Template: 1
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
logo
channeljaintanews24.com
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬ | ১২:৫১ পূর্বাহ্ন
channeljaintanews24@gmail.com

পূজার ছুটিতে সিলেটে পর্যটকের ঢল, হোটেল-রিসোর্টে কক্ষসংকট

✍ চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
🕒 বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬ | ১২:৫১ পূর্বাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

শারদীয় দুর্গাপূজার টানা পাঁচ দিনের ছুটিকে কেন্দ্র করে পর্যটকের ঢল নেমেছে সিলেটে। নগরীর চা বাগান থেকে শুরু করে জেলার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতিতে প্রাণচাঞ্চল্য বেড়েছে। পর্যটকদের চাপে জেলার পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টের কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে যাওয়ায় আবাসনসংকটে পড়েছেন শেষ মুহূর্তে আসা অনেক পর্যটক। এর পাশাপাশি প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাসের ভাড়া বাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।


বুধবার (২১ অক্টোবর) নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মালনীছড়া, লাক্কাতুরা ও তারাপুর চা বাগানসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকদের ভিড়। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে আসা দর্শনার্থীরা চা বাগানের সবুজ পরিবেশে ঘুরে বেড়ানো, ছবি তোলা ও সময় কাটাতে ব্যস্ত ছিলেন। চা বাগানের পাশাপাশি ভোলাগঞ্জের সাদাপাথর, জাফলং, বিছনাকান্দি, রাতারগুল ও লালাখালেও পর্যটকদের ব্যাপক সমাগম দেখা গেছে।


হোটেল না পেয়ে বিপাকে পর্যটকেরা


পর্যটকদের বাড়তি চাপের কারণে সিলেট নগরীর জিন্দাবাজার, তালতলা, আম্বরখানা, বন্দরবাজার ও হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার গেট এলাকার হোটেলগুলোতে নতুন করে কক্ষ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক পর্যটক একাধিক হোটেলে ঘুরেও থাকার ব্যবস্থা করতে পারেননি। কেউ স্বজনের বাসায় উঠেছেন, কেউ পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। আবার কেউ কেউ হোটেলে কক্ষ না পেয়ে মাজার প্রাঙ্গণে রাত কাটানোর ব্যবস্থা খুঁজছেন।


কুমিল্লা থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সিলেটে বেড়াতে আসা ঋতুপর্ণা ঘোষ জানান, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে প্রথমবার সিলেটে এসে চা বাগানের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছেন। তবে হোটেলভাড়া বেশি মনে হয়েছে। প্রাইভেট কারের চালকেরাও বেশি ভাড়া দাবি করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।


পর্যটক সিরাজুল ইসলাম জানান, ঈদ-পূজার ছুটিতে সুযোগ পেলে তিনি বেড়াতে বের হন। এবার সিলেটে এসে আগে যে জায়গায় যেতে দুই হাজার টাকা খরচ হতো, সেখানে চার হাজার টাকা দিতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।


চট্টগ্রাম থেকে আসা সবুজ তালুকদার বলেন, আম্বরখানা ও জিন্দাবাজার এলাকার কয়েকটি হোটেলে ঘুরেও কক্ষ পাননি। বাধ্য হয়ে মাজারে অবস্থান করছেন। পরে কোনো হোটেলে থাকার ব্যবস্থা হয় কি না, সেই অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি।


সিলেট হোটেল, মোটেল অ্যান্ড গেস্ট হাউস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুমাত নূরী জুয়েল জানান, তাঁদের হোটেলের কক্ষ ইতোমধ্যে বুকিং হয়ে গেছে। কোনো কক্ষ খালি নেই। অনেক পর্যটক কক্ষ না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।


নিরাপত্তায় পুলিশের বিশেষ টহল


পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নগরীর বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. আফজাল হোসেন জানান, নিয়মিত টহলের পাশাপাশি পূজার ছুটিতে পর্যটকদের নিরাপত্তায় পুলিশের বিশেষ মোবাইল পেট্রোল টিম কাজ করছে। পর্যটনকেন্দ্রের বাইরেও পুলিশের টহল অব্যাহত রয়েছে।


কোনো পর্যটক সমস্যায় পড়লে পুলিশকে জানানোর পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অথবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করা যেতে পারে।


শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিনের সরকারি ছুটির সঙ্গে ২৩ ও ২৪ অক্টোবরের সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টানা পাঁচ দিনের ছুটি পেয়েছেন। এ ছুটিকে কেন্দ্র করেই সিলেটে পর্যটকদের এমন ঢল নেমেছে। তবে আবাসনসংকট ও পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধির অভিযোগে শেষ মুহূর্তে আসা পর্যটকদের ভ্রমণে বাড়তি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।


সূত্র: "সিলেটভিউ২৪.কম")

ছবি
channeljaintanews24.com
logo
ভিজিট করুন
২২.১০.২০২৬
© চ্যানেল জৈন্তা নিউজ — সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
channeljaintanews24.com