Template: 2
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
লিংক channeljaintanews24.com ক্যাটাগরি সিলেট রিপোর্ট চ্যানেল জৈন্তা নিউজ

শাহপরান মাজারের আর্থিক হিসাব খতিয়ে দেখার দাবি, ডিসির কাছে ১১ দফা আবেদন

১৪ অক্টোবর ২০২৬ • ১২:২১ পূর্বাহ্ন

সিলেট :

সিলেটের হযরত শাহপরান (রহ.) মাজার দরগাহ ওয়াকফ এস্টেটের (ইসি নং-১৩৬৫১) আয়-ব্যয়, দানবাক্সের অর্থ ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকেরা। এ বিষয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ওয়াকফ উন্নয়ন কমিটির সভাপতি বরাবর ১১ দফা দাবি সংবলিত একটি আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।


আবেদনে মাজারের মোতাওয়াল্লী সৈয়দ মামুনুর রশিদসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় অসংগতির অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্ত, ফরেনসিক অডিট এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।


আবেদনপত্র ও দাপ্তরিক নথির বরাত দিয়ে আবেদনকারীরা জানান, মাজারের অনিয়ম প্রতিরোধ ও সম্পত্তি সুরক্ষায় ওয়াকফ প্রশাসন, ঢাকার পক্ষ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর ও ১৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে পৃথক স্মারকে প্রশাসনিক পদক্ষেপের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল বলে তাঁরা উল্লেখ করেছেন। এর ধারাবাহিকতায় গত ৩০ সেপ্টেম্বর সিলেট বিভাগীয় ইসলামিক ফাউন্ডেশনে অনুষ্ঠিত শুনানিতে বাদীপক্ষ ও প্রস্তাবিত পরিচালনা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত হয়ে অভিযোগের সমর্থনে ৩২৬ পৃষ্ঠার নথিপত্র জমা দিয়েছেন বলে আবেদনে দাবি করা হয়।


৫৪ লাখ টাকার হিসাব নিয়ে প্রশ্ন


আবেদনকারীদের অভিযোগ, দেশ-বিদেশ থেকে ভক্তদের দেওয়া অনুদান এবং মাজারের সম্পত্তি থেকে অর্জিত আয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ করা হচ্ছে না। তাঁদের দাবি, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে মাজারের আয়-ব্যয়ের হিসাবে মাত্র ৫৪ লাখ টাকা দেখানো হয়েছে, যা প্রকৃত আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।


এ জন্য মাজারের ব্যাংক হিসাবের বিবরণী, জমা ও উত্তোলনের তথ্য, ক্যাশ বুক, লেজার বুক, ব্যয়ের ভাউচার এবং দানবাক্সের অর্থের হিসাব পরীক্ষা করে একটি স্বাধীন ফরেনসিক অডিট পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।


১১ দফা দাবিতে তদন্ত কমিটি গঠনের আহ্বান


আবেদনকারীরা সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে প্রধান করে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, স্থানীয় সহকারী কমিশনার (ভূমি), ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ওয়াকফ পরিদর্শক এবং হিসাব নিরীক্ষা দপ্তরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন।


তদন্ত চলাকালে মাজারের ব্যাংক হিসাব, রসিদ বই, দানবাক্সের হিসাব, জমির দলিলসহ গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র আইনানুগ প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ ও সুরক্ষিত রাখার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি দানবাক্স খোলা ও অর্থ গণনার সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি এবং পুরো প্রক্রিয়া ভিডিও ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।


মাজারের সব জমি ও ইজারাসংক্রান্ত নথি মূল দলিলের সঙ্গে মিলিয়ে সরেজমিনে যাচাই করারও দাবি জানিয়েছেন আবেদনকারীরা। তাঁদের মতে, মাজারের আয়-ব্যয় ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে এসব পদক্ষেপ জরুরি।


অ্যাডহক কমিটি অনুমোদনের দাবি


মাজারের পরিচালনা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে জেলা প্রশাসককে সভাপতি এবং সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনারকে সহসভাপতি করে আগে প্রস্তাব করা ২৫ সদস্যের অ্যাডহক পরিচালনা কমিটি দ্রুত অনুমোদনের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।


আবেদনকারীরা বলেন, তাঁদের উদ্যোগ কোনো ব্যক্তির প্রতি ব্যক্তিগত বিরোধ বা আক্রোশ থেকে নয়; বরং মাজারের সম্পত্তি সুরক্ষা, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।


তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোতাওয়াল্লী সৈয়দ মামুনুর রশিদের বক্তব্য এবং জেলা প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন channeljaintanews24.com