Template: 2
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
লিংক channeljaintanews24.com ক্যাটাগরি অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট চ্যানেল জৈন্তা নিউজ

ফ্রান্সে শিক্ষার্থী বিক্ষোভে সহিংসতা, মার্সেইয়ে পেট্রলের ছিটায় প্রধান শিক্ষক আহত

০১ অক্টোবর ২০২৬ • ১১:৪৪ অপরাহ্ন

মো. জুনেদ আহমদ, ফ্রান্স:

শিক্ষক ও কর্মীস্বল্পতা, অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, জরাজীর্ণ স্কুল ভবনসহ শিক্ষা খাতে বিভিন্ন সংকটের প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) মার্সেইয়ে দুটি উচ্চবিদ্যালয়কে ঘিরে অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ভিক্টর হুগো উচ্চবিদ্যালয়ে আগুন ধরানোর চেষ্টার সময় প্রধান শিক্ষকসহ কয়েকজন স্কুলকর্মী পেট্রলের ছিটায় আক্রান্ত হন। একই শহরে আগুন নেভাতে যাওয়া দমকল বাহিনীর একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।


মার্সেইয়ের ভিক্টর হুগো উচ্চবিদ্যালয়ে আগুন ধরানোর চেষ্টা ঘিরে স্কুলের প্রধান শিক্ষক, উপপ্রধান শিক্ষক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও একজন কর্মী আক্রান্ত হন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক বক্তব্যে তাদের ওপর পেট্রল ছোড়ার কথা বলা হলেও পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবিষয়ক কর্তৃপক্ষ জানায়, আগুন ধরানোর জন্য পাত্রে পেট্রল ঢালার সময় তারা ছিটকে পড়া পেট্রলে আক্রান্ত হন।


একই সময়ে মার্সেইয়ের সেন্ট-এক্সুপেরি উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে আগুন নেভাতে যাওয়া দমকলকর্মীদের একটি গাড়ি বিক্ষোভকারীদের হামলার মুখে পড়ে। দমকলকর্মীরা গাড়ি থেকে সরে যাওয়ার পর সেটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনায় একজন দমকলকর্মী আহত হওয়ার কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।


ফ্রান্সের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর নঁতেও একটি উচ্চবিদ্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। নিরাপত্তার কারণে সেখানকার শিক্ষার্থী ও কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়। দেশটির বিভিন্ন শহরে বিদ্যালয়ের প্রবেশপথ অবরোধ, মিছিল ও অবস্থানের পাশাপাশি পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে।


শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের সূচনা গত ২১ সেপ্টেম্বর প্যারিসের উপকণ্ঠের ক্রেতেই শহরের সেন্ট-এক্সুপেরি উচ্চবিদ্যালয় থেকে। সেখানে শিক্ষক পদ শূন্য থাকা ও জনবল সংকট নিয়ে ক্ষোভ থেকে আন্দোলন শুরু হয়। পরে তা ইল-দ্য-ফ্রঁস অঞ্চল ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ২৯ সেপ্টেম্বর সরকারি কর্মীদের দেশব্যাপী ধর্মঘটের দিন আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সেদিন প্রায় ৪১০টি উচ্চবিদ্যালয় বিক্ষোভ বা বিভিন্ন ধরনের প্রতিবাদের প্রভাবে পড়ে।


শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অনেক বিদ্যালয়ে প্রয়োজনের তুলনায় শিক্ষক ও অন্যান্য কর্মীর সংখ্যা কম। কোনো শিক্ষক অনুপস্থিত হলে দ্রুত বিকল্প শিক্ষক পাওয়া যায় না। পাশাপাশি অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, দীর্ঘ ক্লাসসূচি, জরাজীর্ণ ভবন, রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি এবং শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ নিয়েও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো আরও শিক্ষক-কর্মী নিয়োগ এবং বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানিয়ে আসছে।


বিক্ষোভের মধ্যে দেশজুড়ে ব্যাপক সংখ্যক শিক্ষার্থী ও কর্মী আহত এবং শত শত মানুষ আটক হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ৩০ সেপ্টেম্বর ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ ন্যুনেজ জানান, সেদিন উচ্চবিদ্যালয়কেন্দ্রিক আন্দোলনের ঘটনায় ৬২৫ জনকে আটক করা হয়েছিল। তিনি আন্দোলনের কিছু এলাকায় সহিংসতা বৃদ্ধির অভিযোগ করেন।


সরকার শিক্ষার্থীদের শিক্ষা-সংক্রান্ত দাবিগুলো নিয়ে আলোচনার কথা বললেও বিদ্যালয়ে অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ ন্যুনেজ অভিযোগ করেছেন, কিছু উসকানিদাতা বিভিন্ন বিদ্যালয়ে গিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন এবং পরিস্থিতির কারণে প্রয়োজন হলে কিছু বিদ্যালয়ে দূরশিক্ষণের ব্যবস্থা করার কথা জানিয়েছেন।


পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেছেন। দেশজুড়ে বিক্ষোভ অব্যাহত থাকায় একদিকে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা, অন্যদিকে শিক্ষকস্বল্পতা ও বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সংকট মোকাবিলা—দুই ক্ষেত্রেই সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে।

বিজ্ঞাপন channeljaintanews24.com