Template: 2
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
লিংক channeljaintanews24.com ক্যাটাগরি জাতীয় রিপোর্ট চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
বাংলাদেশ পুলিশের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়

বাংলাদেশ পুলিশের নতুন সাইবার পুলিশ ইউনিট উদ্বোধন

০২ অক্টোবর ২০২৬ • ০১:৩২ পূর্বাহ্ন

ঢাকা, ১ অক্টোবর ২০২৬:

সাইবার অপরাধ দমন, ডিজিটাল নিরাপত্তা জোরদার এবং প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে বিশেষায়িত ও স্বতন্ত্র ‘সাইবার পুলিশ ইউনিট’। নতুন এ ইউনিটে অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী মোট জনবল থাকবে ৪ হাজার ৫৯২ জন।


বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর পুলিশ সদর দপ্তরের ‘হল অব ইন্টেগ্রিটি’তে ইউনিটটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পরে পুলিশ সদর দপ্তরের ‘হল অব প্রাইড’-এ আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে নতুন ইউনিটের কাঠামো, জনবল ও কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন তিনি।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। এ বাস্তবতায় প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষতাভিত্তিক পুলিশিং সক্ষমতা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই স্বতন্ত্র সাইবার পুলিশ ইউনিটের যাত্রা শুরু করা হয়েছে।


নেতৃত্বে অতিরিক্ত আইজিপি


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, নতুন সাইবার পুলিশ ইউনিট একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে পরিচালিত হবে। প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত আইজিপি মো. ইকবাল হোসেনকে ইউনিটটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় পর্যায়ে ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজি এবং জেলা পর্যায়ে পুলিশ সুপার বা দায়িত্বপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা সাইবার কার্যক্রমের দায়িত্ব পালন করবেন।


এ ছাড়া থানা পর্যায়ে ওসির নেতৃত্বে সাইবারকেন্দ্রিক সেবা ও তদন্ত পরিচালনার জন্য পৃথক এসআই, এএসআই ও কনস্টেবল পদায়নের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।


অনুমোদিত অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী ইউনিটটির মোট জনবল নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৫৯২ জন। শুরুতে বিদ্যমান পুলিশ বাহিনী থেকে অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত সদস্যদের পদায়ন করা হবে। পরবর্তী সময়ে নতুন নিয়োগের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ জনবল কাঠামো গড়ে তোলার কথা জানানো হয়েছে।


থাকছে সাইবার বিশেষজ্ঞ


সাইবার পুলিশ ইউনিটে প্রচলিত পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি প্রযুক্তিখাতে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিশেষজ্ঞ নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সিস্টেম অ্যানালিস্ট, ফিন্যান্সিয়াল ডেটা অ্যানালিস্ট, সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্ট, নেটওয়ার্ক অ্যাডমিনিস্ট্রেটর, ডার্ক ওয়েব অ্যানালিস্ট, ক্রিপ্টো অ্যানালিস্ট, ম্যালওয়্যার অ্যানালিস্ট, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যানালিস্ট, ইমার্জেন্সি রেসপন্স কনসালটেন্ট ও ডিজাস্টার রিকভারি এক্সপার্টের মতো বিশেষায়িত পদ রয়েছে।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক মানের কারিগরি দক্ষতা নিশ্চিত করতে আউটসোর্সিং ও চুক্তিভিত্তিক বিশেষজ্ঞ নিয়োগের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশের আইটি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্যদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ইউনিটে দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।


ইউনিটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দেশে ও বিদেশে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। কাজের অবদানের ভিত্তিতে কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের জন্য বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থাও থাকবে।


স্থাপন করা হবে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব


সাইবার অপরাধ তদন্তে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে ইউনিটের অধীনে আধুনিক ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবরেটরি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, মানি লন্ডারিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক অপরাধ, গুজব, আর্থিক অপরাধ, মাদক ও উগ্রবাদের মতো অপরাধ তদন্তে ডিজিটাল ও ফরেনসিক প্রযুক্তির ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


নতুন এ ইউনিটের মাধ্যমে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে আগে বিচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত সাইবার তদন্ত ও কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে সাইবার অপরাধ শনাক্তকরণ, ডিজিটাল আলামত বিশ্লেষণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তে সমন্বিত সক্ষমতা গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, বিশেষায়িত এ ইউনিটের কার্যক্রমের মাধ্যমে সাইবার স্পেসের অপব্যবহার ও বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ ও দমনে পুলিশের সক্ষমতা আরও বাড়বে।


প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন channeljaintanews24.com