সিলেট:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেছেন, বিএনপি সরকার দলীয়করণের ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। তাঁর অভিযোগ, সরকার গঠনের মাত্র সাত মাসের মধ্যেই দলীয়করণের সব সীমা অতিক্রম করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—কোনো কিছুই দলীয়করণের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। এর ফলে রাষ্ট্র কাঠামোর বিভিন্ন স্তরে বিপর্যয় নেমে এসেছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে সিলেট সদর উপজেলার মোগলগাঁও ইউনিয়নের ফতেহপুর মাদ্রাসা বাজারে কেন্দ্রঘোষিত মাসব্যাপী গণসংযোগ কর্মসূচির অংশ হিসেবে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত দাওয়াতী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশটি স্থানীয় জামায়াতের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় একাধিক সংবাদমাধ্যমেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, সরকার ক্ষমতায় গিয়ে সিলেট সিটি করপোরেশন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সিলেট ওয়াসা, জেলা পরিষদ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ, শিক্ষাবোর্ড এবং সর্বশেষ সিলেট চেম্বারেও প্রশাসক বা দায়িত্বশীল পদে দলীয় লোক বসিয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তাঁর ভাষ্য, দলীয় লোকদের পকেট ভারী করা ও লুটপাটের সুযোগ তৈরি করতেই সরকার দলীয়করণের উৎসবে মেতে উঠেছে।
তাঁর বক্তব্যের কয়েকটি নিয়োগের তথ্যের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংবাদ ও সরকারি ওয়েবসাইটের তথ্যের মিল পাওয়া যায়। সিলেট সিটি করপোরেশনের বর্তমান প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন—এ তথ্য বিডিনিউজ২৪-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে এবং সিসিকের সরকারি ওয়েবসাইটেও তাঁকে প্রশাসক হিসেবে দেখানো হয়েছে। সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকীর নিয়োগের খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
এ ছাড়া সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে রেজাউল হাসান কয়েস লোদীর নিয়োগের তথ্য কর্তৃপক্ষের সরকারি ওয়েবসাইটে রয়েছে। আর ২৭ সেপ্টেম্বর সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রশাসক হিসেবে এজাজ আহমদ চৌধুরীকে নিয়োগ দেওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে এসব নিয়োগকে ‘দলীয়করণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের রাজনৈতিক বক্তব্য ও অভিযোগ।
তিনি বলেন, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে জামায়াতে ইসলামী কাজ করে যাচ্ছে। নীতি ও আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের লক্ষ্যে দলে দলে মানুষ জামায়াতে যোগ দিচ্ছেন বলেও দাবি করেন তিনি। এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে মন্তব্য করেন জামায়াতের এই নেতা।
মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম আরও বলেন, জামায়াত শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তনের কথা বলে না; মানুষের চিন্তা, চরিত্র ও সমাজ পরিবর্তনের জন্যও কাজ করে। আল্লাহর বিধান ও ন্যায়-ইনসাফের ভিত্তিতে সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও বৈষম্যমুক্ত মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠাই জামায়াতের লক্ষ্য। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রত্যেক মানুষের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের প্রতিটি স্তরে নৈতিকতা, আমানতদারি ও জবাবদিহির চর্চা বাড়াতে হবে।
স্থানীয় প্রবীণ জামায়াত নেতা মৌলভী রুহুল আমীনের সভাপতিত্বে এবং ওয়ার্ড সভাপতি দিলাওয়ার হোসেনের পরিচালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সিলেট সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর নাজির উদ্দিন ও মোগলগাঁও ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত আমীর নুরুল আমীন।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন খালপাড় ইউনিট সভাপতি দুলাল আহমদ, সাবেক মেম্বার শফিকুর রহমান, মাওলানা জাকারিয়া, শ্রমিক নেতা হাফিজুর রহমান, সেলিম উদ্দিন, হুশিয়ার আলী ও নোমান আহমদ প্রমুখ।
সূত্র: স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সমাবেশের প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের প্রকাশিত তথ্য।
সিলেট:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেছেন, বিএনপি সরকার দলীয়করণের ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। তাঁর অভিযোগ, সরকার গঠনের মাত্র সাত মাসের মধ্যেই দলীয়করণের সব সীমা অতিক্রম করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—কোনো কিছুই দলীয়করণের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। এর ফলে রাষ্ট্র কাঠামোর বিভিন্ন স্তরে বিপর্যয় নেমে এসেছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে সিলেট সদর উপজেলার মোগলগাঁও ইউনিয়নের ফতেহপুর মাদ্রাসা বাজারে কেন্দ্রঘোষিত মাসব্যাপী গণসংযোগ কর্মসূচির অংশ হিসেবে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত দাওয়াতী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশটি স্থানীয় জামায়াতের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় একাধিক সংবাদমাধ্যমেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, সরকার ক্ষমতায় গিয়ে সিলেট সিটি করপোরেশন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সিলেট ওয়াসা, জেলা পরিষদ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ, শিক্ষাবোর্ড এবং সর্বশেষ সিলেট চেম্বারেও প্রশাসক বা দায়িত্বশীল পদে দলীয় লোক বসিয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তাঁর ভাষ্য, দলীয় লোকদের পকেট ভারী করা ও লুটপাটের সুযোগ তৈরি করতেই সরকার দলীয়করণের উৎসবে মেতে উঠেছে।
তাঁর বক্তব্যের কয়েকটি নিয়োগের তথ্যের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংবাদ ও সরকারি ওয়েবসাইটের তথ্যের মিল পাওয়া যায়। সিলেট সিটি করপোরেশনের বর্তমান প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন—এ তথ্য বিডিনিউজ২৪-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে এবং সিসিকের সরকারি ওয়েবসাইটেও তাঁকে প্রশাসক হিসেবে দেখানো হয়েছে। সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকীর নিয়োগের খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
এ ছাড়া সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে রেজাউল হাসান কয়েস লোদীর নিয়োগের তথ্য কর্তৃপক্ষের সরকারি ওয়েবসাইটে রয়েছে। আর ২৭ সেপ্টেম্বর সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রশাসক হিসেবে এজাজ আহমদ চৌধুরীকে নিয়োগ দেওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে এসব নিয়োগকে ‘দলীয়করণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের রাজনৈতিক বক্তব্য ও অভিযোগ।
তিনি বলেন, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে জামায়াতে ইসলামী কাজ করে যাচ্ছে। নীতি ও আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের লক্ষ্যে দলে দলে মানুষ জামায়াতে যোগ দিচ্ছেন বলেও দাবি করেন তিনি। এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে মন্তব্য করেন জামায়াতের এই নেতা।
মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম আরও বলেন, জামায়াত শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তনের কথা বলে না; মানুষের চিন্তা, চরিত্র ও সমাজ পরিবর্তনের জন্যও কাজ করে। আল্লাহর বিধান ও ন্যায়-ইনসাফের ভিত্তিতে সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও বৈষম্যমুক্ত মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠাই জামায়াতের লক্ষ্য। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রত্যেক মানুষের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের প্রতিটি স্তরে নৈতিকতা, আমানতদারি ও জবাবদিহির চর্চা বাড়াতে হবে।
স্থানীয় প্রবীণ জামায়াত নেতা মৌলভী রুহুল আমীনের সভাপতিত্বে এবং ওয়ার্ড সভাপতি দিলাওয়ার হোসেনের পরিচালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সিলেট সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর নাজির উদ্দিন ও মোগলগাঁও ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত আমীর নুরুল আমীন।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন খালপাড় ইউনিট সভাপতি দুলাল আহমদ, সাবেক মেম্বার শফিকুর রহমান, মাওলানা জাকারিয়া, শ্রমিক নেতা হাফিজুর রহমান, সেলিম উদ্দিন, হুশিয়ার আলী ও নোমান আহমদ প্রমুখ।
সূত্র: স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সমাবেশের প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের প্রকাশিত তথ্য।