কানাইঘাট প্রতিনিধি:
সিলেটের কানাইঘাটে সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মধ্যে প্রাথমিকভাবে ৩ নম্বর দিঘীরপাড়, ৪ নম্বর সাতবাঁক ও ৬ নম্বর সদর ইউনিয়নে এ পাইলট কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।
সোমবার (১৮ অক্টোবর) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উদ্যোগে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের মধ্যে ডিজিটাল ট্যাব বিতরণ এবং কার্যক্রমবিষয়ক অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমাইয়া ফেরদৌসের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. জিলানীর সঞ্চালনায় সভায় মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহে কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতি সহ্য করা হবে না বলে সতর্ক করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও সুমাইয়া ফেরদৌস বলেন, ফ্যামিলি কার্ড সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার প্রকল্প। প্রকৃত সুবিধাভোগীদের তালিকাভুক্ত করতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রতিটি পরিবারের সঠিক ও নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের সর্বোচ্চ সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব পালনে কারও অবহেলা বা অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে বিধি অনুযায়ী তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বৃহৎ কর্মযজ্ঞ সফল করতে জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মীসহ উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
ইউএনও জানান, প্রাথমিক পর্যায়ের কার্যক্রম শেষে দ্রুততম সময়ে উপজেলার বাকি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।
সভায় বক্তব্য দেন কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন, কানাইঘাট প্রেসক্লাবের সভাপতি নিজাম উদ্দিন ও কোষাধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম।
সভায় উপস্থিত স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে প্রশাসনকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তাঁরা বলেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবেন।
এ সময় বক্তব্য দেন পৌর বিএনপির সভাপতি নুরুল হোসেন বুলবুল, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাজ উদ্দিন সাজু, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সফিক আহমদ, যুগ্ম আহ্বায়ক বদরুল আলম মেম্বার এবং উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব রাসেল চৌধুরীসহ অন্যরা।
অবহিতকরণ সভা শেষে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের সুবিধার্থে দায়িত্বপ্রাপ্ত সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারীদের হাতে ডিজিটাল ট্যাবসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম তুলে দেওয়া হয়।