Template: 3
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
১৪ অক্টোবর ২০২৬ · ১২:১৮ অপরাহ্ন

আদালতের নির্দেশে লোভাছড়া কোয়ারিতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত, অবশিষ্ট পাথর নিয়ে চলছে যাচাই

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
ছবি

কানাইঘাট (সিলেট) প্রতিনিধি:


সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার লোভাছড়া পাথর কোয়ারিতে নিলাম দেওয়া পাথরের অবশিষ্ট মজুত যাচাইয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি সরেজমিনে তদন্ত শুরু করেছে। নিলামগ্রহীতা পিয়াস এন্টারপ্রাইজের দাবি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব পাথর পরিবহন করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও জনপ্রতিনিধিদের দাবি, কোয়ারিতে এখনো বিপুল পরিমাণ পাথর মজুত রয়েছে।


মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মো. রবিউল ফয়সালের নেতৃত্বে কমিটির সদস্যরা কোয়ারির খুকুবাড়ি, নেহালপুর ও সাউদগ্রামসহ উচ্চ আদালতের আদেশে উল্লেখিত নির্দিষ্ট দাগগুলো পরিদর্শন করেন।


এ সময় খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর সহকারী পরিচালক আজিজুল হক ও মাসুক উন নবী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া ফেরদৌস, কানাইঘাট সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সালমান নুর আলম, কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


তদন্ত কমিটির সদস্যরা কোয়ারির বিভিন্ন স্থানে থাকা পাথরের স্তূপ পরিদর্শন করেন। তবে সরেজমিনে পরিদর্শনের সময় পাথরগুলো মেপে পরিমাণ নির্ধারণ না করে অনুমাননির্ভরভাবে পরিদর্শন করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মেসার্স পিয়াস এন্টারপ্রাইজ খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো থেকে ৪৪ লাখ ২৩ হাজার ১১৩ ঘনফুট পাথর তিন মাস মেয়াদে নিলাম নেয়। নিলাম সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা প্রশাসন নির্ধারিত দাগে থাকা পাথর প্রতিষ্ঠানটিকে বুঝিয়ে দেয়।


পিয়াস এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী কামরুল হাসান তুহিনের দাবি, বিভিন্ন কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিলাম নেওয়া সব পাথর পরিবহন করা সম্ভব হয়নি। তাঁর দাবি অনুযায়ী, এখনো নির্ধারিত দাগগুলোতে তাঁর নিলাম নেওয়া প্রায় ২২ লাখ ঘনফুট পাথর অবশিষ্ট রয়েছে।


অবশিষ্ট পাথর পরিবহনের জন্য আরও সময় চেয়ে তিনি উচ্চ আদালতে ১২২০৫ নম্বর রিট পিটিশন দায়ের করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত অবশিষ্ট পাথর পরিবহনের জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে ২০ দিন সময় দেন। ওই সময়ের মধ্যে বিপুল পরিমাণ পাথর পরিবহন সম্ভব নয় উল্লেখ করে পুনরায় সময় চাওয়া হলে আদালত গত ৩ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন।


আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর পরিচালককে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর, সিলেট জেলা প্রশাসন ও সিলেট জেলা পুলিশের মনোনীত প্রতিনিধি এবং সিলেট জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী কমিটি দুই দিনব্যাপী তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।


এদিকে তদন্তকালে রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, পাথর ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও জনপ্রতিনিধিরা কমিটির সদস্যদের জানান, কোয়ারি এলাকায় এখনো সরকারের জব্দ করা আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ লাখ ঘনফুট পাথর রয়েছে। তাঁদের দাবি, সরকারি জব্দকৃত পাথর এবং পিয়াস এন্টারপ্রাইজের নিলাম নেওয়া পাথরের বিষয়ে দ্রুত সঠিক হিসাব নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।


স্থানীয়দের ভাষ্য, লোভাছড়া পাথর কোয়ারি এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবিকা ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে জড়িত। তাই পাথরের মালিকানা ও মজুত নিয়ে বিরোধের দ্রুত নিষ্পত্তি করে আইনসম্মতভাবে কোয়ারি চালুর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।


তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মো. রবিউল ফয়সাল বলেন, “আমরা উচ্চ আদালতের আদেশ অনুযায়ী নির্দিষ্ট দাগগুলোতে নিলামকৃত পাথর রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছি। এ বিষয়ে উপস্থিত অনেকের লিখিত বক্তব্যও নেওয়া হয়েছে।”


তদন্ত শেষে কমিটির প্রতিবেদন ও আদালতের পরবর্তী নির্দেশনার ভিত্তিতে অবশিষ্ট পাথরের প্রকৃত পরিমাণ, মালিকানা এবং পরিবহনের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।

কানাইঘাট (সিলেট) প্রতিনিধি:


সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার লোভাছড়া পাথর কোয়ারিতে নিলাম দেওয়া পাথরের অবশিষ্ট মজুত যাচাইয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি সরেজমিনে তদন্ত শুরু করেছে। নিলামগ্রহীতা পিয়াস এন্টারপ্রাইজের দাবি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব পাথর পরিবহন করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও জনপ্রতিনিধিদের দাবি, কোয়ারিতে এখনো বিপুল পরিমাণ পাথর মজুত রয়েছে।


মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মো. রবিউল ফয়সালের নেতৃত্বে কমিটির সদস্যরা কোয়ারির খুকুবাড়ি, নেহালপুর ও সাউদগ্রামসহ উচ্চ আদালতের আদেশে উল্লেখিত নির্দিষ্ট দাগগুলো পরিদর্শন করেন।


এ সময় খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর সহকারী পরিচালক আজিজুল হক ও মাসুক উন নবী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া ফেরদৌস, কানাইঘাট সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সালমান নুর আলম, কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


তদন্ত কমিটির সদস্যরা কোয়ারির বিভিন্ন স্থানে থাকা পাথরের স্তূপ পরিদর্শন করেন। তবে সরেজমিনে পরিদর্শনের সময় পাথরগুলো মেপে পরিমাণ নির্ধারণ না করে অনুমাননির্ভরভাবে পরিদর্শন করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মেসার্স পিয়াস এন্টারপ্রাইজ খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো থেকে ৪৪ লাখ ২৩ হাজার ১১৩ ঘনফুট পাথর তিন মাস মেয়াদে নিলাম নেয়। নিলাম সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা প্রশাসন নির্ধারিত দাগে থাকা পাথর প্রতিষ্ঠানটিকে বুঝিয়ে দেয়।


পিয়াস এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী কামরুল হাসান তুহিনের দাবি, বিভিন্ন কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিলাম নেওয়া সব পাথর পরিবহন করা সম্ভব হয়নি। তাঁর দাবি অনুযায়ী, এখনো নির্ধারিত দাগগুলোতে তাঁর নিলাম নেওয়া প্রায় ২২ লাখ ঘনফুট পাথর অবশিষ্ট রয়েছে।


অবশিষ্ট পাথর পরিবহনের জন্য আরও সময় চেয়ে তিনি উচ্চ আদালতে ১২২০৫ নম্বর রিট পিটিশন দায়ের করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত অবশিষ্ট পাথর পরিবহনের জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে ২০ দিন সময় দেন। ওই সময়ের মধ্যে বিপুল পরিমাণ পাথর পরিবহন সম্ভব নয় উল্লেখ করে পুনরায় সময় চাওয়া হলে আদালত গত ৩ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন।


আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর পরিচালককে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর, সিলেট জেলা প্রশাসন ও সিলেট জেলা পুলিশের মনোনীত প্রতিনিধি এবং সিলেট জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী কমিটি দুই দিনব্যাপী তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।


এদিকে তদন্তকালে রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, পাথর ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও জনপ্রতিনিধিরা কমিটির সদস্যদের জানান, কোয়ারি এলাকায় এখনো সরকারের জব্দ করা আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ লাখ ঘনফুট পাথর রয়েছে। তাঁদের দাবি, সরকারি জব্দকৃত পাথর এবং পিয়াস এন্টারপ্রাইজের নিলাম নেওয়া পাথরের বিষয়ে দ্রুত সঠিক হিসাব নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।


স্থানীয়দের ভাষ্য, লোভাছড়া পাথর কোয়ারি এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবিকা ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে জড়িত। তাই পাথরের মালিকানা ও মজুত নিয়ে বিরোধের দ্রুত নিষ্পত্তি করে আইনসম্মতভাবে কোয়ারি চালুর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।


তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মো. রবিউল ফয়সাল বলেন, “আমরা উচ্চ আদালতের আদেশ অনুযায়ী নির্দিষ্ট দাগগুলোতে নিলামকৃত পাথর রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছি। এ বিষয়ে উপস্থিত অনেকের লিখিত বক্তব্যও নেওয়া হয়েছে।”


তদন্ত শেষে কমিটির প্রতিবেদন ও আদালতের পরবর্তী নির্দেশনার ভিত্তিতে অবশিষ্ট পাথরের প্রকৃত পরিমাণ, মালিকানা এবং পরিবহনের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।

© চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
channeljaintanews24.com