদ, ক্ষমতা, অহংকার কিংবা ভোগবিলাস—কোনো কিছুই মানুষকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করতে পারবে না। তাই মৃত্যুর কথা স্মরণ করে পরকালের প্রস্তুতি নেওয়া, নেক আমল করা এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, লেখক ও কলামিস্ট হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী।
‘আমরাও একদিন মরে যাবো’ শিরোনামের তাঁর এই উপদেশমূলক লেখায় মানুষের ক্ষণস্থায়ী জীবন, মৃত্যুর বাস্তবতা এবং আখেরাতের জবাবদিহির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে।
লেখাটির শুরুতে ধর্মীয় রীতিতে আল্লাহর প্রশংসা ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি দরুদ পাঠের পর বলা হয়েছে, মৃত্যু মানুষের জীবনের এক চিরন্তন সত্য। দুনিয়ার চাওয়া-পাওয়া, ব্যস্ততা ও অহংকার একসময় থেমে যাবে। তাই জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগিয়ে পরকালের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া প্রত্যেক মানুষের দায়িত্ব।
মৃত্যুর আগে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান
পবিত্র কোরআনের সূরা আলে ইমরানের ১৮৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।’ এই আয়াতের শিক্ষা স্মরণ করিয়ে দিয়ে লেখাটিতে নেক আমল, ইবাদত, তওবা ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মানুষ কখন মৃত্যুবরণ করবে, তা কারও জানা নেই। তাই অন্যায় ও পাপ থেকে বিরত থাকা, নিজের ভুলের জন্য অনুতপ্ত হওয়া এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করার মানসিকতা গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মানুষের প্রতি সদাচরণই হোক জীবনের শিক্ষা
লেখাটিতে বলা হয়েছে, দুনিয়ার জীবন খুবই সংক্ষিপ্ত। তাই কারও মনে কষ্ট না দেওয়া, অন্যের প্রতি অবিচার না করা, মানুষের অধিকার রক্ষা করা এবং সবার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা উচিত। মানুষের কল্যাণে কাজ করা এবং বিপদে অন্যের পাশে দাঁড়ানোও একজন মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ গুণ।
মৃত্যুর পর মানুষ তার অর্জিত অর্থ-সম্পদ ও পার্থিব ভোগবিলাস সঙ্গে নিয়ে যেতে পারে না। রেখে যেতে হয় বাড়িঘর, সম্পদ ও প্রিয়জনদের। জীবদ্দশায় সম্পদ অর্জনের জন্য অন্যায় করলে তার দায়ভারও ব্যক্তিকেই বহন করতে হবে—এমন নৈতিক শিক্ষা তুলে ধরা হয়েছে লেখাটিতে।
মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া ও পরিবারের প্রতি দায়িত্ব
লেখাটির একটি আবেগঘন অংশে মৃত্যুর পর মানুষের পার্থিব সম্পর্ক, পরিবার-পরিজন থেকে বিচ্ছেদ এবং দাফন শেষে সবাই ফিরে যাওয়ার বাস্তবতা তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করা, ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি মৃত ব্যক্তির স্ত্রী, সন্তান ও পরিবারের সদস্যদের প্রতি সদাচরণ করা, তাঁদের কষ্ট না দেওয়া এবং তাঁদের অধিকার রক্ষার বিষয়টিও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। জীবিত অবস্থায় মানুষের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং মৃত্যুর পরও তার জন্য কল্যাণ কামনা করা মানবিক দায়িত্বের অংশ।
লেখাটিতে আরও বলা হয়েছে, দুনিয়ার সম্পদ ও ভোগবিলাসের মোহে পড়ে আখেরাতের কথা ভুলে যাওয়া উচিত নয়। বরং জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে হালাল-হারাম মেনে চলা, সৎপথে থাকা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী দান-খয়রাত করা প্রয়োজন।
লেখকের পরিচিতি
হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী একজন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, লেখক ও কলামিস্ট। তিনি জকিগঞ্জ উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরাম, সিলেটের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। এ ছাড়া তিনি সিলেট নগরীর কদমতলী হযরত দরিয়া শাহ (রহ.) মাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সাবেক ইমাম ও খতিব, হযরত শাহজালাল (রহ.) ৩৬০ আউলিয়া লতিফিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা, উপশহর, সিলেটের সাবেক প্রিন্সিপাল এবং তৈয়ব কামাল হযরত শাহজালাল (রহ.) লতিফিয়া হাফিজিয়া দাখিল মাদ্রাসার সাবেক প্রধান শিক্ষক।
লেখাটির শেষাংশে মহান আল্লাহর কাছে সবার গুনাহ মাফ, রহমত ও ক্ষমা প্রার্থনা করা হয়েছে।
মূল শিক্ষা: মৃত্যু অনিবার্য—তাই অহংকার নয়, নেক আমল; অন্যায় নয়, ন্যায়; বিদ্বেষ নয়, ভালোবাসা; আর পার্থিব মোহ নয়, আখেরাতের প্রস্তুতিকেই জীবনের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা উচিত।
সম্পাদনা-নোট: লেখায় মৃত ব্যক্তির গোসল, কাফন ও দাফনের সময় তাঁর মুখে নির্দিষ্ট বক্তব্য আরোপ করে যে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, তার নির্ভরযোগ্য হাদিস-সূত্র যাচাই করা যায়নি। তাই সেগুলোকে প্রামাণ্য হাদিস হিসেবে উদ্ধৃত করা হয়নি।