সিলেট , সিলেট: সিলেটের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে প্রায় ৬১ লাখ ৫২ হাজার ৪৫৯ টাকা মূল্যের চোরাচালানি ও অবৈধ মালামাল জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি) ও জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (১৯ বিজিবি) এসব অভিযান পরিচালনা করে।
বিজিবির পৃথক দুটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অভিযানে ভারতীয় মদ, গরু, বিপুল পরিমাণ চা-পাতা, ফল, চিনি, টমেটো, কসমেটিকসসহ বিভিন্ন পণ্য এবং একটি পিকআপ ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে পাচারের সময় বাংলাদেশি লেডিস সোয়েটারও আটক করা হয়।
সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবির) দায়িত্বাধীন সীমান্তবর্তী কালাসাদেক, প্রতাপপুর, দমদমিয়া, সোনারহাট, বিছনাকান্দি, নোয়াকোট ও সংগ্রাম বিওপির সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন।
এসব অভিযানে ভারতীয় মদ, গরু, ফল, কম্বল, কসমেটিকস, সবজি, চকলেট, বাসমতি চাল, আলু, জুস, দুধ, বিছানার চাদর, ফুচকা, মধু, বিস্কুট, বিড়ি ও চা-পাতাসহ বিভিন্ন পণ্য জব্দ করা হয়। এ ছাড়া বাংলাদেশ থেকে পাচারের সময় বাংলাদেশি লেডিস সোয়েটার আটক করা হয়।
জব্দ করা এসব মালামালের আনুমানিক সিজার মূল্য ২৭ লাখ ৩৪ হাজার ৯৫৯ টাকা।
অন্যদিকে, জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (১৯ বিজিবি) পৃথক অভিযানে ৩৪ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের অবৈধ মালামাল জব্দ করেছে।
বিজিবির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১টার দিকে সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার সুরাইঘাট বিওপির একটি বিশেষ আভিযানিক টহল দল সীমান্ত থেকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে দিঘীরপাড় এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় ৮০০ কেজি ভারতীয় চা-পাতা ও একটি পিকআপ জব্দ করা হয়। এসব মালামালের সিজার মূল্য ২৪ লাখ টাকা।
এ ছাড়া একই রাতে জৈন্তাপুর ও কানাইঘাট উপজেলায় লালাখাল ও সোনারখেওর বিওপির পৃথক আভিযানিক টহল দল সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ১৪টি ভারতীয় গরু, ১৫০ কেজি চিনি, ১ হাজার ৩২০ কেজি টমেটো ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করে। এসব মালামালের সিজার মূল্য ১০ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা।
বিজিবি জানায়, সীমান্তের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গোয়েন্দা তৎপরতাসহ চোরাচালানবিরোধী অভিযান চলমান রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। জব্দ করা মালামাল কাস্টমসে জমা দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানায় ব্যাটালিয়নটি।