বৃত্তিপ্রাপ্ত ২২ কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিলেন চেয়ারম্যান মাসুক মিয়া
নিজস্ব প্রতিবেদক :: সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫-এ ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্ত ২২ কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুলে ৯ জন এবং সাধারণ বৃত্তিতে ১৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) বেলা ১১টায় সাচনাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সাচনাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুক মিয়ার উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তিনি। তাঁর স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়।
ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা গুনেন্দ্র কুমার তালুকদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ফারজেল হোসেন, ইউপি সদস্য ছমির উদ্দীন, নুরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল লেইছ এবং হাজী কালাগাজী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফেরদৌসী আক্তার শিপা।
অভিভাবকদের মধ্যে বক্তব্য দেন গিরীদারী পাল ও চিত্তরঞ্জন দাস। সংবর্ধিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য দেন পৌলমী রায়, রুকাইয়া আফরিন মাহি, ইকরা জাহান ইফা ও গৌরব পাল।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ফারজেল হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কৃতী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা দিয়ে চেয়ারম্যান মাসুক মিয়া যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তা তাদের আরও উৎসাহিত করবে। ছোটবেলায় পাওয়া এমন স্বীকৃতি ভবিষ্যতে ভালো ফলাফল অর্জনে শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা জোগাবে।
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ বৃত্তি অর্জনের এ সাফল্য ধরে রাখতে হবে। ভবিষ্যতে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে মেধাবী ও দক্ষ মানুষের প্রয়োজন হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ইউপি চেয়ারম্যান মাসুক মিয়া বলেন, ‘আমি চেয়ারম্যান থাকব কি না, তা জানি না। তবে সব সময় শিক্ষার্থীদের ভালোবাসার মধ্যে থাকতে চাই। চেয়ারম্যান না থাকলেও শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার চেষ্টা করব।’
তিনি বলেন, আজ যাদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে, তারা ভবিষ্যতে আরও ভালো কিছু করবে—এটাই তাঁর প্রত্যাশা। অভিভাবকদের শুধু পাঠ্যবইয়ের শিক্ষার ওপর নির্ভর না করে সন্তানদের নৈতিক ও পারিবারিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার আহ্বান জানান তিনি।
মাসুক মিয়া আরও বলেন, সন্তানদের এমনভাবে মানুষ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে তারা বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্বশীল হয়। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।
শিক্ষার পাশাপাশি বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং ও মাদকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সমাজের সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান চেয়ারম্যান। শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করতেই এ আয়োজন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সেরা বিদ্যালয় নির্বাচিত হওয়ায় হাজী কালাগাজী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সম্মাননা ক্রেস্ট দেওয়া হয়। এ ছাড়া অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিল্পী রাণী মোদক এবং বিশেষ অতিথি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পীযুষ কান্তি মজুমদারের জন্যও সম্মাননা ক্রেস্টের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে দাপ্তরিক কাজে বাইরে থাকায় তাঁরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তাঁদের পক্ষে প্রতিনিধিরা ক্রেস্ট গ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।