শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে এক কিশোরীকে অপহরণ করে আটকে রেখে গণধর্ষণের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) শ্রীমঙ্গল থানা-পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে। গ্রেপ্তার তিনজনের মধ্যে মো. জুয়েল মিয়া ওরফে সোহেল আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—শ্রীমঙ্গলের ইছবপুর এলাকার দুলাল মিয়া (৩১), হবিগঞ্জ সদর উপজেলার চানপুর এলাকার মো. জুয়েল মিয়া ওরফে সোহেল (২৬) এবং একই উপজেলার রিচি এলাকার আল আমিন ইসলাম (২০)। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাদের শ্রীমঙ্গরের বিভিন্ন এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাসের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে ওই কিশোরী শ্রীমঙ্গল পৌরসভার উকিল বাড়ি রোড এলাকায় কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় থাকা কয়েকজনের কবলে পড়েন। এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, তাঁকে জোরপূর্বক অটোরিকশায় তুলে ইছবপুর এলাকায় দুলাল মিয়ার ভাড়া বাসায় নিয়ে আটকে রাখা হয়।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, সেখানে ২৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত কিশোরীকে আটকে রেখে আসামিরা পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। পরে ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে তাঁকে শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশনে রেখে চলে যান বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা খবর পেয়ে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীর বাবা শ্রীমঙ্গল থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় বুধবার পুলিশ তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে। প্রকাশিত পুলিশ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথমে জুয়েল মিয়া ওরফে সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দুলাল মিয়া ও আল আমিন ইসলামকে ইছবপুরের একটি ভাড়া বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার জুয়েল মিয়া ওরফে সোহেল আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।