কানাইঘাটে ভুয়া হেলথ কার্ড বিক্রির অভিযোগ, আটক ৩; ল্যাপটপ-প্রিন্টার জব্দ
কানাইঘাট (সিলেট) প্রতিনিধি: সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার চতুল বাজারে বিভিন্ন হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নাম ব্যবহার করে হেলথ কার্ড বিক্রি ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে ‘নিরাময় এক্সপ্রেস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। এ সময় একটি ল্যাপটপ, একটি প্রিন্টার ও তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ‘নিরাময় এক্সপ্রেস’ কানাইঘাটের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সঙ্গে চুক্তি রয়েছে দাবি করে হেলথ কার্ড বিক্রির প্রচার চালিয়ে আসছিল। প্রচারে কানাইঘাট হলি হেলথ হাসপাতাল, মা মনি হাসপাতাল, এপল ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও গ্রীন লাইফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করা হয়।
প্রচারিত কার্ডে সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ের কথা উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া ১৫০ ও ২৫০ টাকার বিনিময়ে হেলথ কার্ড কিনলে বিভিন্ন ধরনের বিশেষ সুবিধা পাওয়ার কথাও প্রচার করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিষয়টি এক স্থানীয় নাগরিকের মাধ্যমে কানাইঘাট হলি হেলথ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানতে পারে, তাদের নাম ব্যবহার করে হেলথ কার্ড বিক্রি করা হচ্ছে। এরপর কানাইঘাট হলি হেলথ হাসপাতালের পরিচালক জুবের আহমদ ও কানাইঘাট গ্রীন লাইফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক আলফি শাহা ঘটনাস্থলে গিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ‘নিরাময় এক্সপ্রেস’-এর কোনো চুক্তি রয়েছে কি না, তা জানতে চান।
এ সময় উপস্থাপিত চুক্তিপত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামের বিপরীতে থাকা স্বাক্ষর নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগকারীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুমতি ছাড়াই তাদের নাম ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে চুক্তিপত্র তৈরি করা হয়ে থাকতে পারে। তবে চুক্তিপত্রের বৈধতা ও স্বাক্ষরের সত্যতা আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়রা প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনজনকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে কানাইঘাট থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং প্রতিষ্ঠানের বৈধতা-সংক্রান্ত কাগজপত্র দেখতে চায়।
পুলিশের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিদের বক্তব্য ও উপস্থাপিত কাগজপত্রে অসংগতি পাওয়ায় তাঁদের থানায় নেওয়া হয়। এ সময় প্রতিষ্ঠানটি থেকে একটি ল্যাপটপ, একটি প্রিন্টার ও তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নাম ব্যবহার করে হেলথ কার্ড বিক্রি, চিকিৎসাসেবায় ছাড়ের বিজ্ঞাপন প্রচার এবং চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুমতি ছাড়া তাদের নাম ব্যবহার করা হয়ে থাকলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের পরিচয়, তাঁদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা এবং পুলিশের পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানা যাবে। অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।