Template: 2
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
লিংক channeljaintanews24.com ক্যাটাগরি সিলেট রিপোর্ট চ্যানেল জৈন্তা নিউজ

গোয়াইনঘাটে সালুটিকর পুলিশের অভিযান, ২৩ লাখ টাকার ভারতীয় বিস্কিট ও ট্রাক জব্দ, আটক ১

২২ অক্টোবর ২০২৬ • ০২:২০ অপরাহ্ন

সিলেট :

সিলেটের গোয়াইনঘাটে চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালিয়ে ১৯৫ কার্টন ভারতীয় বিস্কিটসহ একটি ড্রাম ট্রাক জব্দ করেছে সালুটিকর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র। জব্দ করা বিস্কিট ও ট্রাকের আনুমানিক মূল্য ২৩ লাখ ৫ হাজার ২০০ টাকা। এ ঘটনায় জুয়েল আহমদ (২২) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আনোয়ার মিয়া (৩৫) নামে অপর এক অভিযুক্ত পালিয়ে গেছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।


বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত ১টা ২০ মিনিটের দিকে গোয়াইনঘাট উপজেলার ৮ নম্বর তোয়াকুল ইউনিয়নের লাকি গ্রামে আব্দুল হকের স-মিলের সামনের কাঁচা রাস্তা থেকে এসব মালামাল জব্দ করা হয়।


সালুটিকর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক সনজিৎ চন্দ্র দাসের দিকনির্দেশনায় এসআই মো. শাহাব উদ্দিন খানের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এতে কনস্টেবল শ্যামল মিয়া, জামির হোসেন ও লোকমান মিয়া অংশ নেন।


পুলিশের এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২১ অক্টোবর রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে সালুটিকর বাজার পয়েন্টে রাত্রীকালীন পিকেট ডিউটিতে থাকা অবস্থায় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে ভারতীয় পণ্যবোঝাই একটি ড্রাম ট্রাকের অবস্থান সম্পর্কে খবর পান এসআই মো. শাহাব উদ্দিন খান। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জের নির্দেশনায় তিনি সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযানে বের হন।


২২ অক্টোবর রাত ১২টা ১০ মিনিটে ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়ে রাত ১টা ২০ মিনিটে লাকি গ্রামের আব্দুল হকের স-মিলের সামনে পৌঁছান তাঁরা। সেখানে ভারতীয় পণ্যবোঝাই একটি ড্রাম ট্রাক দেখতে পান। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ট্রাকের কাছে থাকা দুই ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ জুয়েল আহমদকে আটক করতে সক্ষম হলেও আনোয়ার মিয়া পালিয়ে যান।


আটক জুয়েল আহমদ লাকি পূর্বপাড়া গ্রামের কাচা মিয়ার ছেলে। পলাতক আনোয়ার মিয়া লাকি মাঝপাড়া গ্রামের মুহিবুর মিয়ার ছেলে।


এজাহারে বলা হয়েছে, আটক জুয়েল আহমদকে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ট্রাকে ভারতীয় বিস্কিট থাকার কথা জানান এবং আনোয়ার মিয়াকে জব্দ করা মালামালের মালিক হিসেবে উল্লেখ করেন। বিস্কিটের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে বলা হলে তিনি তা দেখাতে পারেননি বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।


পরে ট্রাক তল্লাশি করে ১৭৭ কার্টন MALKIST CRACKER BISCUITS এবং ১৮ কার্টন OREO CHOCO CREME SANDWICH BISCUIT উদ্ধার করা হয়। MALKIST বিস্কিটের প্রতিটি কার্টনে ৬০ প্যাকেট করে মোট ১০ হাজার ৬২০ প্যাকেট ছিল। এসব বিস্কিটের আনুমানিক মূল্য ১০ লাখ ৬২ হাজার টাকা।


অন্যদিকে, OREO বিস্কিটের প্রতিটি কার্টনে ১২০ প্যাকেট করে মোট ২ হাজার ১৬০ প্যাকেট পাওয়া যায়। এসব বিস্কিটের আনুমানিক মূল্য ৪৩ হাজার ২০০ টাকা।


এ ছাড়া সিলেট মেট্রো-ট-১১-০১৪৯ নম্বরের ২০১৮ মডেলের একটি পুরোনো TATA টিপার ড্রাম ট্রাক জব্দ করা হয়। ট্রাকটির আনুমানিক মূল্য ১২ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে ১৯৫ কার্টনে মোট ১২ হাজার ৭৮০ প্যাকেট বিস্কিট ও ড্রাম ট্রাকের সর্বমোট আনুমানিক মূল্য ২৩ লাখ ৫ হাজার ২০০ টাকা।


বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা ৩০ মিনিটের দিকে ঘটনাস্থলে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে উদ্ধার করা মালামাল গণনা করে জব্দ তালিকা প্রস্তুত করা হয়। পরে জব্দ করা মালামাল ও আটক ব্যক্তিকে থানায় নেওয়া হয়।


এ ঘটনায় এসআই মো. শাহাব উদ্দিন খান বাদী হয়ে আটক জুয়েল আহমদ ও পলাতক আনোয়ার মিয়ার বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ২৫বি(১)(বি)/২৫ডি ধারায় অভিযোগ এনে গোয়াইনঘাট থানায় এজাহার দাখিল করেন।


পুলিশের অভিযোগ, অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে বিস্কিট বাংলাদেশে এনে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজেদের হেফাজতে রেখেছিলেন। পলাতক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে অভিযান পরিচালনার কথাও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।



সালুটিকর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক সনজিৎ চন্দ্র দাসের দিকনির্দেশনায় পরিচালিত এ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় বিস্কিট ও পরিবহনে ব্যবহৃত ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী গোয়াইনঘাট এলাকায় চোরাচালান ও অবৈধ পণ্য পরিবহনের অভিযোগে এ ধরনের ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ।


এ বিষয়ে সালুটিকর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক সনজিৎ চন্দ্র দাস বলেন, “চোরাচালান ও অবৈধ পণ্য পরিবহন প্রতিরোধে পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালানের মাধ্যমে অবৈধ পণ্য প্রবেশ ঠেকাতে পুলিশের নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এ ঘটনায় পলাতক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার এবং চোরাচালান প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশ কাজ করছে। অপরাধ দমনে তিনি সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও কামনা করেন।”


এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পলাতক আনোয়ার মিয়ার গ্রেপ্তারের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন channeljaintanews24.com